উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৫২

সব ধরনের দেশি ওষুধই নির্ধারিত মূল্যে পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যপণ্য ওষুধের ক্ষেত্রে এটাই নিয়ম। কিন্তু কোনো কোনো ওষুধের গলাকাটা দাম আদায় অনেককে বিস্মিত করেছে। ঔষধ প্রশাসনও এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে বরাবরই অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টা সত্যি উদ্বেগজনকই।

এক তথ্যমতে, ১২ টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশন ৮০০ টাকায়, অস্ত্রোপচারে ব্যবহƒত সুতার দাম ১৫-২০ টাকা হলেও নেয়া হচ্ছে ৬০০ টাকা, ৬০ টাকার বমির ওষুধ নেয়া হচ্ছে ১৯০০ টাকা, ক্যাটামিন ইনজেকশন ৮০-১১৫ টাকা হলেও নেয়া হয় ২০০-২৫০ টাকা, ক্যান্সারের ওষুধ সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিনের মূল্য ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর বাইরেও অনেক ওষুধের মূল্য ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো আদায় করছেন। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে এভাবে বর্ধিত মূল্য আদায় করা হচ্ছে।

সব ওষুধেরই খুচরা মূল্য প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে। নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সিরাপ, ক্যাপসুল, ট্যাবলেট সব ওষুধই নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয়। এই নিয়মটা ওষুধপণ্যকে মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছে। কোনো ক্রেতাকে কখনোই ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধের দাম করতে হয় না। এই প্রথা এখন আমাদের সংস্কৃৃতির অঙ্গ হয়ে গেছে। কিন্তু একশ্রেণির ওষুধ বিক্রেতা কোনো কোনো বিশেষ ওষুধের সঙ্কটের সুযোগে গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি দাম আদায় করে নিচ্ছেন। এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহির জায়গাটাও সঙ্কুচিত।

ওষুধ বিষয়ক এসব অনিয়ম দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের। মাঠ পর্যারের পর্যবেক্ষণ ঔষধ প্রশাসনকেই করতে হয়। কিন্তু জনবল সঙ্কটের কারণে যদি এটা সম্ভব না হয়, তাহলে এ সঙ্কট দূর করা আরো কঠিন? আর এ সঙ্কট জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হলে না হয় অন্য কথা। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতা যদি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় থাকে, তাহলে এ থেকে উত্তরণের উপায় থাকে না? রাজধানীতে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেশের যে কোনো এলাকার চেয়ে সুবিধাজনক। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের বড় সব চিকিৎসাকেন্দ্র রাজধানীকেন্দ্রিক। স্বাভাবিকভাবেই জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষ রাজধানীমুখী হয়। আর এ সুযোগে ক্রেতার চাপে ওষুধের উচ্চমূল্য আদায় করার প্রবণতা তৈরি হয় অসৎ ব্যবসায়ীদের মনে। আবার ওষুধের প্যাকেটের গায়ে মূল্য লেখা থাকলেও ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের পাতায় মূল্য লেখা না থাকায় অনেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই সুযোগে উচ্চমূল্য আদায় করে নেয়ার অভিযোগ গুরুতর। ওষুধ জীবন রক্ষাকারী উপাদান। প্রচলিত প্রথা ভেঙে উচ্চমূল্য আদায় করার প্রবণতা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। চিকিৎসা সঙ্কটে থাকা মুমূর্ষু রোগীকে জিম্মি করে ওষুধের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা অবশ্যই ঘৃন্য মানসিকতার পরিচয়। এসব ব্যবসায়ীকে রুখতে অবশ্যই আইনি তৎপরতা বাড়াতে হবে।

দেশের ফার্মেসিগুলোয় মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা আগেই পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অনেক ফার্মেসি মালিকের জরিমানাও হয়েছে। এটা ওষুধ ব্যবসায়ীদের অসৎ মানসিকতারই পরিচয়। কোনো কোনো ওষুধ ব্যবসায়ীর উচ্চমূল্যে ওষুধ বিক্রির মানসিকতা তারই অংশ। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে বৃদ্ধি করতে হবে জনবল। বাড়াতে হবে মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে। আর আমাদের ওষুধ ব্যবসায়ীদের মুনাফাখোরী মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে নৈতিকতার আদর্শে। তাহলেই কেবল এসব অনিয়ম দূর করা সম্ভব।




Loading...
ads





Loading...