বুয়েটে নিষিদ্ধ হলো ছাত্র রাজনীতি

মানবকণ্ঠ
সম্পাদকীয় - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • সম্পাদকীয়
  • ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১৫

অবশেষে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করেছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এ আদেশ জারি করা হলো। বলা যায়, বুয়েট শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হলেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়- ছাত্র রাজনীতি কেন নিষিদ্ধ হবে? ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে, সেই ’৫২ থেকে ’৭১, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সব জাতীয় সঙ্কটে নির্ভীক চিত্তে আগে এ দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন ছাত্ররা রাজপথে নেমে এসেছেন। তবে এটা ঠিক, তখন ছাত্রদের সবার রাজনীতি করার প্রয়োজন হয়নি। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে তারা যুগে যুগে সংগঠিত হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে। প্রথমত, তাদেরই কেউ কেউ রাজনীতি করলেও এ কথাও সঠিক যে, সবাই রাজনীতি করতেন না। দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার আগে যেসব রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা ঐতিহাসিক আন্দোলনগুলোয় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছেন, তারা কোনো রকম ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তারা দেশের সঙ্কটমুহূর্তে বিভিন্ন দাবি-দাবা নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। পরবর্তী সময়ে তাদেরই কেউ কেউ ঐতিহাসিক ভ‚মিকার কারণে খ্যাতিমান হয়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হয়েছেন।

বর্তমানে ছাত্র রাজনীতির মধ্যে নানা সুবিধাবাদী নীতি প্রবেশ করেছে। আবার জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে রয়েছে ছাত্র রাজনীতির সম্পর্ক। এই লেজুড়বৃত্তি নীতির কারণে বিভিন্ন আদর্শে বিভক্ত ছাত্রসংগঠনগুলো এক অপরের দিকে মারমুখী হয়ে থাকে প্রায়ই। চলে হল দখল। শুধু কি তাই, রাজনৈতিক বলয়ে আবদ্ধ এই ছাত্ররাই জড়িয়ে যায়, সিট বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজির মতো দুবৃর্ত্তীয় কর্মকাণ্ডে। মূলধারার রাজনৈতিক সংগঠনগুলোই এসব ছাত্রসংগঠনগুলোকে প্রতিপালন করে। এ কারণে প্রতিপক্ষকে রুখতে তারা হাতে তুলে নেয় ধারালো ছুরি থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত। এসব নিয়ে তারা তাড়া করে প্রতিপক্ষের ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের। কখনো কখনো তারা প্রতিপক্ষকে হত্যা করে।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আর বিরোধীদলীয় সমর্থক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এ চিত্র দেখা যায় বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে। আজও রয়েছে দেশের অনেক উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির নামে হানাহানি, মারামারি ও অস্ত্রের ঝনঝনানি। আজ আবরারকে নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করার কারণে বিশ্বব্যাপী ঘৃণা আর ক্ষোভের ধিক্কার বয়ে যাচ্ছে। দেশের সচেতন মানুষও সোচ্চার হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারও নিয়েছে কঠোর ভ‚মিকা। কিন্তু আবরার হত্যাকারীদের মতো আরো কত হত্যাকারী তাদের লুকায়িত রূপ নিয়ে জায়গায় জায়গায় বসে আছে, তার সন্ধান কে করবে? দিনে দিনে ছাত্র রাজনীতিকে আদর্শের পরিধি থেকে কতটা নিচে নামানো হয়েছে- কেউ তা ভাববার প্রয়োজন বোধ করেনি। সরকারকে ভাবতে হবে, ছাত্র রাজনীতির নামে যেন শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করা না হয়। কুলষিত করা না হয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের তীর্থভ‚মিকে। ভয়ে আতঙ্কে থাকতে না হয় আরেক শ্রেণির রাজনীতির রংমাখা ছাত্রদের দেখে- যারা নাকি ছাত্র হয়েও মাতাল, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসীদের ভূমিকায় ছাত্রদের মাঝে বিচরণ করে এবং জিম্মি করে রাখে সাধারণ ছাত্রদের ক্যাম্পাস-জীবনকে।

‘আবরার হত্যা’ ও ‘বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ’ থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রয়োজনে ভাবতে হবে সব শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা। শিক্ষাঙ্গনগুলো যেন আর ছাত্র নামের সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়- এই প্রত্যাশা আমাদের।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...