শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে ভাবতে হবে


poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪২

শিক্ষার ভিত রচনা করেন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা। আর সেই শিক্ষকরা আজ ধর্মঘটে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা দানে নিয়োজিত শিক্ষকরা বেতন-ভাতা নিয়ে বৈষম্যের মধ্যে আছেন এবং সেই বৈষম্য থেকে সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে বিরাজ করছে নেতিবাচক মনোভাব। ফলে তাদের দাবিগুলো সরকারকে জানান দিতে তারা কেউ নেমেছেন মাঠে আর কেউ নেমেছেন সরাসরি ধর্মঘটে।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, বেতন-বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিবন্ধিত শিক্ষকরাও মাঠে নেমেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের দুই শ্রেণির শিক্ষকদের কর্মসূচির কারণে বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার সূতিকাগার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। শিশুদের শিক্ষার হাতেখড়িও হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বিশেষ করে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গ্রামীণ শিশুদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পাঠস্থান। বলা যায়, এসব বিদ্যালয়ই জ্বালিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম আলো। এখন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যদি নানা কারণে ধর্মঘটে যেতে হয়, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। যে জাতি শিক্ষায় যত অগ্রসর, সে জাতি তত উন্নত। আমাদের উন্নয়নের পথে আরো অগ্রসর হতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। তাই সবার আগে ভাবতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে। দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে ব্যাপকভাবে জাতীয়করণ করেছিলেন। তারই পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকারও প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। বছর বছর অনেক শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার পরও প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে অসন্তুষ্টি এখন বিরাজমান।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে, তা মূলত গ্রেডবৈষম্যের কারণে। তাদের দাবি, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করা হোক। কয়েক লাখ শিক্ষক এ দাবিতে একাট্টা হয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ৫ লাখ। নিবন্ধিত হলেও এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। এছাড়া স্বীকৃতি পেলেও নিবন্ধিত না হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫ হাজার। আর স্বীকৃতি না পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আরো কয়েক হাজার। সব মিলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে এক রকম অগোছালোভাবে।

বর্তমানে সারাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে গড়ে উঠেছে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগ্যতা, শিক্ষা দান পদ্ধতি ও শিক্ষার মান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। এ কারণে সরকার আগেই একবার জানিয়ে দিয়েছিল আর কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে, সামান্য বেতন-ভাতাও দেয়া হচ্ছে এগুলো পূর্ণাঙ্গতা পাবে কবে? এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বিবেচনা করেই তো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে বেতন-ভাতায় পরিপূর্ণতা দেয়ার কথা সরকারকে ভাবতে হবে। তাদের জীবনযাত্রার মান না বাড়লে তো শিক্ষার মান বাড়বে না। অন্তত শিক্ষার মানের প্রশ্নে উন্নীত ও নিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথা সরকারকে ভাবতে হবে। আর যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেতন-বৈষম্যের প্রশ্ন তুলে মাঠে নেমেছেন, তাদের দাবিগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে ভাবতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মতো জায়গায় বৈষম্য থাকলে শিক্ষায় সমতা আসবে না। এতে ভবিষ্যৎ নাগরিক এ দেশের সন্তানরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ থেকে শিক্ষাকে সমতা দিতে হলে সরকারকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আবার ভাবতে হবে। সেই সঙ্গে দূর করতে হবে যাবতীয় বৈষম্য। তাহলেই প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে ফিরে আসবে শৃঙ্খলা আমরাও মনে করি তাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...