নারীর নিরাপত্তাসূচক নিয়ে প্রশ্ন

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩০

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নারীর ক্ষমতায়ন বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এ সরকারের শাসনামলে কর্মক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি এগিয়েছে নারীরা। এর একমাত্র কারণ সমাজে পিছিয়ে থাকা নারীদেরকে এগিয়ে নেয়া। নারী ও পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য বিরাজমান, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতেই এই প্রচেষ্টা। যেই দেশে নারীদের অগ্রগামী করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা, সেই দেশ নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা সূচকে কেন পিছিয়ে- তা ভাবার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা সূচকে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪২ নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং নরওয়ের দ্যা পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো যৌথভাবে এ তালিকা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি ওয়াশিংটন থেকে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাসূচক-২০১৯-২০ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে নারীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ, ন্যায্যতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে টেকসই শান্তি অনুসরণ করার বিষয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর ধারাবাহিক তালিকা তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই সুশিক্ষা ও গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য। দুটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেশের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্রতিবেদনে আমাদের দেশের নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে যে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে, তা উদ্বেগজনকই বটে।

ওই প্রতিবেদনে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো বেশিরভাগই আফ্রিকা মহাদেশের। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে ইয়েমেন ১৬৭ নম্বরে, আফগানিস্তান ১৬৬ নম্বরে ও সিরিয়া ১৬৫ নম্বরে। এই দেশগুলো কোনো না কোনোভাবে নানা যুদ্ধ-বিগ্রহের মধ্য দিয়ে সময় অতিক্রম করছে। যার ফলে নারীদের অবস্থান ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কারণে এসব দেশের নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের দেশ এসব দেশের পরিবেশের ধারে কাছে নেই। তার পরও কেন নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা সূচকে আমরা পিছিয়ে?

প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ অনেক দিক থেকে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। তৈরি করা এই প্রতিবেদনে ওই দেশগুলো কিন্তু এগিয়ে। বিশেষ করে নেপাল রয়েছে ৮৪ নম্বরে। আর শ্রীলঙ্কা ১০৭, মালদ্বীপ ১১১ ও ভুটান ১১৮ নম্বরে রয়েছে। এসব দেশের চেয়ে আমাদের দেশে পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে। সকল উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশীদারি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সেই সব দিক বিবেচনা করলে আমাদের দেশ নারীদের শান্তি ও নিরাপত্তাসূচকে এগিয়ে থাকার কথা।

আন্তর্জাতিক বলয়ের এই সূচক অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। এই প্রতিবেদন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের নারীবিষয়ক কর্মকাণ্ডগুলো সুদৃঢ়ভাবে পর্যালোচনার দাবি রাখে। যেহেতু সরকার বিশ্বায়নের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন সমান তালে করে যাচ্ছে, সেহেতু নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে নজর রাখা জটিল কোনো কাজ নয়।

আমরা মনে করি, উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়াতে হলে আন্তর্জাতিক সব সূচকে যেন আমরা সুসংহত অবস্থান তৈরি করতে পারি, সেই সব দিক লক্ষ্য রেখে এগিয়ে যেতে হবে। নারী বিষয়ক এই সূচকে আমাদের যে অবস্থান ভবিষ্যতে তার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই জন্য অসঙ্গতিগুলো খুঁজে বের করে আরো তৎপর হওয়া জরুরি। আশা করি, নারীবান্ধব এ সরকার বিষয়টি আমলে নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে আগামীর দিনগুলোতে- এই প্রত্যাশা আমাদের।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...