সৌদি থেকে কর্মী ফেরত ঠেকাতে উদ্যোগ নিন

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৮

হঠাৎ করেই সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা ফিরে আসছেন তারা নিজেরাও জানেন না, কেন তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অতীতে যতবার এ ধরনের উদ্যোগ সৌদি সরকার নিয়েছে ততবার যারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন তাদের ছাড় দেয়া হয়েছে। কিন্তু এবার সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। দীর্ঘদিন সৌদিতে ব্যবসা করছেন বা চাকরি করছেন এমন অনেককেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কোনো কথা বা আর্জি তারা শুনছেন না। যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের এক কথায় শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। অথচ কয়েক লাখ টাকা খরচ করে তারা সৌদিতে গেছেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙ্গে যাচ্ছে সৌদি সরকারের এই আকস্মিক আঘাতে। এতে করে বিপাকে পড়ছেন শ্রকিরা, তার পরিবার, সর্বোপরি রাষ্ট্রও।

কারণ বেকারত্বের চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত রেমিট্যান্স প্রবাহও এতে বাধাগ্রস্ত হবে। ২৯ অক্টোবর দৈনিক মানবকণ্ঠে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা থেকে থেকে পরদিন রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৩৭৩ কর্মী। এর আগে শুক্রবার রাতে ২০০ কর্মী দেশে ফেরত আসেন। এ নিয়ে চলতি মাসে সৌদি আরব থেকে প্রায় দেড় হাজার এবং চলতি বছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে সৌদিফেরত শ্রমিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই শ্রমিকরা ইচ্ছে করলেই নতুন কোনো কাজে বা ব্যবসায় জড়িত হতে পারবেন না। শূন্য হাতে ফিরে আসায় তাৎক্ষণিক কোনো উদ্যোগ নেয়াও কঠিন। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে তাদের গভীর সঙ্কটে পড়তে হবে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিক বিতাড়নের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। সৌদিস্থ দূতাবাস কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানা নেই। তারা বরং বিপদগ্রস্ত শ্রশিকদেরই দোষারোপ করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। একটি দেশে দূতাবাস রাখার প্রথম এবং প্রধান কারণই হলো, দেশের নাগরিকরা যেন তাদের থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পায়। তারা সমস্যা সমাধানে সক্ষম না হলে সরকারকে তা সময়মতো অবহিত করবে এবং সরকার ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যায় যে, দূতাবাসগুলো সেভাবে এগিয়ে আসে না। এর নিরসন হওয়া জরুরি।

দায়িত্বশীলদের অনেকে বলছেন, পাঁচ ছয় লাখ টাকা খরচ করে সৌদি গিয়ে অনেকে নির্ধারিত কোম্পানির বাইরেও অন্যত্র কাজ করে। উদ্দেশ্য খরচের টাকাটা দ্রুত যাতে তুলে নিতে পারে। কিন্তু এক কোম্পানির আকামা ব্যবহার করে অন্য কোম্পানিতে কাজ করা যায় না। এটা আইনসিদ্ধ নয়। সে ক্ষেত্রে সৌদি পাঠাতে একজন শ্রমিকের কাছ থেকে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা যারা নেয় তারা দায় এড়াতে পারে না। কারণ সরকার নির্ধারিত ফি এত টাকা নয়। তবু তারা বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে একজন বিদেশ গমনেচ্ছু বাংলাদেশের নাগরিকের কাছ থেকে বিভিন্ন এজেন্সি বাড়তি টাকা নিয়ে থাকে। এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। পরিস্থিতি যা দেখা যাচ্ছে তাতে সরকারকে দ্রুত এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে কথা বলে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ এখনই না নিলে তা সমূহ বিপদের কারণ হতে পারে। আমরা কেউ তা চাই না। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে এটি প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...