অবাধে পলিথিনের ব্যবহার নয়


poisha bazar

  • ০২ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৪

পরিবেশ রক্ষায় সরকার পলিথিন বন্ধে কাজ করছে। তবে এর উৎপাদন বন্ধে সব কারখানা নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না। কিছু পলিথিন আছে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, সেগুলো উৎপাদন করা যাবে। এ কথা বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী। পরিবেশের প্রধান শত্রু পলিথিন। আর পলিথিনের যথেচ্ছ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে আছে। এই সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে প্রায় একদশকের বেশি সময় ধরে।

পলিথিনের কারণে শহরের ড্রেন, নালা, নর্দমা, নদী, সাগর- সবই পর্যায়ক্রমে দূষিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এক কথায় বিশ্বজুড়ে মানব অস্তিত্ব এখন পলিথিনের জন্য চরম সঙ্কটের মুখোমুখি। বিশ্ব পরিবেশের অংশ এই দেশেও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে এর উৎপাদনসহ যাবতীয় কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আগের সরকারগুলো কড়া অবস্থান নিয়েছিল। উৎপাদন, পাইকারী ও খুচরা বাজারে বিক্রির তৎপরতা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভ‚মিকা লক্ষ্য করার মতো বিষয় ছিল।

এ সরকার একই ভূমিকায় সক্রিয়। তবে কৌশলগত কারণে হোক বা মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তার স্বার্থে হোক, কিছু কিছু ক্ষেত্রে পলিথিনের ব্যবহার একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে ওইসব ক্ষেত্রের পলিথিন নিষিদ্ধও করা যায় না। বিশেষ করে রফতানিমুখী পণ্যে ব্যবহৃত পলিথিন, দেশীয় কারখানার পণ্যে ব্যবহৃত পলিথিন একেবারে বন্ধ করা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন সেটা নয়, সাধারণ মানুষের দাবিও সেটা নয়, আসল প্রশ্ন হচ্ছে সাধারণভাবে নাগরিকরা হাটে-বাজারে যৎসামান্য পণ্য কিনলে সঙ্গে একটা পলিথিন না চাইতে পেয়ে যায়।

এভাবে যত রকমের পণ্য কেনা যায়, সঙ্গে তত পলিথিন বাজারের ব্যবসায়ীরা হাতে ধরিয়ে দেন। আর বড় মার্কেটগুলোয় দামি পণ্যের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত পুরু পলিব্যাগ গুছিয়ে দেন উঁচু শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। ওইসব পলিথিন একসময় আবর্জনা হয়ে বাস্টবিনে যায়। পরিবেশের আসল সমস্যা সৃষ্টি হয় এই দুটি ক্ষেত্র থেকে। আসলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিথিনকে তৈরির অবাধ সুযোগ দিতে গিয়ে, তার স্থলে প্রকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদকারীদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এটা অবাধ করে দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিপূর্ণ কাজ হতে পারে না।

বলা যায়, এই সুযোগে বর্তমানে নিষিদ্ধ শ্রেণীর পলিথিনের অবাধ উৎপাদন, বাজারজাত ও ব্যবহার চলছে। পরিবেশ বাঁচাতে বৈশ্বিক অংশীদারি রাখতে হলে আসলে আমাদের দেশের নিষিদ্ধ পলিথিনের ওই চক্রবন্দি শ্রেণীটাকে কড়াকড়ি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অবাধ সুযোগের কারণে তারা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ভূমিকা রাখতে কুণ্ঠাবোধ করবে না।

হাটে-বাজারে-মার্কেটে গেলে ক্রেতাদের একটা অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে পণ্যের সঙ্গে পলিথিন নেয়া। আসলে ক্রেতা সাধারণেরও দায়িত্ব পলিথিন সম্পর্কে সচেতন হওয়া। সব দায় সরকার, প্রস্তুতকারক কোম্পানি আর ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। ক্রেতা সাধারণকে সচেতন হতে হবে পলিথিন ব্যবহার পরিহার করতে। তাহলেই সবার সম্মিলিত প্রয়াসে রক্ষা পাবে আমাদের এই পৃথিবী।

বাস্তবিক প্রয়োজনে কিছু পলিথিন উৎপাদিত হবে তার মানে এই নয় যে সব শ্রেণীর উৎপাদকরা এই অবাধ স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যাবেন। শুধু মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিছু অর্থদণ্ড করে পলিথিনের ব্যবহার রোধ করা যাবে না। এজন্য সরকারি তৎপরতার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের যেমন নজরদারির আওতায় রাখতে হবে, তেমন সচেতন হতে হবে নাগরিক সমাজকে। তাহলেই যদি মুক্তি পাওয়া যায় মারাত্মক ক্ষতিকর এই পরিবেশ দূষণ থেকে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads





Loading...