সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে হবে


poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৬

সংবাদপত্রগুলোয় আজকাল প্রায়ই একটা সাধারণ শিরোনাম থাকে- ‘সড়কে ঝরল এত প্রাণ’। নিত্যদিনের সাধারণ এই শিরোনাম দেখে পাঠকের মনে হতে পারে দুর্ঘটনা যেন অনিবার্য নিয়তি। দিন বা রাতে দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা যেন ঘটবেই। ঠিক যেন তাই, প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিগত চার বছরে ২১ হাজার ৩৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯ হাজার ৩১৫ জন নিহত ও ৬৯ হাজার ৪২৮ জন আহত হয়েছে। এটা নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদন। প্রকৃত বাস্তবতা এর চেয়েও ভয়াবহ। সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়, তার সবটাই গণমাধ্যমে আসে না। ফলে প্রকৃত পরিসংখ্যান অজানাই থেকে যায়। যাত্রী কল্যাণ সমিতির বছরভিত্তিক এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ হাজার ৬৪২ জন, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৩১২টি দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ৫৫ জন, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৭৯টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন, ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৫১৪টি দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জন নিহত হয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতি বছর সড়কে এত প্রাণ ঝরছে কেন? এই মৃত্যুর মিছিল বছর বছর বাড়ছে বৈ কমছে না। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণকে দায়ী করা হয়। বিশেষ করে সচেতনতার অভাব, চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও অদক্ষতা এবং সড়কের দুরবস্থা এর জন্য। প্রধানত এই তিন কারণে সিংহভাগ সড়ক দুর্ঘটনা দেশে ঘটেই চলেছে। আমাদের দেশের চালকরা যদি সবাই দক্ষতার পরীক্ষায় উন্নীত হয়ে সনদ নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতেন এবং সে সঙ্গে শৃঙ্খলাবিধি মেনে সড়কে চলতেন, তাহলে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে যেত। দেশে বিভিন্ন সড়কে অবৈধ চালকের সংখ্যা বেশি। তারা আইনশৃঙ্খলাকে কোনোরকম তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। সে সঙ্গে রাস্তা পারাপারে যাত্রীরা থাকে অসচেতন। রাস্তায় দক্ষ চালক ও যাত্রীরা সচেতন হয়ে চলাচল করলে সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা হ্রাস করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে ট্রাফিক ব্যবস্থার সূ² নজরদারি থাকলে প্রাণহানির মাত্রা আরো কিছুটা এড়িয়া যাওয়া সম্ভব।

আমাদের দেশে রাস্তাঘাট নির্মাণে যে দুর্নীতি হয়- এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। যার ফলে রাস্তা টেকসই হয় না। অল্প দিনে খানাখন্দকে ভরে যায়। রাস্তা হয়ে পড়ে চলাচলের অযোগ্য। এমনইতে আমাদের চাহিদার তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ কম, তার ওপর যদি রাস্তা নির্মাণে যথাযথভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে অল্প দিনের ব্যবধানে রাস্তার ভঙ্গুর দশার সৃষ্টি হয়। যার ফলে সতর্কতার মাঝেও ঘটে যায় সড়ক দুর্ঘটনা। রাস্তা নির্মাণে এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। না হলে সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমানো যাবে না। আমাদের দেশে যে মাত্রায় যাত্রীরা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়, বিশ্বের অন্য দেশে এই মাত্রা অবিশ্বাস্য। আসলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্বলতা থাকার কারণে আমাদের দেশ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এখনো সফল হয়নি। এজন্য সবার আগে সরকারকে কঠোর হতে হবে। আর যেসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, সেগুলো অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপদ নাগরিক জীবন অবশ্যই দরকার। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সরকারকে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা আগে সুনিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এগিয়ে যাবে দেশ, এগিয়ে যাবে জাতি-আমরাও এটা প্রত্যাশা করি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...