আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সাকিব!


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৭,  আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৫২

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও বোর্ডের দুর্নীতি দমন বিভাগকে না জানানোর অভিযোগে আইসিসির দেয়া সব ধরনের ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ২০১৯ সালের এই দিনে এক বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি পান তিনি। সে হিসেবে আজই তার শাস্তি শেষ হচ্ছে। তাই বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নামতে আর কোনো বাধা থাকবে না তার।

আন্তর্জাতিক দুটি ম্যাচ ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একটি ম্যাচে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও ম্যাচ ফিক্সিং করেননি সাকিব। কিন্তু জুয়াড়িদের দেওয়া প্রস্তাব গোপন করেছিলেন এ তারকা। যে কারণে এক বছর সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন এ তারকা। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবারই মুক্তি পেতে যাচ্ছেন এ তারকা। আর তাই সাকিব মাঠে নেমে যেতে পারেন আগামী মাসের মাঝামাঝি শুরু হতে যাওয়া বিসিবির পাঁচ দলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিয়েই। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও সেখান থেকেই খোঁজ রাখছেন এই টুর্নামেন্টের। টুর্নামেন্টে খেলতে এ মাসের শেষে না হলেও আগামী মাসের শুরুতে সাকিব দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে। নির্বাচকেরাও তাঁকে রেখেই গড়ছেন দল। কাল বিসিবির পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন, ‘বিসিবি চায় সাকিব যত দ্রুত সম্ভব খেলায় ফিরুক। এই মুহূর্তে আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই। তবে পাঁচ দলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে সাকিব খেলবে।’

সাকিব ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে। সে বছর আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ-কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের ম্যাচেও একই অপরাধ করেন সাকিব, ভাঙেন আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪. ৪ ধারা।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব সাকিবকে তিনবারই দিয়েছিলেন দীপক আগারওয়াল নামের ভারতীয় এক বাজিকর। তার সঙ্গে সাকিবের তিনবার যোগাযোগ হওয়ার প্রমাণ পায় আইসিসি। গত বছরের ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট দুই দফা তারা সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সাকিব ভুল স্বীকার করলে ২৯ অক্টোবর আইসিসি তাকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বছরটি ছিল স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রথম বছরে আইসিসির আর কোনো আইন না ভাঙায় পরের এক বছরের শাস্তি থেকে সাকিব রেহাই পাবেন।

এক বছর নিষিদ্ধ হওয়ায় সাকিবের ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিস করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে বেশির ভাগ ম্যাচই খেলা হয়নি। তাই বাংলাদেশকে বেশি ভুগতে হয়নি তাকে ছাড়া। সাকিব নিষিদ্ধ থাকার সময়ে বাংলাদেশ দল খেলেছেই মাত্র ৪টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও ৭টি টি-টোয়েন্টি।

আপাতত সাকিব রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে। গত এক বছরের বেশিরভাগ সময় সেখানেই ছিলেন এ তারকা। তবে করোনাকালে বিভিন্নভাবে মানব সেবায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। মাঝে অবশ্য এ তারকা অনুশীলনের জন্য ফিরেছিলেন দেশে। সব কিছু ঠিক থাকলে শ্রীলঙ্কা সফরের দ্বিতীয় টেস্টেও মাঠে নেমে যেতে পারতেন। কিন্তু করোনার কারণে টাইগারদের লঙ্কা সফর বাতিল হওয়ায় সাকিব ফের পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তবে শোনা যাচ্ছে আগামী মাসের শুরুর দিকেই ফিরবেন এ অলরাউন্ডার। খেলবেন কর্পোরেট টি-টোয়েন্টি লিগে।






ads