জনসমাগম আর অফারে উৎসবমুখর বাণিজ্যমেলা

জনসমাগম আর অফারে উৎসবমুখর বাণিজ্যমেলা

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৩৭

এবার বাণিজ্যমেলা শুরুর প্রথম দুই শুক্রবার ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। মেলার তৃতীয় দিন শুক্রবার বৃষ্টি এবং পরের শুক্রবার ১০ জানুয়ারি সরকারি সিদ্ধান্তে মেলা বন্ধ ছিল। ফলে গতকাল শুক্রবারই ছিল মেলার প্রথম শুক্রবার। আবার মাসের মাঝামাঝি হয়ে আসায় লোক সমাগমও প্রচুর। দুই সপ্তাহের অপেক্ষার পর অবশেষে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখা গেছে।

বছরের প্রথম দিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শুরু হয়েছে ২৫তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার মেলা শুরু হয় বুধবার। ব্যবসায়ীরা আশায় ছিলেন তৃতীয় দিন শুক্রবারই জমে উঠবে মেলা। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সে আশায় গুড়েবালি হয়ে যায়। এর পরের শুক্রবার ১০ জানুয়ারি ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের কাউন্টডাউন শুরুর অনুষ্ঠান। এ কারণে মেলা বন্ধ ছিল।

গতকাল মেলার ১৭তম দিন শুক্রবার মেলা মাঠে গিয়ে দেখা যায় লোকেলোকারণ্য। সকাল থেকেই প্রচুর মানুষ লোক সমাগম চোখে পড়ে। সকালে মেলা প্রবেশপথ খুলে দেয়ার আগেই টিকিট কাউন্টারে মানুষের লাইন ছিল চোখের পড়ার মতো। যা বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। আর দুপুর গড়িয়ে গেলে রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয় মেলার মাঠসহ আশপাশের এলাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, লোক সমাগমের পাশাপাশি বেচা-বিক্রিও বেড়েছে।

রাজধানীর মুগদা থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন মাছুমা আক্তার। তিনি বলেন, যানজট আর কর্মব্যস্ততার কারণে অন্যদিন মেলায় আসা হয় না। ছুটির দিন হওয়ায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে মেলায় এসেছি। কেনাকাটার পাশাপাশি একটু ঘোরাঘুরি করব, খাওয়া-দাওয়া করব।

বিক্রির ব্যাপারে স্টাইল কালেকশনের ম্যানেজার হাবিব বলেন, এবারের মেলায় প্রথম দিকে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম ছিল। এখন অনেক ভালো হচ্ছে। দর্শনার্থী বেশি হলে বিক্রি বেশি হয়, এখন মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি।

মেলায় বিভিন্ন স্টলে নানা রকম উপহার ও ছাড়ে পণ্য বিক্রি চলছে। ৪০৫ টাকা মূল্যের বসুন্ধরা নুডলস পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩২০ টাকায়। তা বাদেও এ প্যাকেজের সঙ্গে পাওয়া যাবে ৩টি গিফট। এর মধ্যে আছে একটি ঝুড়ি, একটি টিফিন বক্স আর একটি বাটি।

মিনিস্টার ফ্রিজ কিনলে দেয়া হচ্ছে হরেক রকম উপহার, এর সঙ্গে থাকছে ভ্রমণ টিকিট। ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স পণ্য কিনলেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রার ছাড় ও উপহার। মোবাইল কোম্পানি স্যামস্যাং ছাড়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট অফারও দিচ্ছে।

কাশ্মীরী আচার দিচ্ছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। বিকাশ অ্যাপে কেনাকাটায় ছাড় মিলছে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে গৃহস্থালি পণ্যের বিভিন্ন স্টলে দেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। ননস্টিক কড়াইসহ রান্নার নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৩০ টাকায়। বেøজারেও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে অনেক স্টলে।

মেলায় প্রথম কয়েক দিন বিক্রিতে খরা গেলেও এখন ক্রমেই বিক্রি বাড়ছে। সপ্তাহের অন্যদিন সকাল বেলার দিকে তেমন একটা বিক্রিবাট্টা না হলেও দুপুরের পর থেকেই বিক্রি বেড়ে যায়। আর ছুটির দিন তো সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে বিক্রি। এখন পর্যন্ত ক্রোকারিজ পণ্যই বিক্রিতে শীর্ষে আছে বলে জানান বিক্রেতারা। এরপরই রয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী, পোশাক ও প্রসাধন। এসব স্টলে সবসময় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই আছে। এছাড়া বিক্রি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের।

এ বছর মেলায় ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২১টি দেশ অংশ নিচ্ছে। মেলায় রয়েছে সাধারণ, প্রিমিয়ার, সংরক্ষিত, বিদেশি, সাধারণ মিনি, সংরক্ষিত মিনি, প্রিমিয়ার মিনি, বিদেশি মিনি প্যাভেলিয়ন, সাধারণ ও প্রিমিয়ার স্টল, ফুড স্টল, রেস্তোরাঁসহ ১৩টি ক্যাটাগরিতে ৫৮০টি স্টল।

এ বছরও মেলায় রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ই-শপ, শিশুপার্ক, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, মা ও শিশু কেন্দ্র, ফুলের বাগান ও এটিএম বুথ। ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে মেলা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মেলায় প্রবেশে টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads







Loading...