বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম

নাগালের বাইরে যাওয়ার পরেও প্রতিনিয়ত পেঁয়াজের দাম বাড়ছে

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫০

কার্গো বিমানের মাধ্যমে আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছাবে আগামী মঙ্গলবার। মিসর থেকে এস আলম গ্রুপ এই পেঁয়াজ আনলেও তা সারাদেশে বিক্রি হবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্য সংস্থা টিসিবির মাধ্যমে। বিমানে করে প্রতিদিনই  আসতে থাকবে পেঁয়াজ। এস আলম গ্রুপসহ টিসিবি ও অন্যান্য আমদানিকারক এসব পেঁয়াজ আনছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে সারাদেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০ থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত দামে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, বিমানে প্রথম চালান মঙ্গলবার পৌঁছাবে। এরপর প্রতিদিন এটা আসতে থাকবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এস আলমের কর্মকর্তারা মিসরে আছেন, সেখান থেকে যত বেশি আমদানি করার সম্ভব সেটা তারা করবেন। এই পেঁয়াজ তারা টিসিবিকে দেবে।

টিসিবি সারাদেশে এটি ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করবে। টিসিবি বর্তমানে শুধু ঢাকা শহরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। মঙ্গলবার ওই পেঁয়াজ আসা শুরু হলে বিভাগীয় শহরসহ সারাদেশে ট্রাকে করে বিক্রি শুরু করবে টিসিবি। বিমানবন্দর থেকেই সারাদেশে পেঁয়াজ চলে যাবে বলে তিনি জানান। তবে টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, উচ্চ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত হতে পারে। আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। রোববার অফিসে গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারব।

এর আগে গত শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি তুরস্ক থেকে, এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে, বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো উড়োজাহাজযোগে পেঁয়াজ আমদানি করবে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া সমুদ্রপথে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাংলাদেশের পথে রয়েছে, পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় চালান খুব শিগগিরই বাংলাদেশে পৌঁছবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে টেকনাফ স্থলবন্দর, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজ পরিবহনে কয়েক দিনের জন্য সমস্যা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে উল্লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব কম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে এবং মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর। কেউ পেঁয়াজ অবৈধ মজুত করলে, কারসাজি করে অতি মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে পেঁয়াজের সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা করলে, তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজার মনিটরিং করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বাজার অভিযান জোরদার করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দাম কম ও সহজ পরিবহনের কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে এ বছর ভারতের মহারাষ্ট্র ও অন্য এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ফলন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছুদিন আগে রফতানির ক্ষেত্রে ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস (এমইপি) নির্ধারণ করে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে।

বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়। সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মানবকণ্ঠকে বলেন, দেশে পেঁয়াজের মজুত ও আমদানির প্রকৃত তথ্য কারো কাছে নাই বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। সরকারের উচিত দ্রুত এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা।

 

মানবকণ্ঠ/এসআর




Loading...
ads





Loading...