যমুনায় চার লেনের রেলসেতু

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৫৪

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরো পরিবর্তন আনতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বলা যায়, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আরেকটি বড় উদ্যোগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। চার লেনের রেলসেতু নির্মাণের এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হলে দেশের উন্নয়নের ইতিহাসে আরেকটি স্মারকচিহ্ন যুক্ত হবে।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে চার লেনের আলাদা রেলসেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হবে। জাপানের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকা এ প্রকল্পের কাজ করতে যাচ্ছে। জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় ও তাদের প্রযুক্তিগত গাইডলাইনে এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।

মহাসড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চার লেন ডুয়েলগেজ রেলসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে যাত্রীবাহী ট্রেনসহ ওয়াগন, কন্টেনার দ্রুত পরিবহন করা সহজ হবে। এই রেলসেতুটি নির্মিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

কোনো দেশের উন্নয়নের সামগ্রিক চিত্র ফুটে ওঠে যাতায়াত ব্যবস্থায়। যাতায়াত ব্যবস্থা যে দেশের যত উন্নত, সে দেশের শিল্প, আর্থ-সামাজিক অবস্থাসহ মূল অর্থনৈতিক ধারা তত উন্নত। উন্নত দেশের সঙ্গে সমতালে এগিয়ে যেতে হলে যোগাযোগ উন্নত করার বিকল্প নেই। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করা বলতে শুধু সড়ক উন্নয়নই বোঝায় না, সেই সঙ্গে ব্রিজ, কালভার্ট, সাঁকো যেখানে যা প্রয়োজন সবকিছুর উন্নয়নকে বোঝায়। এ সবকিছুর সমন্বিত উন্নয়নই হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুতে সড়ক পথের পাশাপাশি ট্রেন যাতায়াতেরও ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ট্রেন যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন অনেক ধীর গতিতে ট্রেন চলাচল করে। সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কয়েকবার মেরামত কাজও করতে হয়েছে। তারপরও ট্রেন চলাচলের গতি উন্নত করা যায়নি। যার ফলে নতুন রেলসেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। দেশে চার লেনের রেলসেতু নির্মাণ এই প্রথম। সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে গ্যাসলাইনের সংযোগও এই সেতুর মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। সবচেয়ে বড় যে সুবিধটা হবে তা হলো বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আর সিডিউল বিপর্যয় হবে না। সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে নতুন উদ্যোগে দ্রুতগতির ট্রেন চালু করাও সহজ হবে।

শিল্প ও প্রযুক্তিতে উন্নত জাপান আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপান সরকার আমাদের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। চার লেনের রেলসেতু নির্মাণের এই বড় প্রকল্পেও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে দেশটি। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রকৌশলগত সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে তারা। এই সেতু নির্মিত হলে দুই দেশের মাঝে উন্নয়ন সম্পর্কে নতুন আরেকটি ভিত রচিত হবে।

বর্তমান সরকার অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে অতীতের সব ইতিহাসকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক উন্নত দেশকে পেছনে ফেলে বছর বছর বেড়েছে জিডিপি। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বিশ্বের মাঝে নতুনরূপে আবির্ভ‚ত হচ্ছে আমাদের দেশ। চার লেনের রেলসেতু নির্মাণ বিশ্বের মাঝে আমাদের আরেকটি পরিচয়কে তুলে ধরবে। এই সেতু নির্মাণের কাক্সিক্ষত সফলতা সুনির্দিষ্ট সময়ে আলোর মুখ দেখবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...