কাওরানবাজারে নীরব চাঁদাবাজি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৬:২৮

কাওরানবাজার হচ্ছে রাজধানীর অন্যতম কাঁচামালের পাইকারি বাজার। এই বাজারে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘চাঁদাবাজরা কাওরানবাজার ছাড়ুন’। তিনি আরো বলেছেন, ‘কাওরানবাজারে চাঁদাবাজির কিছু কিছু খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি চাঁদাবাজি করলে কাওরানবাজার ছেড়ে চলে যান।’

রাজধানীর বড় এই কাঁচাবাজারে প্রতিদিন শত শত ট্রাক কাঁচামাল নিয়ে প্রবেশ করে। চাঁদাবাজরা এই কাঁচামালের ট্রাকপ্রতি হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এরা এতই চতুর যে, যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন সে সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে থেকে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো চাঁদাবাজি করা। এই টাকার অংশ চলে যায় প্রভাবশালীদের হাতে। অনেকের বদ্ধমূল ধারণা, ক্ষমতাসীনদের গোপন ছত্রছায়ায় থাকা এসব চাঁদাবাজ তাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলে।

আগে এই কাওরানবাজারের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনেক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এটা অতীব সত্য যে, এ সরকারের আমলে কাওরানবাজারে তেমন কোনো খুনোখুনি হয়নি। তবে নীরব চাঁদাবাজি যে চলছে আগের মতো- এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই চাঁদাবাজি বন্ধে আগের সরকারগুলোর আমলে অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাতের আঁধারে তোলা টাকার কাছে সবাই যেন পরাজিত।

প্রতিটি সবজির ট্রাকে চাঁদাবাজির ফলে পণ্যের ওপর যে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হয় তা নগরবাসী ভোক্তাদের বহন করতে হয়। এ কারণে কাঁচাপণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। যার ফলে এসব কাঁচামাল ঊর্ধ্ব মূল্য ধারণ করে। এতে নি¤œ আয়ের কর্মজীবী মানুষ উপযুক্ত পরিমাণ কাঁচা পণ্য ক্রয় করতে হিমশিম খায়। নি¤œবিত্ত এসব মানুষ শাকসবজির অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগে।

দেশের নানা প্রান্তের তৃণমূলের কৃষকরা শাক-সবজি চাষ করেন অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে। তারা সেই শাক-সবজি কাওরানবাজারের মতো পাইকারি আড়তগুলোতে পাঠান। তারা আশায় বুক বাঁধেন কষ্টের শ্রমে তৈরি ফসল বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের। কিন্তু চাঁদাবাজদের দেয়া বাড়তি অর্থ ট্রাক ভাড়ায় যুক্ত হওয়ায় তাদের অনেক সময় সবজি পাঠানোর খরচ ওঠাই দায় হয়ে যায়। ফলে অনেক কৃষক কাঁচা পণ্য চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তৈরি হয় উৎপাদন সঙ্কট। এর ফলে ভোক্তারা আরো বিপর্যয়ে পড়ে। এই যে চাষি-বিক্রেতা-ভোক্তার ধারাবাহিকতার বন্ধন তা চাঁদাবাজরা নষ্ট করে দিচ্ছে। সমাজে তৈরি করছে এক ধরনের অশুভ সংস্কৃতি। এ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ করা সরকারের আইনি দায়িত্ব। সরকার যদি তৎপর হয় তাহলে সপ্তাহ, মাস, বছর নয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যে কোনো জায়গার চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত। কেবল তাহলেই দেশ থেকে চাঁদাবাজদের অনৈতিক পেশা বন্ধ করা যাবে।

এ সরকার অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। উন্নয়নের অনেক কঠিন প্রকল্প হাতে নিয়ে সফল হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন খাতের চাঁদাবাজি বন্ধে ততটা কৃতকার্যতা দেখাতে পারেনি। কাওরানবাজারের চাঁদাবাজির বিষয়টি যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে এসেছে, তখন এ বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বের দাবিদার। কাওরানবাজার থেকে চাঁদাবাজ নির্মূলে অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads





Loading...