ঈদ বাজারের শেষ মুহূর্তে ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রির ধূম

ঈদের আগমুহুর্তে ফ্রিজ কিনতে ওয়ালটন শোরুমে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় - ছবি : প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ আগস্ট ২০১৯, ১৯:১৮,  আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৫৫

দুয়ারে কোরবানি ঈদ, ঈদুল আযহা। কোরবানির গোশত সংরক্ষণের চিন্তা সবার মাথায়। তাই ক্রেতারা ছুটছেন ফ্রিজের শো-রুমে। সেরা দামে সেরা মানের ফ্রিজ কিনতে ওয়ালটনের শো-রুমগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। চলছে ফ্রিজ বিক্রির ধূম। ওয়ালটনের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ব্যাপক বিক্রি।

ওয়ালটন ফ্রিজ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ জানান, এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে বাম্পার সেল হচ্ছে। এরইমধ্যে ঈদে ফ্রিজ বিক্রির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে। গত কোরবানি ঈদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি হয়েছে। বার্ষিক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রাও ৮০ শতাংশ পূরণ হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, এবার ঈদে ফ্রিজ বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ওয়ালটনের।

রাজধানীসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বাগেরহাট, বগুড়া, সিলেট, ফেণী, নরসিংদীসহ দেশের অন্যান্য অ লে নিয়োজিত ওয়ালটনের প্লাজা ম্যানেজার, পরিবেশক ও অ ল প্রধানরা জানান, ঈদের আগে ফ্রিজ বিক্রির উতসব চলছে। তাদের মতে, ঈদে সারাদেশে ফ্রিজের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই ওয়ালটন পূরণ করছে।

বিক্রির এই সাফল্যের পেছনে তারা যুক্তি দেখান- বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ উৎপাদন, দামে সাশ্রয়ী, গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড, অসংখ্য যুগোপযোগি বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও মডেল, সহজ কিস্তি সুবিধা, ১ বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির পাশাপাশি কম্প্রেসারে ১২ বছরের গ্যারান্টি সুবিধা এবং সর্বোপরি বিশাল সেলস ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় ফ্রিজ কেনার ক্ষেত্রে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রতিই আস্থা রাখছেন গ্রাহকরা। ঈদ উপলক্ষ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার বা লাখপতি হওয়ার সুযোগসহ নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচার অথবা হাজার হাজার পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ থাকায় ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে আশাতীত। ইতোমধ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার ও লাখপতি হয়েছেন অসংখ্য ক্রেতা।

ফেণীর একাডেমী রোড ওয়ালটন প্লাজা’র ম্যানেজার খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, গত কোরবানি ঈদের চেয়ে ফ্রিজের বাজার এবার বেশ চাঙ্গা। পছন্দের ফ্রিজ কিনতে ক্রেতারা ওয়ালটনকেই বেছে নিচ্ছেন। এমনও হচ্ছে, অনেকে পছন্দের ফ্রিজ ধরে দাঁড়িয়েও থাকছেন।

বাগেরহাটেও ব্যাপকহারে ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান কচুয়ার সরদার ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী এসএম এমদাদুল ইসলাম। এ অ লে তার অধীনে রয়েছেন ৬ জন সাব-ডিলার। তিনি বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজ কিনতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শোরুমে আসছেন ক্রেতারা।
সিলেটেও একচেটিয়া ওয়ালটন ফ্রিজ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান সেখানকার বিক্রেতারা। রাজধানীর শনির আখড়ায় ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ শোরুম

‘ইলেকট্রো ভিশন’ এ ফ্রিজ কিনেন স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী প্রায় সবার ঘরেই ওয়ালটন ফ্রিজ। সেসব ফ্রিজ সার্ভিসও দিচ্ছে ভালো। তাই, নিজেও ওয়ালটন ফ্রিজ কিনলেন।

রাজধানীর জিগাতলায় ওয়ালটন প্লাজা থেকে গত বৃহস্পতিবার একটি ডিপ ফ্রিজ কেনেন রুবি কাওসার। তিনি জানান, দেশে তৈরি ওয়ালটন ফ্রিজের মান অনেক ভালো, দামও কম। বাংলাদেশী হিসেবে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থার কথা জানান তিনি।

কর্তৃপক্ষ জনায়, ফ্রিজ উৎপাদনকারী হিসেবে দেশে একমাত্র ট্রিপল এ রেটেড কোম্পানি ওয়ালটন। আছে বিএসটিআইয়ের ফাইভ স্টার এনার্জি সনদ। কোয়ালিটির জন্য আইএসও ৯০০১:২০১৫, পরিবেশের জন্য আইএসও ১৪০০১:২০১৫ এবং কর্মী নিরাপত্তা, গ্রাহক সুরক্ষায় ওএইচএসএএস ১৮০০১:২০০৭ সনদ পেয়েছে ওয়ালটন। পণ্যের উন্নত পারর্ফমেন্স নিশ্চিত করায় ওয়ালটন পেয়েছে ইএমসি (ইলেকট্রোম্যাগনেটিক কম্পার্টিবিলিটি) সার্টিফিকেট; যা আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, চীনসহ উন্নত বিশ্বে আবশ্যকীয়।

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করায় ওয়ালটন অর্জন করেছে সিবি (সার্টিফিকেশন বডি) সনদ। ইউরোপ, আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানিতে আছে আরওএইচএস সনদ। রয়েছে এসএএসও (সৌদি এরাবিয়া স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন), ইএসএমএ (এমিরেটস অথরিটি ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অ্যান্ড মেট্রোলজি), ইসিএইচএ (ইউরোপীয়ান কেমিক্যাল এজেন্সি), জি-মার্ক (মিডল ইস্ট মার্কেট), সিই-মার্ক (ইউরোপীয় মার্কেট) ইত্যাদি সার্টিফিকেট।

প্রকৌশলীরা জানান, ওয়ালটন এবং মার্সেল রেফ্রিজারেটরে ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। এসব ফ্রিজে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বস্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর ৬০০অ রেফ্রিজারেন্ট। নিজস্ব কারখানায় উচ্চমানের টেম্পারড গ্লাস তৈরি হচ্ছে গ্লাসডোর ফ্রিজ। ন্যানো হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি, ডিরেক্ট ইভাপোরেটিভ কুলিং সিস্টেম (ডিইসিএস), ওয়াইড ভোল্টেজ রেঞ্জ, কুল প্যাক (বিদ্যুৎ ছাড়াই ফ্রিজের অভ্যন্তর দীর্ঘক্ষণ ঠাণ্ডা রাখার প্রযুক্তি), এন্টি ফাংগাল গ্যাসকেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উচ্চমানের উপাদান ব্যবহারের ফলে ওয়ালটন এবং মার্সেল ফ্রিজ টেকসই, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যসম্মত।

জানা গেছে, এবার ঈদে ১০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি করতে যাচ্ছে ওয়ালটন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। চলতি মাসেই তারা সাড়ে চার লাখ ফ্রিজ এবং এসির রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে। গত মাসে রপ্তানি হয়েছে ইয়েমেন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ফ্রিজ বাজারে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত অগ্রসরমান ব্র্যান্ড ওয়ালটন। পৃথিবীর আর কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যই দেশ-বিদেশে এতো দ্রুত গ্রাহকপ্রিয় হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...