স্বস্তি মিলছে না সবজির দামে

স্বস্তি মিলছে না সবজির দামে

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:২৭

শীত যায় যায় করছে, তবু শীতের সবজি নিয়ে মানুষের আক্ষেপ শেষ হলো না। পুরো শীতজুড়েই বেশি দামে কিনতে হয়েছে সবজি। শীতের শেষে এসে আরো দাম বাড়তে শুরু হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে সবজিভেদে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোটল, চিচিঙ্গা, বরবটি আর কাঁচা মরিচের দাম। একইসঙ্গে দাম বেড়েছে শাক, আদা ও রসুনের।

অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজ, চাল, ভোজ্যতেল, ডাল ও এলাচের দাম কিছুটা কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে সব ধরনের মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো, কারওয়ান বাজার (খুচরা বাজার) ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে পোটল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, উস্তে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

একইসঙ্গে টমেটো ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম (কালো) ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম (সাদা) ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৮০ টাকা, নতুন আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস বাঁধাকপি-ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৭০ টাকায়। দাম বেড়েছে শাকের বাজারেও। প্রতি আঁটি (মোড়া) কচুশাক সাত থেকে ১০ টাকা, লালশাক ১০ টাকা, মুলাশাক ১২ টাকা, পালংশাক ১৫ টাকা, লাউশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে দাম বাড়ার পরে এ সপ্তাহে দাম কমেছে বেশ কিছু পণ্যের। এর মধ্যে দেশি নতুন পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। আমদানিকৃত পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১২০ টাকায়।

তবে আদা-রসুনের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত রসুনের দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি রসুন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আমদানিকৃত আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আদা-রসুনের বড় অংশ আসে চীন থেকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে আমদানি বন্ধ করে দিতে পারে সরকার। এ কারণে সঙ্কটের আশঙ্কায় দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারক ও আড়তদাররা। মাছের বাজারে ইলিশের দাম তুলনামূলক কম। আগের নিম্নমুখী দর রয়েছে বাজারগুলোতে।

বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা ও ৭৫০ গ্রাম ওজনের ৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাচকি ৩০০ টাকা, মলা ৩৫০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩০০ থেজে ৪৫০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মাংস ও ডিম। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৩০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা ও সোনালি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা ও বকরি ৭২০ টাকা কেজি দরে।

গত দুই সপ্তাহ বাড়ার পরে চালের দাম একটু নিম্নমুখী বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। চিকন চাল কেজিতে ২ টাকা কমে ৫২ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই হারে কমে মাঝারি চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়। মোটা চালের দাম আগের মতোই রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads