প্রস্তুত শোলাকিয়া


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৩ জুন ২০১৯, ১৪:৩৯

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারো অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত। ইতিমধ্যে ১৯২তম জামাত উদযাপনের লক্ষ্যে ঈদগাহ মাঠের যাবতীয় প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে। মাঠের মুসুল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার যাবতীয় বিষয় তদারকি করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ। প্রতিবছর এ জামাতে তিন লক্ষাধিক মুসুল্লী এক সাথে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন, যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এর সাথে ছড়িয়ে পড়ছে মাঠের সুনাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আকর্ষন। একই সাথে এ বিশাল জামাত গৌরবান্বিত ও ঐতিহ্যবাহী করেছে কিশোরগঞ্জ বাসীকে।

এরইমধ্যে ঈদুল ফিতরের জামাতকে ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহর এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান, আরআরএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় হাজারের মতো সদস্য দিয়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হবে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানকে। ঈদগাহ ময়দানের বাইরে, ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ঈদগাহ ময়দান, আশেপাশের এলাকা এবং অলিগলিসহ মাঠ সংলগ্ন চারপাশের এলাকা নিয়ে আসা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আওতায়। মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হবে ঈদগাহ ময়দানে। এর আগে আরো অন্তত কয়েক দফা মেটাল ডিটেক্টরে মুসল্লিদের দেহ তল্লাসি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ নিয়ে ঈদগাহে আসার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে কোন ঝুঁকি দেখছেন না সংশ্লিষ্ঠরা।

গত শুক্রবার শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামাতের নিরাপত্তায় অন্যান্য বাহিনীর মতো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে এলিট ফোর্স র‌্যাব। এছাড়া এবারই প্রথমবারের মতো র‌্যাবের নিরাপত্তা বহরে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক স্নাইপার রাইফেল। মাঠে স্থাপন করা ওয়াচ টাওয়ারে স্নাইপাররা অবস্থান নিবেন। দূরবর্তী কোনো স্থানে যদি কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চোখে পড়ে সেক্ষেত্রে ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান নেয়া স্নাইপাররা স্নাইপিং রাইফেল দিয়ে ব্যবস্থা নেবে।

ঈদ জামাত: প্রতি বছর ১লা শাওয়াল ও ১০ই জিলহজ্জ যথাক্রমে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহের জামাত শুধু দেশের নয় উপমহাদেশের ও বৃহত্তম ঈদ জামাত হিসেবে বিবেচিত। হারমাঈন শরীফাঈনের পর শোলাকিয়া ঈদগাহে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

মাঠের জমির পরিমান: শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। মসনদ-ঈ-আলা ঈশাখাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খানের উত্তরসুরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ করে দেন। এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমান হয়েছে ৬.৬১ একর। অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও প্রস্রাবখানা মিলিয়ে মাঠের সর্বমোট পরিমান প্রায় ৭ একর। মাঠ প্রবেশের মূল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে।

ঈদগাহের নামকরণ: শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরাতন জনবসতি এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়ীয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব উত্তরকোনে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া এলাকাটির অবস্থান। জনশ্রুতি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথম বড় জামায়াতে সোয়ালাখ মুসুল্লী অংশ গ্রহন করেছিলেন। অন্য মতে মূঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমান ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখ থেকে সোয়ালাখিয়া, সেখান থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামের উৎপত্তি।

ঈদগাহের ইতিহাস: দেওয়ান মান্নান দাদ খান যে জমি ১৯৫০ সনে ওয়াকফ করেছেন, সে ওয়াকফ নামায় ১৭৫০ ইং সন থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত হয়ে আসছে বলে লিখা আছে। সে হিসেবে মাঠের বর্তমান বয়স ২৬৮ বৎসর। এছাড়া জানা যায় যে, ১৮২৮ ইং থেকে জঙ্গলবাড়ীর জমিদার এ মাঠে নামাজ পড়তে শুরু করেন। তখন থেকে বড় জামাত শুরু হয়। সে হিসেবে আগামী ১লা শাওয়াল শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯২তম বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদগাহ পরিচালনা: ১৯৫০ সন থেকে ওয়াকফের দলিল মূলে হয়বতনগর জমিদার বাড়ীর দেওয়ান মান্নান দাদ খান থেকে বংশানুক্রমিক জৈষ্ঠ্য পুত্রগণ শোলাকিয়া ঈদগাহের মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দেওয়ান ফাত্তাহ দাদ খান মঈন মোতাওয়াল্লী ও দেওয়ান মোঃ রউফ দাদ খান নায়েবে মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি মাঠ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

ঈদগাহের ইমাম: ১৮২৮ সনে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় জামায়াতের ইমামতি করেন সুফি সৈয়দ আহমদ। বরকতময় শোলাকিয়া ঈদগাহে যুগে যুগে খ্যাত নামা আলেমগণ ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবার ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর মহাসচিব, এনজিও ব্যক্তিত্ব মাওলানা মোঃ ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

ঈদগাহের মুসুল্লী: ২৬৫টি কাতার সম্বলিত শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসুল্লীর সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসুল্লী যতবেশী হয় ছওয়াব ও তত বেশী হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামায়াতে জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসুল্লীর সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশ গ্রহন করেন।পার্শ্ববর্তী ভারত,পাকিস্তান ও মায়ানমারসহ বিদেশী তাবলীগ জামাতের ধর্মপ্রান মুসলমানগণ এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। জামাত শুরুর মুহুর্তে মাঠের অনুচ্চ প্রাচীরের বাহিরের সড়ক, নদীর পাড় এবং আশপাশ এলাকায় মুসুল্লীদের কাতার ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অংশ নেয়া মুসুল্লীর সংখ্যা তিন লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। জামাতের সাথে সাথে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উক্ত মেলায় বেতের সুন্নতী লাঠি বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসুল্লীদের আকৃষ্ট করে থাকে।

ঈদগাহের সমস্যা, উন্নয়ন ও প্রস্তাব: আড়াইশত বৎসরের পুরাতন শোলাকিয়া ঈদগাহটি ঐতিহ্যের তুলনায় উন্নয়ন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। কিশোরগঞ্জের সুশীল সমাজ ঈদগাহের সম্মুখস্থ পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন গরুর হাটটি মাঠের অনুকূলে ব্যবহার ও বরাদ্দের দাবী জানিয়ে আসছেন। কমিটির কার্যক্রম শুধু ঈদ কেন্দ্রীক হওয়ায় সারাবছর রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে কোন তৎপরতা থাকে না। শোলাকিয়া ঈদগাহকে শোলাকিয়া আন্তর্জাতিক ঈদগাহ নামকরণ এবং মুসুল্লীদের সুবিধার্তে পূর্ব দিকে মাঠের পরিসর বৃদ্ধিসহ উন্নয়নের দাবী দীর্ঘদিনের।

সময় ঘোষনা: ঈদের জামাত শুরু হওয়ার ৫ মিনিট পূর্বে ৩টি, ৩ মিনিট পূর্বে ২টি এবং ১ মিনিট পূর্বে ১টি শটগানের গুলি ফুটিয়ে আওয়াজ করা হয়। দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ অনুযায়ী। সকাল ১০টায় জামাত অনুষ্টিত হয়।

সময়ের দাবী: বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও এ ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবী শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে তোলার।

শোলাকিয়া এক্সপ্রেস স্পেশাল ট্রেন: ঈদ-উল-ফিতরের দিন শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহনে ইচ্ছুক মুসুল্লীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২টি স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) ভৈরব থেকে ছেড়ে আসে সকাল ৬টায় কিশোরগঞ্জ পৌছে সকাল ৮টায়। কিশোরগঞ্জ-ভৈরব (স্পেশাল) কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২টায় ভৈরব পৌছে বেলা ১৪টায়। আবার অপর দিক থেকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসে সকাল ৫.৪৫ মিনিটে, কিশোরগঞ্জ পৌছে সকাল ৮.৩০ মিনিট। কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ (স্পেশাল) কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায় দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহে পৌঁছে বিকাল ১৫টায়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ঐতিহাসিক এ মাঠে লক্ষ লক্ষ মুসুল্লীদের নামাজ আদায়ের যাবতীয় প্রস্তÍতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ওযুখানা থেকে শুরু করে বিদেশী ও দুর-দুরান্ত মুসুল্লীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠের চতুর পাশে সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষনিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে রোববার (২ জুন) সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক আরো জানান, ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মাঠের নিরাপত্তায় র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সুষ্ঠুভাবে ঈদজামাত আদায়ের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ ফোর্সকে আইনগত দিকনির্দেশনা দেয়াসহ ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল দায়িত্ব পালনের জন্য ঈদগাহ মাঠের বিভিন্ন পয়েন্ট ও এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গৃহীত প্রস্তুতির বিবেচনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এবারো উৎসবমুখর পরিবেশে সুন্দর ও সুচারুভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী দেশবাসীকে ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ার ঈদজামাতে অংশ নেয়ারও আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) সহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এদিন পৌরমেয়র মাহমুদ পারভেজও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিদর্শন করেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জানান,শান্তিপূর্ণভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠের বাইরে, মাঠের ভেতরে ও প্রবেশ পথে চার স্তরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানকে ঘিরে গড়ে তোলা হচ্ছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এবারো যুক্ত থাকছে ড্রোন। মাঠ ও মাঠের আশপাশ এলাকায় ড্রোনে পর্যবেক্ষণ ছাড়াও ঈদগাহ ময়দানের বাইরে, ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান, আশেপাশের এলাকা এবং অলিগলিসহ মাঠ সংলগ্ন চারপাশের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আসা হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আওতায়। মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। এর চারটিতে পুলিশ বাহিনী ও দুইটিতে র‌্যাব বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ঈদজামাতের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তদারকি করবেন। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ। সার্বিক প্রস্ততির বিবেচনায় নির্বিঘ্নে শোলাকিয়ায় মুসল্লিগণ ঈদুল ফিতরের জামাত আদায় করতে পারবেন বলে পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাঠের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহদী হাসান জানান, ইতিমধ্যে মাঠ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ নির্দিষ্ট পরিমাণ কাতারের দাগ কাটানো হয়েছে। মিম্বর ও মাঠের চার পাশে আলোকসজ্জাকরণ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads




Loading...