জীবনের চেয়েও কি আইপিএল বড়?


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৬ এপ্রিল ২০২১, ১৬:৪৭

ভারতে করোনা মহামারী জেঁকে বসেছে। প্রতিদিন রেকর্ড সংখ্যক হারে বাড়ছে কোভিডে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটির প্রধান দুই শহর দিল্লি-মুম্বাইয়ের অবস্থা তো খুব ভয়াবহ। গণচিতা করে দাহ করা হচ্ছে অনেককে।

এমন দুর্যোগ সামাল দিতে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যে সরকার, সেখানে মহাসমারোহেই চলছে দুনিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল। করোনায় মানুষ যখন ধুঁকে ধুঁকে মরছে, তখন এই ক্রিকেট বিনোদন চালু রাখার কোনো মানেই খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকে।

সোমবার অন্যান্য দিনগুলোর মতো ভারতে আবারো সংক্রমণ-মৃত্যুতে নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য দেয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, রোববার ভারতে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩১ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ হাজার ৮০৬ জন। ভারতে গত পাঁচ দিন ধরেই তিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আর ছয় দিন ধরে ভারতে দুই হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন।

দুই ব্যস্ততম শহরের যখন এই হাল, তখন ভয়ে অনেকেই নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন আইপিএল থেকে। এরই মধ্যে এই কঠিন সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে আসর থেকে সাময়িক বিরতিতে চলে গেছে দিল্লি ক্যাপিটালসের ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

শুধু অশ্বিন নন আরো বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার নিজ নিজ দেশে ফিরতে এরই মধ্যে নাকি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে তিন অস্ট্রেলিয়ান-রাজস্থান রয়্যালসের অ্যান্ড্রু টাই এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর পেসার কেন রিচার্ডসন এবং লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পা দল ত্যাগের অনুমতি পেয়ে গেছেন।

জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠিন বেড়াজালে থাকতে না পেরে গেল সপ্তাহে আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন রাজস্থানের ইংলিশ ব্যাটসম্যান লিয়াম লিভিংস্টোন। টুর্নামেন্ট তার সূচি মেনে চলতে থাকায় এবং করোনার কারণে একে একে খেলোয়াড়রা এভাবে দল ছাড়তে থাকায় সমস্যায় পড়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও।

রাজস্থান তো এরই মধ্যে ইনজুরি ও করোনার কারণে ৮ বিদেশির মধ্যে চারজনকে হারিয়েছে। আইপিএলের নিয়ম মেনেই তাই বাংলাদেশি তারকা মুস্তাফিজুর রহমানের দলটি বাকি ফ্র্যাঞ্চাইগুলোর কাছে ধারে খেলোয়াড় পেতে চিঠি দিয়েছে।

তবে কথা হচ্ছে, আইপিএল কি জীবনের চেয়েও বড়? নাকি এর চেয়ে দামি? সেটা তো কখনই না। তবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) বিশাল একটা আয়ই আসে এই টুর্নামেন্ট থেকে। তাই তো দেশের মানুষ যখন গণহারে মৃত্যুবরণ করছে, সে সময় ক্লোজ ডোর ম্যাচ আয়োজনে ব্যস্ত আয়োজকরা।

বিসিসিআইয়ের এমন আচরণে সবাই অবশ্য মুখ বুজে থাকেননি। ভারতের হয়ে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে একমাত্র সোনাজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রা প্রশ্ন তুলেছেন বিসিসিবির এমন আচরণ নিয়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ লেখা কলামে আইপিএল নিয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে বিন্দ্রা তার ক্ষোভ ঝেরেছেন এভাবে, ‘ক্রিকেটার এবং অফিসিয়ালরা জৈব সুরক্ষিত পরিবেশের মধ্য থেকে বধির কিংবা অন্ধের মতো আচরণ করতে পারে না যে বাইরে কী ঘটছে সেটা তারা জানেই না কিংবা টের পাচ্ছে না।

আমি তো দেখছি আইপিএলের ম্যাচগুলো যখন হচ্ছে, তখন স্টেডিয়ামের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে। জানি না টিভিতে কেমন কাভারেজ দিচ্ছে, তবে আপাতত এসব নিয়ে একটু চুপচাপ থাকাই ভালো। যা সমাজের বর্তমান অবস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়েই করা উচিত।’



poisha bazar

ads
ads