ডেঙ্গু নিয়ে আগাম সতর্কতা দরকার


poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৭

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে কয়েকটি নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, তার মধ্যে ডেঙ্গু একটি। ডেঙ্গু এখন আতঙ্কজনক রোগের নাম। এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে সর্বাগ্রে রোগীকে মৃত্যুর ভয় তাড়া করে। তার পর এ জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিরা উপসর্গের কারণে যে শারীরিক কষ্ট ভোগ করে, তা অবর্ণনীয়।

এখন অক্টোবর মাস। শীতকালের সূচনালগ্ন। সাধারণত এ মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রচলিত ধারণা ভেঙে দিয়ে নতুন ধারণা সৃষ্টি করেছে। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগী ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ২২৯ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে রাজধানীর ৪১টি হাসপাতালে ৯৪ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৫ জন। দুইদিন আগে মানবকণ্ঠে প্রকাশিত আরেকটি সংবাদে বলা হয়েছে, বছরজুড়ে ডেঙ্গু থাকার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভয়াবহ রূপ নিতে পারে আগামী বছর।

প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক সংবাদ দুটি আমাদের কী বার্তা দিচ্ছে? ডেঙ্গু রোগী যদি বছরজুড়ে অবস্থান নেয় এবং বর্ষা মৌসুমে প্রকট আকার ধারণ করে, তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। চলতি বছরই কয়েক মাস আগে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। মৃত্যুর মাত্রা যেভাবে বাড়ছিল তাতে অনেকেরই মনে হয়েছে এ রোগ মহামারি আকার ধারণ করবে। কিন্তু আর যা-ই হোক এ যাত্রায় দেশের মানুষ রক্ষা পেয়েছে। তবে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আমদানি করা ওষুধে কোনো কাজ হয়নি, ৫০ কোটি টাকার ওষুধ জলে গেছে- এমন অভিযোগ শুনতে হয়েছে বরাবরই। যখন ডেঙ্গু আক্রান্তের মাত্রা বাড়ছিল তখন মানুষের হাতের নাগালে পর্যাপ্ত কার্যকর ওষুধ ছিল না। মানুষ দুষেছে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে।

এ রোগ পর্যায়ক্রমে রাজধানী শহর থেকে লঞ্চ, বাস, ট্রেনসহ নানা যাত্রীবাহী বাহনে করে মানুষের সঙ্গে গ্রাম-গ্রামান্তরে পৌঁছাতে শুরু করে। মানুষ আতঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। অনেকে আক্রান্ত হয়ে গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্রই হাসপাতালমুখী হয়। হাসপাতালগুলোয় দ্রুত বাড়তে থাকে ডেঙ্গু রোগীর মাত্রা। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর হারও। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের মাত্রা দ্রæত ছাড়িয়ে যায় অন্যান্য বছরকে।

এখন প্রশ্ন হলো, ডেঙ্গু কি দেশে সারা বছরই থাকবে? মৌসুমের শুরুতে কি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে?

যদি তা-ই হয় তাহলে এ থেকে বাঁচতে আমাদের প্রস্তুতি কী? আমরা কি ডেঙ্গুর এ দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মাত্রায় সক্ষমতা অর্জন করেছি? এমন প্রশ্নই এখন অনেকের মুখে মুখে। চীন তাদের নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমে দেশের কয়েকটি উপদ্বীপ থেকে ৯৫ শতাংশের ওপরে ডেঙ্গু নির্মূলে সক্ষম হয়েছে। এটা ছিল তাদের নিজস্ব পদ্ধতি। এই উদ্ভাবনী তারা কাজে লাগিয়ে এডিস মশার লার্ভা লেজার রশ্মি দিয়ে সমূলে বিন্যাস করেছে।

আমাদেরও সেই রকমই নিজস্ব উদ্ভাবনী থাকা দরকার। যার মাধ্যমে এডিস প্রতিরোধ নয় একেবারে নির্মূল করতে সক্ষম হব। পাশাপাশি রাখতে হবে পর্যাপ্ত ওষুধের মজুদ। বছরজুড়ে ডেঙ্গুর উৎপাত মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে যেমন আগাম সতর্কতার প্রয়োজন আছে, তেমনই প্রয়োজন আছে প্রস্তুতির। সরকারকে সেই প্রস্তুতি এখন থেকে নিতে হবে। না হলে আগামী বছর ভয়ঙ্কর রূপ নিলে নিয়ন্ত্রণ করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে পারে। এজন্য এখন থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...