সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৩

আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ফুঁসে ওঠা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিসহ সব ধরনের অন্যায়, অবিচার এবং বৈষম্য রুখে দেয়ার গণশপথ নেয়ার মাধ্যমে মাঠের আন্দোলনের আপাতত ইতি টেনেছেন। তবে একইসঙ্গে তারা এও জানিয়েছেন, মাঠের আন্দোলনের ইতি ঘটলেও প্রশাসনের দেয়া আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি পর্যবেক্ষণে রাখবেন। আমরা প্রত্যাশা করি সংশ্লিষ্ট সব মহল বুয়েট শিক্ষার্থীদের কাছে যৌক্তিক সব প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আন্তরিক হবেন। তবে এটাও সত্য যে, আইনি যে প্রক্রিয়া রয়েছে সে ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করার কোনো জো নেই। সে ক্ষেত্রে চুড়ান্ত প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতেই হবে।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রথম দশ দফা এবং পরবর্তীতে আরো পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হলে তা মেনে নেন এবং ক্রমান্বয়ে তা পূরণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন। সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন প্রত্যেক আসামিকে গ্রেফতার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকে আইনের আওতায় রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা আসামিদের মধ্যে কেউ পরিস্থিতির শিকার কিনা বা আদতে দোষী কিনা তাও যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তাতে স্বাগত জানাই। আমরা প্রত্যেকেই চাই, আবরার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক এবং কোনো শিক্ষাঙ্গনে আর কোনো প্রাণ যেন এভাবে অকালে ঝরে না পড়ে এই পরিবেশ, পরিস্থিতি নিশ্চিত হোক।

ছাত্ররাজনীতির অতীত ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল হলেও শাসক মহল ছাত্রদের মূল রাজনীতির হাতিয়ার করে তোলায় তা পথ হারায়। অর্থ এবং ক্ষমতার স্বাদ ছাত্রজীবনে অনেকের নাগালে চলে আসায় যে কারণে ছাত্ররাজনীতি তা পুরোপুরিই পাল্টে যায়। ফলে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ জননেতা আর তৈরি হতে দেখা যায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রনেতা হওয়ায় ছাত্রনেতাদের অনেকেই সীমা অতিক্রম করেছে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও দলের অনেকেই তা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাননি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থানে গিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে শুরু করেন। এর প্রভান সম্পর্কে দেশবাসী অবহিত। তবে আবরার হত্যাকাণ্ডে তা কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। অচিরেই তা আবার শুরু হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার যে প্রেক্ষাপট, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করা হয়েছিল তা মূল্যায়ন করতে হলে শোষণ, বঞ্চনামুক্ত সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। বুয়েট শিক্ষার্থীরা গণশপথের মাধ্যমে যে অসাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসমুক্ত, বঞ্চনামুক্ত শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলো এই অঙ্গীকার হোক সবার, সব মানুষের। বাংলাদেশ সবার জন্য সহাবস্থানের, সমঅধিকারের সমৃদ্ধশালী একটি দেশ হয়ে উঠুক।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...