ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি বন্ধ হোক

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১৮

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতি বড় ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। বুয়েটের আবরার হত্যার পর বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করেছে। কিন্তু এটি কোনো সমাধান নয়। আবার ছাত্রদের লাগাতার দাবির মুখে তা বন্ধ না করেও উপায় ছিল না। কিন্তু অতীতের দিকে তাকালে দেখা যাবে ছাত্ররাই এদেশের সব যৌক্তিক আন্দোলনের পুরোধা। স্বাধীনতা সংগ্রাম তো বটেই, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভ‚মিকা রয়েছে। কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে দলীয় ব্যানারে রাজনীতি ঢুকে পড়ার পর থেকেই এটি পথ হারিয়েছে। মূল যে রাজনৈতিক দল তারাও ছাত্রদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে অথবা তাদের অন্যায় পদক্ষেপগুলোর কঠোর বিরোধিতা করেনি, কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি অথবা নীরব থেকে এদের অনেক অন্যায়-অনাচারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠার দুঃসাহস করতে পেরেছে। তবে এর মানে এই নয় যে, ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেই শিক্ষাঙ্গনে সব অনাচারের অবসান ঘটবে। বরং এতে অপশক্তিও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার শঙ্কা ত্বরান্বিত হয়।

আবরারকে খুন করা হয়েছে এটি নির্মম বাস্তবতা। বুয়েটে এর আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আর কেউ হয়নি এমনও নয়। তবে কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর প্রতি অভিভাবক তো বটেই, সারাদেশের মানুষের আস্থা রয়েছে যে এখানে অন্তত আমাদের সন্তান নিরাপদ থাকবে। সঠিক শিক্ষা পেয়ে তারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তবে বুয়েটে যা ঘটেছে তা শুধু দুঃখজনকই নয়, অনভিপ্রেত এবং এই ঘটনা সাধারণের আস্থায় ফাটল ধরিয়েছে।

ছাত্রলীগ ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্র সংগঠন। এর অতীত ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা যে দলটি, যে দলটি নির্যাতিত, নিপীড়িত বাঙালির জন্য স্বাধীন একটি দেশ অর্জনে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দলের অঙ্গ সংগঠন। যে কারণে এদেশের মানুষের এই সংগঠনটির কাছ থেকে প্রাপ্তি ও আকাক্সক্ষাও বেশি। কিন্তু টানা তিন টার্ম ক্ষমতায় থাকা দলটির অঙ্গ সংগঠনটি বারে বারেই নিজ দলীয় সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। এটি দুঃখজনক। শিক্ষার্থী মানেই মুখ বুজে বই মুখস্ত করে ভালো ফল করা হয়।

শিক্ষার্থী মানে বাস্তবতার আলোকে তাকে সব ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হবে এবং কিছু কিছু শিক্ষা পরিবার থেকে অভিভাকরাই দেবেন। ভালো ফল করে সন্তানকে শুধু অর্থ কামাইয়ের যন্ত্র বানানোটা কোনো কাজের কথা নয়। আজকের যে ছাত্ররাজনীতির ভুল ভ‚মিকা আমরা দেখি এর দায় পরিবারও এড়াতে পারে না। কারণ তারা সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং এই প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে যে ভুল রাজনীতির চর্চা করা হয় তা বন্ধ করতে হবে। ছাত্রনেতারা নিজ শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সমস্যা ও চাহিদার কথা জেনে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে এবং সমস্যার নিরসন ঘটাবে এটিই তাদের মূল কাজ। ক্যাম্পাস যেন সব ধর্ম-মত-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সহায়ক থাকে সে পদক্ষেপ নিতে হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি উচ্চ মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ তৈরি করতে না পারে তবে তা সবার জন্যই পীড়াদায়ক। আমরা মনে করি সময় ফুরিয়ে যায়নি। সঠিক পদক্ষেপ ও তদারকির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতির অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...