দালাল ধরে বিদেশ যাত্রায় সতর্ক হতে হবে

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১১:০৩,  আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১৯

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের এক সময় ব্যাপক চাহিদা ছিল। তবে তা অনেক কমে এসেছে। এর নানামুখী কারণ রয়েছে। তবে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তা নয়। এ ছাড়া বাড়তি আয়ের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের সুখ কিনতে প্রবাসে শ্রম দিতে যেতে চাওয়ার মতো মানুষেরও অভাব নেই এ দেশে। সমস্যা হলো জীবিকার সন্ধানে প্রবাসে গমন করা সবাই সোনার হরিণের দেখা পান না বরং বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কবলে পড়েন।

এর কারণ সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ না গিয়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশ গমন। ১৫ অক্টোবর দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, লিবিয়ার বেনগাজীর গোয়াসা নামক স্থানের একটি ছোট্ট অন্ধকার কক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ যুবককে আটকে রাখা হয়েছে। এরা সবাই দালালের মাধ্যমে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। রুমটি দালালদের টর্চারসেল। রুমটিতে কোনো জানালা নেই। বিদ্যুৎবিহীন এই কক্ষে বন্দিরা দিন-রাতের পার্থক্য করতে পারেন না। জায়গা স্বল্পতায় একজনের শরীরের ওপর আরেকজনকে অবস্থান করতে হচ্ছে। ফলে নড়াচড়া করাও সম্ভব হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর পর দালালদের এই টর্চারসেল থেকে ভেসে আসে অমানবিক নির্যাতনে আর্তচিৎকার আর আহাজারির শব্দ। মুক্তিপণ দাবিতে চলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন।

এ ধরনের সংবাদ আমাদের শুধু হতাশই করে না, একইসঙ্গে বেদনাপ্লুত এবং অসহায় করে তোলে। কারণ প্রযুক্তির এই সময়ে যেখানে মুহূর্তে সব জানা যায় সেখানে কেন মানুষ যাচাই-বাছাই না করে সর্বস্ব বিক্রি করে সেই অর্থ দালালদের হাতে তুলে দেয়? তাদের একটু ভুলের জন্য তারা নিজেরা এবং পরিবারও চরম দুশ্চিন্তা ও মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়ে।

সরকার বিভিন্নভাবে জনগণের কাছে বার্তা দেয়ার চেষ্টা করছে যে, সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ গেলে সব ধরনের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের এবং এভাবে বিদেশ যাওয়ার খরচও কম। দালালদের মাধ্যমে বিদেশ না যাওয়ারও পরামর্শ দেয়া আছে। কিন্তু কেন তবু লোভের বশবর্তী হয়ে দালালের সহায়তা নিতে যায় তা বোধগম্য নয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পুরো বিষয়টির সঙ্গে লিবিয়ার অ্যারাবিয়ান এবং বাংলাদেশের কতিপয়ের যোগসাজশেই এই টর্চার সেল গঠিত। প্রবাসে গমনেচ্ছুদের ফাঁদে ফেলে লিবিয়ার এই টর্চার সেল-এ নেয়া হয়। এরপর তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে পরিবারকে চাপে ফেলা হয় যাতে তারা আরো অর্থ পাঠায়। না হলে নির্যাতনের মাত্রা যেমন বাড়ে তেমনি মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়ে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সব মহলকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও ফলপ্রসূ কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক। কারণ ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্য বিদেশ গেলেও প্রত্যেকের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাস এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এ প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এদেশে কারা এধরনের চক্র গড়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সর্বস্বান্ত করছে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দালালদের প্রলোভনে পড়ে যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হয় সে জন্য এ বিষয়ে আরো বেশি প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। জনগণকেও সতর্ক থাকতে হবে। বিদেশ যেতে হলে সরকারি ব্যবস্থাপনা ছাড়া বিদেশ যাওয়া যাবে না এটি স্মরণে রাখতে হবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...