• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

পেঁয়াজের ঝাঁজ কমলেও সবজির দাম এখনো চড়া

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৮

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল ও ডিমের দাম কিছুটা কমলেও সব ধরনের সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো সবজির দাম কমেনি বরং কিছু সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে এবং খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ১৪০-১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম কমে ১০০-১২০ টাকা হয়েছে। এ হিসেবে পেঁয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এ ছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রসুনের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।

আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি রসুনের দাম নেয়া হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা প্রতি কেজি। আদার দাম আগের মতোই মানভেদে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা প্রতিকেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ প্রতিদিনই বাড়ছে। এজন্য দামে তার প্রভাব পড়ছে। তবে রসুনের বেশিরভাগ আসে চীন থেকে। চীনের করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ কারণেই আমদানিকারক ও আড়তদাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি কমার সম্ভাবনা নেই বলে তাদের মত। এদিকে লাউ, করলা, টমেটো, শসা, শিম, শালগম, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনে বাজার ভরপুর থাকলেও দাম বেশ চড়া। ফলে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বেশ ভোগাচ্ছে। গত সপ্তাহের মতো এখনো বাজারে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে করলা। তিতা এ সবজিটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। ১০০ টাকার ঘরে থাকা সবজির তালিকায় আরো আছে- লাউ, বরবটি এবং কচুর লতি। বাজার ও আকার ভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-১০০ টাকা পিস। বরবটির কেজি ৮০-১০০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি।

গত সপ্তাহের মতো শসা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা কেজি। পেঁপে ৩০-৫০ টাকা, দেশি পাকা টমেটোর কেজি ৪০-৬০ টাকা। কাঁচা পেঁপে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম ও গাজরের। ভালোমানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপি পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি।

সবজির চড়া বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে বেগুন, মুলা, কাঁচা মরিচের। গত সপ্তাহে ২০-২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুলার দাম বেড়ে ৩০-৩৫ টাকা হয়েছে। ৪০-৫০ টাকার বেগুন দাম বেড়ে ৫০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫-২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার সবজির দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই। দিন যত যাবে সবজির দাম তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মাছ ও মাংসের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছ ২২০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৩০-১৭০, শিং ৩০০-৪৫০, শোল মাছ ৪০০-৭৫০, পাবদা ৪০০-৫০০, টেংরা ৪৫০-৬০, নলা ১৮০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজি। পাকিস্তানি কক ২৩০-২৪০, লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৫৫০-৫৭০ এবং খাসির মাংস ৭০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম হালিতে ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৩ টাকায়।

এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা ভোজ্যতেলের দাম গত সপ্তাহ থেকে কমতে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিনের দাম কমেছে লিটারে ২ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়। আর ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা কমে ৪৬৫ থেকে ৫১০ টাকায়। এক লিটারের বোতল ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা। ডালের দামও কিছুটা কমেছে।

দেশি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, নেপালি ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং বড় দানার ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিনির দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা দরে

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...