এমন হার মানতে পারছেন না ফ্লেমিং


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১৬:৪০

ভাগ্যিস স্যাম কারান ছিলেন। নয়তো মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে এক শ রানও করা সম্ভব ছিল না চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে। আইপিএলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই—অথচ শারজায় শুক্রবার বিন্দুমাত্র লড়াইও করতে পারল না চেন্নাই। ৩০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ৮১ রানে নেই ৮ উইকেট।

সেখান থেকে কারানের ৫২ রানই চেন্নাইকে ১১৪ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। সেই রান তাড়া করে মুম্বাই জেতে কোনো উইকেট না হারিয়েই। ৪৬ বল বাকি থাকতেই ডি ককের ৪৬ এবং ঈশান কিষাণের মাত্র ৩৭ বলে খেলা ৬৮ রানের ইনিংস মুম্বাইকে বড় জয় এনে দেয়।

এমন হারের পরও ম্যাচ শেষ হতে মহেন্দ্র সিং ধোনির মুখে মুচকি হাসি। সেটাই বলে দিচ্ছিল চেন্নাই এবারের আসরে কতটা অসহায়। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে এদিন ব্যাটিং অর্ডারের চেন্নাইয়ের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই দ্বিতীয় অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই বিদায় নেন। পাওয়ার প্লের প্রথম তিন ওভারে নেই ৪ উইকেট। স্কোরবোর্ডের অবস্থা তখন ৩-৪! আইপিএলের অন্যতম সফল এই দলের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের কাছে সবকিছুই যেন তাই অবাক লাগছে।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আসর জুড়েই আমরা কেমন খেলেছি তার প্রতিফলন ওই পাওয়ার প্লের ৬ ওভার। নিজেদের ব্যাটিং দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি। খেলার ফলাফল সেখানেই নির্ধারিত হয়ে যায়। আমরা দলে কয়েক জন তরুণকে সুযোগ দিয়েছিলাম। বোঝাই যাচ্ছে সেটা একেবারেই কাজে দেয়নি।’

অভিজ্ঞরা বারবার ব্যর্থ হওয়াতেই তরুণদের মুম্বাইয়ের বিপক্ষে বাজিয়ে দেখে চেন্নাই। শেন ওয়াটন-কেদার যাদবদের পরিবর্তে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, নারায়ন জগদীশান সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। অথচ মুম্বাইয়ের নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মা দলেই ছিলেন না। কাইরন পোলার্ড দায়িত্ব পেতেই ট্রেন্ট বোল্ট, জসপ্রীত বুমরাহদের দিয়ে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাইয়েছেন ধোনি বাহিনীকে। কারানকে বেশ কয়েক ম্যাচ ওপেনিংয়ে পাঠিয়েছিল চেন্নাই। এদিন আবার ঋতুরাজ ফ্যাফ ডু প্লেসির সঙ্গে ইনিংস ওপেন করে। তবে সে টোটকা কাজেই লাগেনি। ঋতুরাজ ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন।

ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন নিয়ে ফ্লেমিংয়ের ব্যাখ্যা, ‘এখানকার পিচ প্রায় প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। আমরা নিজেদের খেলা নিয়ে পজিটিভ থাকতে চেয়েছিলাম। তাই ফ্যাফের সঙ্গে ঋতুরাজকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। তবে এটাও ঠিক যে আমাদের স্পিনাররা একেবারেই ভালো বল করতে পারেনি। আসলে আমরা যা করতে চেয়েছি সবই তার উল্টো হয়েছে।’

মুম্বাইয়ের পেসাররাই এদিন ধসিয়ে দেয় চেন্নাইয়ের ব্যাটিং অর্ডার। কিউই পেসার বোল্ট ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। বুমরাহ ২৫ রানে ২ উইকেট। নাথান কুল্টার-নাইলও ১টি উইকেট পান। বাকি দুই উইকেট স্পিনার রাহুল চাহারের। তাদের নৈপুণ্যেই অধিনায়ক হিসেবে টানা ১৫ জয় দেখার পর পোলার্ড বলেন, ‘ধন্যবাদ গুনে (জয়সংখ্যা) রাখার জন্য। আমি গুনিনি। অধিনায়কত্ব ক্রিকেটেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের (চেন্নাই) এক শর আগেই আটকে রাখতে চেয়েছিলাম। স্যামের জন্য হয়নি। দ্রুত দুই-তিন উইকেট আপনাকে এমনিতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। সেখানে চার-পাঁচ উইকেট অবিশ্বাস্য। আর ওপেনাররা নিজেদের কাজ দারুণভাবে শেষ করেছে।’






ads