জীব প্রযুক্তি গবেষণায় অগ্রগতি

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১০:২২

জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই। গবেষণাই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে উন্নয়নের নবদিগন্তে। মেধাবী তরুণদের ভেতরে সৃষ্টি করতে পারে প্রেরণার আলো। তাই সবার আগে চিন্তাশীল তরুণ গবেষকদের গবেষণা-কাজে উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আরো বাড়বে তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা। মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, জীব প্রযুক্তির গবেষণায় দেশ এগিয়েছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, চিকিৎসাসহ নানা ক্ষেত্রে জীব প্রযুক্তির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এই খাতে আধুনিক যন্ত্রপাতি এসে অনেক কিছু বদলে দিয়েছে।

জীব প্রযুক্তির উন্নয়ন ভাবনাকে আরো প্রসারিত করতে আয়োজন করা হয়েছিল জীব প্রযুক্তি মেলা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই মেলা গতকাল শেষ হয়েছে। এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। এই মেলা পরিণত হয় বায়োটেকনলজিস্ট ও তরুণ শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায়। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ মেলা জীব প্রযুক্তিতে আগ্রহীদের মাঝে জীব প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবসা সম্প্রসারণে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করেছে। অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আগ্রহী দর্শকরা এই মেলায় প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে। এই মেলায় তথ্য পাওয়া গেছে, ধান, গম, টমেটো ও সরিসার নতুন জাত জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে আবিষ্কার করার।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন উদ্ভাবনের অপেক্ষায় থাকা ধানের কয়েকটি জাত মেলায় প্রদর্শন করেছে। উপক‚লীয় এলাকায় চাষযোগ্য ধানটির ফলন হবে আশাতীত। টেকনাফে স্থানীয় জাতের ধান লম্বুরের ওপর গবেষণা করে এই নতুন জাত বি-১১ উদ্ভাবনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে আবিষ্কার করা গোল্ডেন রাইস সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কৃত চারটি জাত ব্রি-ধান ৮৬, ব্রি-ধান ৮৭, ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি-ধান ৯২ সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্রি-এর আগে জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে আবিষ্কৃত ক্ষরা সহিষ্ণু, বন্যা সহিষ্ণু ও লবণাক্ত পানিতে চাষযোগ্য ধান আবিষ্কারের সাফল্য দেখিয়ে।

জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে টমেটোর নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার সুবাদে এখন সারা বছর টমেটো চাষ করা যায়। এসব টমেটো সহজে পচনযোগ্য নয়। তুলনামূলক শক্ত প্রকৃতির এই টমেটো লম্বা সময় ধরে সংরক্ষণও করা যায়। এটাও সম্ভব হয়েছে জীব প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে। সরিষা চাষের ক্ষেত্রে আরেক ধাপ উন্নতি হয়েছে। এখন উচ্চ ফলন শীল জাতের বেশ কয়েকটি সরিষার আবাদ হচ্ছে। অল্প জমিতে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে জীব প্রযুক্তির কারণে। মানুষের চাহিদা নিবারণে এই সরিষার আবাদ অনেকটা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

এর আগে পাটের জেনেটিক গবেষণায় অগ্রগতি হয়েছে। নতুন জাতের তোষা পাট চাষে ফলনে মাত্রা বেড়েছে। সব মিলে জীব প্রযুক্তির বহুমুখী গবেষণা অনেক আশাপ্রদ ফল এনেছে নাগরিকদের জীবনে। দেশে ন্যাশনাল জিন ব্যাংক তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই ব্যাংক তৈরি হলে দেশে বিদ্যমান উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের জেনেটিক রিসোর্সগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। যার ফলে এদের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় ও সমৃদ্ধ ডাটাবেজ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর জিন সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে জীব প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার কাজ যেমন সহজ হবে তেমন অগ্রগতিও আসবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...