কমাতে হবে আত্মহত্যার প্রবণতা

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪৭

‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’- কবিগুরু রবিঠাকুর তার এই কবিতায় মায়াময় এই পৃথিবীতে মানুষের বাঁচার আকাক্সক্ষাকে অল্প কথায় সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন। কোনো মানুষই সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে অকালে চলে যেতে চায় না কিন্তু তার পরও কোনো কোনো হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সব মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হচ্ছে। বেছে নিতে হচ্ছে আত্মহত্যার পথ।

মানবকণ্ঠে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ লোক আত্মহত্যা করে। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে করে একজন। ১৫ থেকে ২৯ বছরের তরুণ-তরুণীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ আত্মহত্যা। আর ৭৯ শতাংশ আত্মহত্যা ঘটে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে ৬৫ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে বেশিরভাগই অল্পবয়সী এবং ৮৯ শতাংশই নারী। এই রকম পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা দেশের মানুষের জন্য ভাবনার অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মনোসামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, যৌতুক, পরকীয়া- এসব কারণে মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমান সরকার নারী শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সূচকের দিক থেকে এগিয়ে। এ কারণে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘেও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসিত হয়েছে। সেই দিক থেকে বিবেচনায় নিলে নারী আত্মহত্যার হার কমে আসার কথা।

আরো একটা কারণে দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, আর সেটা হলো অর্থনৈতিক কারণ। দেশ অর্থনৈতিক সংকটে থাকলে মানুষের চাহিদাগুলোর প্রাপ্যতা সংকুচিত হয়ে আসে। ফলে না পাওয়ার বেদনা হতাশাগুলোকে দিনে দিনে আরো প্রবল করে তোলে। একপর্যায়ে অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিষণ্ণতার জালে আটকে যায়। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।

কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ শিল্প-অর্থনীতির নানা দিক থেকে অগ্রসর। বিশ্ব-বাণিজ্যে রাখছে অন্যতম ভ‚মিকা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াসহ অনেক পণ্য রফতানি করে দেশের অর্থনীতিকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করে চলেছে। এর প্রভাব ক্রমন্বয়ে পড়ছে মানুষের ব্যক্তিজীবনে। অগ্রসর অর্থনীতির এই দেশে কর্মসংস্থানের হার বেড়ে গেলে বেকার তরুণ-তরুণীদের হতাশার মাত্রা কমে আসবে। এতে আরো কমে আসবে আত্মহত্যার প্রবণতা।

প্রথাগত যৌতুক সমাজে সৃষ্টি করছে আত্মহত্যার আরেক পরিধি। এ দেশের সিংহভাগ মানুষ মুসলমান ও হিন্দু। এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সামাজিক ব্যাধি যৌতুক প্রথা এখনো বিদ্যমান। যৌতুকের কারণে অনেক পরিবার সঙ্কটে পড়ে। উপযুক্ত সময়ে সন্তান-সন্ততির বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। এ কারণে অনেকে যৌতুকজনিত হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এটা হতে পারে বিবাহযোগ্য কন্যা কিংবা কন্যাদায়গ্রস্ত অভিভাবকের ক্ষেত্রে। যৌতুক নিরোধে আইনি তৎপরতার পাশাপাশি চলছে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ। এ কারণে কিছুটা হলেও আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে মানুষ বেরিয়ে আসতে পারবে।

আত্মহত্যা মহাপাপ। এ তত্ত¡কথা প্রায় সব ধর্মেই প্রচলিত। তার পরও মানুষ সামাজিক বাস্তবতায় এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। যে কোনো ধরনের হত্যাশা থেকে বাঁচতে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের স্ব-উদ্যোগে নিজেদের মনকে শক্তিশালী করা উচিত। আশপাশের কাউকে হত্যাশাগ্রস্ত দেখলে সামাজিক মানুষের দায়িত্ব তাকে সুপরামর্শ দেয়া এবং মনোবিজ্ঞানীদের কাছে নিয়ে গিয়ে কাউন্সেলিং পদ্ধতিতে সমস্যার উপায় বের করা। তাহলে কিছুটা হলেও হতাশাগ্রস্ত মানুষ আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে পরিবর্তিত চিন্তায় ফিরে আসতে পারে। এভাবে কমে আসতে পারে আত্মহত্যার মাত্রা।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...