বাজারে ক্রেতা সঙ্কটে পণ্যের দাম কমেছে

বাজারে ক্রেতা সঙ্কটে পণ্যের দাম কমেছে
বাজারে ক্রেতা সঙ্কটে পণ্যের দাম কমেছে - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ মার্চ ২০২০, ১১:১৫

রাজধানী ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি গেছেন অনেকেই। বাকিদের অধিকাংশই মাসের বাজার করে গৃহবন্দি হয়েছেন। ফলে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে লোকসমাগম ছিল সীমিত। এক সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া পণ্যের দামও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, চাল, মুরগি, ডিম, সবজিসহ বেশিরভাগ পণ্যের দাম কমেছে। রাজধানীর মুগদা, বাসাবো, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৫-৮০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেকে নেমেছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম কমেছে দেশি রসুনের। তবে আদা ও আমদানি করা রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০-১৩০ টাকা কেজি। আমদানি করা রসুন আগের মতো ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা কেজি।

পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা আতঙ্কে গত সপ্তাহে মানুষ অনেক বেশি বেশি পেঁয়াজ কেনে। এতে দাম বেড়ে যায়। তবে ভোক্তা অধিদফতর ও র‌্যাবের অভিযানের পর পেঁয়াজের দাম কমতে থাকে। এখন দাম কমে গেলেও আগের মতো ক্রেতা নেই। পেঁয়াজের পাশাপাশি দাম কমেছে গোল আলুর।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮-২০ টাকা। গত সপ্তাহে যা ছিল ২৫-২৮ টাকা। তারা বলেন, পেঁয়াজের মতো আলু কিনেও অনেকে মজুদ করেছে। গত সপ্তাহে আলু কেনার এক ধরনের হিড়িক পড়ে যায়। যে কারণে ১৮ টাকার আলুর দাম ২৫ টাকা ওঠে। তবে এখন কেনার পরিমাণ কমায় দামও কমেছে। সামনে হয় আলুর দাম আরো কমতে পারে।

একইভাবে কমেছে মুরগি ও ডিমের দাম। বাজারে খামারের মুরগির লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। আর সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১১০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছেÑ ১১০-১২০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। একই কথা জানালেন মুরগি ব্যবসায়ীরাও। মানুষ যা কেনার কিনে ফ্রিজে রেখে দিয়েছে। এখন ক্রেতার অভাবে দাম কমে গেছে।

এদিকে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম স্থির রয়েছে। বাজারে এখন সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন আসা সজনের ডাটা। এই সবজিটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা। করলা আগের সপ্তাহের মতো ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ আগের মতো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা পিস। বরবটির কেজি ৪০-৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০-৭০ টাকা।

এছাড়া শসা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, পাকা টমেটো ২০-৪০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি পিস ৩০-৩৫ টাকা, গাজর ২০-৩০ টাকা, শালগম ২৫-৩০ টাকা, মুলা ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৩০-৪০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) আগের মতোই ১৫-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ মাছের দোকান বন্ধ রয়েছে। যারা বাজারে মাছ নিয়ে এসেছেন, ক্রেতা সঙ্কটে মাছ বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এমন অবস্থায় মাছের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি বড় সাইজের রুই মাছ ২৫০ টাকা, ছোট সাইজের রুই মাছ ১৮০ টাকা, টেংরা মাছ ৪৫০ টাকা, সরপুঁটি ১৮০, পাবদা মাছ ৪০০ টাকা ও শিং মাছ ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কমে এসেছে চালের দামও। উন্নত মাসের চিকন চাল সপ্তাহের ব্যবধানে ৩-৫ টাকা কমে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের চাল কেজিতে ২-৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৬ টাকায়। মোটা চালের দাম কেজিতে কমেছে ২-৫ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকায়। তবে এই দাও অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এটি আরো কমা উচিত বলে তাদের মত।

অন্যদিকে আটা, ময়দা, ভোজ্যতেলের দাম আগের মতো থাকলেও ডালের দাম বেড়েছে। ছোট দানার মশুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খিলগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাহফুজ বলেন, বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। বাজার খোলা আছে এবং সবধরনের পণ্যের সরবরাহ আছে। কিন্তু ক্রেতা অনেক কম। করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। সে কারণে হয়তো প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাজারে আসছে না। এমন অবস্থায় আমাদের বেচাবিক্রির অবস্থাও খুব একটা ভালো না।




Loading...
ads






Loading...