সাড়া নেই সরকারের

সাড়া নেই সরকারের
সাড়া নেই সরকারের - সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৫১

সবশেষ গত ৮ মাসের মধ্যে ৬ মাসই তৈরি পোশাক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতি থেকে সেক্টরকে বাঁচাতে চার হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা চান গার্মেন্টস মালিকরা। সরকারের কাছ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।চলতি অর্থবছরে রফতানিতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি আয়করও কমানো হয়েছে। এখন নতুন করে রফতানি পণ্যে স্থানীয় মূল্য সংযোজনের ওপর বিনিময় হারে প্রতি ডলারে পাঁচ টাকা করে চেয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। এ সহায়তার পরিমাণ মোট প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।

গত জানুয়ারিতে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ থেকে এমন একটি আবেদন করা হলেও এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তবে এখনো চ‚ড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজিএমইএর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আসলে আমরা প্রতি ডলারে যে ৫ টাকা করে চেয়েছি, সরকার হিডেন নানা ধরনের ট্যাক্স-ভ্যাট পেয়ে থাকে, এই টাকা তার মধ্যেই চলে যাবে।

আমি মনে করি, এই সুবিধা যারা রফতানি করে তাদের সবারই পাওয়া উচিত। কারণ বিশ্ববাজারে প্রতিদ্ব›িদ্বতা বেড়ে গেছে। আমাদের এখন টিকতে গেলে সরকারের বিশেষ সাপোর্ট দরকার। কারণ দেখেন এখন ‘নেগেটিভ গ্রোথ’ চলছে এই অর্থবছরের ৭ মাসের মধ্যে ৫ মাসেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো পথও এই মুহূর্তে খোলা আছে বলে মনে হচ্ছে না। গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারকরা রফতানির বিপরীতে বিভিন্ন হারে নগদ সহায়তা পেয়ে আসছেন।

চলতি বছর নতুন করে সব ধরনের রফতানিতে এক শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা দেয়া শুরু করেছে সরকার। নগদ সহায়তার ওপর উৎসে করও অর্ধেক কমিয়ে ১০ শতাংশের জায়গায় ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে রফতানিতে উৎসে কর এক শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ (০.২৫%) কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে গার্মেন্টস খাত থেকেই সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ছাড় হবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ফলে রফতানিসহ বিভিন্ন খাতে ছাড় ও অব্যাহতি দেয়ায় সরকারের রাজস্বেও টান পড়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এনবিআরের ঘাটতি প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা। তবে দীর্ঘদিন ধরে একই খাতকে প্রণোদনা দিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সিনিয়র ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, এখন তারা বিশেষ সুবিধা পেলে, কয়েকদিন পর আরেকজন দাবি করবেন।

ফলে রফতানির ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি তৈরি হবে। আসলে একচেঞ্জ রেটটা ঠিক করা দরকার। একটা দেশে একচেঞ্জ রেট নিয়ে বিশৃঙ্খলা থাকলে ঝুঁকি তৈরি হতেই পারে। সরকার যে সুবিধাই দিক, সেটা সবার জন্যই হওয়া উচিত। এতে পোশাক খাতও লাভবান হবে। তিনি যোগ করেন, আশঙ্কা হলো, আমদানিতে এর প্রভাব পড়বে। ভিয়েতনামের দিকে দেখেন, কাঁচামালের জন্য তাদের আমদানি নির্ভরতা ৯০ শতাংশ, যেটি আমাদের দেশে ২৫ শতাংশের মতো। তাই আমদানি ব্যয় বাড়ার চেয়ে আমরা যে রফতানিতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছি তার তুলনা করলে মোটের ওপর ডলারের একচেঞ্জ রেটটা পরিবর্তন করা দরকার।

বিজিএমইএর পাঠানোর চিঠিতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগী সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। গত সাত বছরে ডলারের বিপরীতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মুদ্রার অবমূল্যায়নের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে পোশাক রফতানি কমেছে পৌনে আট শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষার জন্য পোশাক রফতানির স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের ওপর (রফতানি মূল্যের ২৫ শতাংশ) ডলার প্রতি বিনিময় হারে অতিরিক্ত ৫ টাকা করে দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

গত কয়েক মাস ধরে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি কমে গেছে। সর্বশেষ জানুয়ারি মাসেও রফতানি কমেছে। এটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) গার্মেন্টস পণ্য রফতানি কমেছে পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১৫ কোটি মার্কিন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সংসদে বলেছেন, ৬৩টি গার্মেন্টস একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।




Loading...
ads






Loading...