কাতারের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস চুক্তি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২২ নভেম্বর ২০২২, ২০:৪৭

কাতারের জ্বালানি কোম্পানি কাতার এনার্জির সঙ্গে গ্যাস (এলএনজি) কেনার চুক্তি করেছে চীনা কোম্পানি সিনোপেক।

কাতার এনার্জির প্রধান সাদ আল-কাবি সোমবার (২১ নভেম্বর) রয়টার্সকে জানান, তার কোম্পানি চীনের সিনোপেকের সঙ্গে ২৭ বছরের চুক্তি সই করেছে। এটি এলএনজি ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।

তিনি বলেন, নর্থ ফিল্প ইস্ট প্রকল্পের জন্য এ চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইকফলক। আমরা আগামী ২৭ বছরে চীনে ৪ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করব। এই রকম দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে সারাবিশ্বেই এলএনজির সংকট দেখা দেয়। যার কারণে স্পট মার্কেটে পণ্যটির দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার মুখে ইউরোপে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে। যার কারণে রাশিয়া ইউরোপে বদলে এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে। রোববার (২০ নভেম্বর) চীনের জেনারেল অ্যাডমিনেস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর মাসে চীনে রাশিয়ার গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

সংস্থাটির তথ্য বলছে, এলএনজির সরবরাহ বার্ষিক পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। আর্থিক হিসাবে যা ১৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া, কাতার এবং মালয়েশিয়ার পরে রাশিয়া বর্তমানে চীনের চতুর্থ বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী। তবে তথ্য বলছে, বছরের প্রথম ১০ মাসে কাতার থেকে চীনের জ্বালানি আমদানি বেড়েছে। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি কমে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে কাতার তাদের এলএনজির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিচ্ছে। যার অংশ হিসেবে দেশটি নর্থফিল্ড গ্যাসক্ষেত্র সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে তাদের এলএনজির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৭৭ মিলিয়ন টন। যা ২০২৭ সাল নাগাদ ১২৬ মিলিয়ন টনে নিয়ে যেতে চায় তারা।

সূত্র: রয়টার্স


poisha bazar