নিষেধাজ্ঞামুক্ত বিশ্বসেরা সাকিব

- ফাইল ছবি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৫

বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়েছে। আজ ২৯ অক্টোবর থেকেই মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকবে না তার। এক বছরের শাস্তি ভোগ করে এখন সবধরনের ক্রিকেট খেলার জন্য মুক্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথন গোপন করার অপরাধে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসান। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তার উপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়। বাকি এক বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয় সাকিবকে।

গত এক বছরে তিন সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩৬টি ম্যাচের বাইরে থাকার কথা ছিল সাকিবের। তবে মার্চের মাঝামাঝি করোনাভাইরাসের কারণে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর বেশির ভাগ ম্যাচই হয়নি। বাংলাদেশ দলকেও তাই খুব বেশি ম্যাচে সাকিবের অভাব অনুভব করতে হয়নি। সাকিব নিষিদ্ধ থাকার সময়ে বাংলাদেশ দল খেলেছে ৪টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ৭টি টি-টোয়েন্টি।

১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৫ দলের ঘরোয়া টি টোয়েন্টির আসর। এ আসর দিয়েই এক বছর পর ক্রিকেটে ফিরবেন সাকিব। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও সেখান থেকেই খোঁজ রাখছেন এই টুর্নামেন্টের। টুর্নামেন্টে খেলতে এ মাসের শেষে না হলেও আগামী মাসের শুরুতে সাকিব দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। নির্বাচকেরাও তাকে রেখেই দল গড়ছেন।

আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটের (এসিইউ বা আকসু) ২.৪.৪ অনুচ্ছেদের মধ্যেই তিনটি অপরাধ করেছিলেন সাকিব। যেগুলো হচ্ছে :

১. ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের যে ত্রিদেশীয় সিরিজ হয়েছিল, অর্থাৎ ২০১৮ আইপিএলে প্রথম ম্যাচ গড়াপেটার (ফিক্সিং) প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটকে (এসিইউ) বিস্তারিত কোনো কিছুই জানাননি।

২. একই ধারার অধীনে অপরাধ : ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ই আরো একটি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু তখনো সে বিষয়ে সাকিব আইসিসিকে অবহিত করেননি।

৩. একই ধারার অধীনে অপরাধ : ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচেও ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু সে বিষয়েও তিনি আইসিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন সংস্থাকে কিছুই জানাননি।

নিষেধাজ্ঞায় থাকাকালীন বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রেই কাটিয়েছেন সাকিব। সেখানেই স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। দুই মেয়ে আর পরিবারকে নিয়ে সময় কাটিয়েছেন সাকিব।

শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে ফিরবেন বলে মাঝে দেশে ফিরেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসে বিকেএসপির মাঠে নিবিড় অনুশীলনও করেন বাংলাদেশের বিশ্ব তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আবারও যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে চলে যান সাকিব। তবে সাকিবের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি লিগ। ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়েই ফের বাইশ গজে ফিরবেন বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads