সাদা চিনিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০৮

প্রাকৃতিক সান্নিধ্য ছেড়ে মানুষ যতই আধুনিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হচ্ছে, ততই বাড়ছে জটিলতা। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে বহুমুখী যান্ত্রিক অনুষঙ্গ মানুষকে শিল্পমুখী করছে। আর এই শিল্পায়নের ফলে সংযোজিত কিছু জটিলতা ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে মানুষের জীবনে। যার কারণে মানুষের মধ্যে জটিল রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। তার মধ্যে ক্যান্সার এক আতঙ্কের নাম। ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে মৃত্যু অনিবার্য, এটাই মানুষের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস। শিল্পজাত পণ্য সাদা চিনি থেকে ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এই তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

প্রকৃতির দান আখ মাড়াই করে যে সুমিষ্ট রস পাওয়া যায়, ঘরে ঘরে বড় বড় কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে রস ঘন করে তাতেই তৈরি হয় গুড়। এই গুড় স্বাস্থ্যের জন্য শতভাগ উপযোগীএমন অভিমত পুষ্টিবিদদের। কোনো রকম ঝুঁকির আশঙ্কা ছাড়া ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ভোক্তা সাধারণ ব্যবহার করে আসছে গুড়। এই আখের রস থেকে যে হালকা লালচে চিনি তৈরি হয়, এই শিল্পজাত উপাদানটিকেও স্বাস্থ্যসম্মত মনে করা হয়। তবে যত স্বাস্থ্যঝুঁকি সাদা চিনিতে।

এক গবেষণায় এই সাদা চিনির মধ্যেই ক্ষতিকর রাসায়নিক ঘন চিনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষণাটি করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)। দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে প্যাকেটজাত ও খোলা চিনির নমুনা পরীক্ষা করে তাতে ওই রাসায়নিক পাওয়া যায়। ঘন চিনির রাসায়নিক নাম সোডিয়াম সাইক্লামেট। দেখতে সাদা পাউডারের মতো। এটি চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি; দামও কম। স্বাদ প্রায় চিনির মতোই। চিনির মিষ্টতা আরো বাড়াতে এই ঘন চিনি মিশিয়ে দেয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মত, মানুষ যখন ঘন চিনি মিশ্রিত চিনি খায়, তখন অন্ত্রের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘন চিনি থেকে কারসোজোনে স্থানান্তর করে, যা ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ঘন চিনি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ঘন চিনি পুরুষের বন্ধ্যত্বের জন্যও দায়ী কিন্তু মানুষের জন্য এর ক্ষতিকর দিকগুলোয় স্বার্থান্বেষী মহল কখনোই গুরুত্ব দেয় না। তাদের ভাবনায় একটি বিষয় কাজ করে তা হলো- নিজেদের পণ্য কীভাবে বাজার মাত করবে আর কীভাবে ভারী হবে মুনাফার পাল্লা। সরকার ঘন চিনির স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ এর ব্যবহার ও আমদানি নিষিদ্ধ করে। তার পরও দেশের খোলাবাজারের চিনিতে কীভাবে ঘন চিনির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে সেটাই মানুষের প্রশ্ন। সরকারের চিনি শিল্প কর্পোরেশনের লালচে চিনিতে এ ধরনের কোনো সমস্যা নেই।

তবে বেসরকারি খাতের বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের সাদা চিনি পরীক্ষা করে ঘন চিনির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কোম্পানিগুলো দেশে শোধনকালে ঘন চিনি মেশাচ্ছে, নাকি যেখান থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করা হচ্ছে সেখানেই এটি মেশানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। বেসরকারি চিনিকলগুলোর দায়িত্বশীলদের ভাষ্য, তাদের চিনিতে কোনোভাবেই ঘন চিনি থাকতে পারে না। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দেশের চাহিদার ৯০ ভাগেরও বেশি চিনি সরবরাহ করছে বেসরকারি রিফাইনারিগুলো, যাদের সরবরাহকৃত চিনি দেখতে সাদা। আর এই সাদা চিনিতেই পাওয়া গেছে ঘন চিনি। জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা এখানেই বেশি।

দেশের বাজারে যেসব চিনি পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই সাদা চিনি। আর এই সাদা চিনিতে ঘন চিনি মিশিয়ে দেয়ার ঝুঁকি বেশি। বাজার থেকে সংগ্রহ করা চিনির যে নমুনা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, তাতে তাই প্রমাণিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সাদা চিনিতে এই ঘন চিনি মেশাচ্ছে কারা? আমদানি করা অশোধিত চিনিতে আগেই মেশানো হচ্ছে, নাকি রিফাইন করার সময় দেশীয় ব্যবসায়ীরা মেশাচ্ছেন। এই অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদেরই বের করতে হবে। মানুষ কেবল চায় চিনিতে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকির সমাধান।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 





ads






Loading...