রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখল উইন্ডিজরা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৩ জুলাই ২০২০, ১৬:৫২

দুই শ বা তার কম রান তাড়া করে টেস্ট হারার রেকর্ড কখনই ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সাউদাম্পটন টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০০ রান তাড়া করতে নামা ক্যারিবিয়ানদের এই ইতিহাস দিচ্ছিল বাড়তি অনুপ্রেরণা। তাতে ভর করেই কিনা এক সময় খাঁদের কিনারায় থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৪ উইকেটে হারাল। সেই সঙ্গে পোক্ত করল রেকর্ডটিও। এ নিয়ে ৬১ বার দুই শ বা এর কম রান তাড়া করে অপরাজিত থাকল ক্যারিবিয়ানরা। সাউদাম্পটন নিয়ে জয় নিয়ে জয় বেড়ে দাঁড়াল ৫৫-তে। বাকি ৬ ম্যাচ ড্র।

টেস্টের পঞ্চম দিনে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৩ রানে গুটিয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০০ রান। লক্ষ্য ছোট হলেও রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে রস্টন চেজ ও জারমেইন ব্ল্যাকউড প্রতিরোধ গড়েন।

জফরা আর্চারের তৃতীয় শিকার হয়ে চেজ ৩৭ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরলেও বাহারি সব শটে ব্ল্যাকউড খেলেন ম্যাচ উইনিং ৯৫ রানের চমত্কার এক ইনিংস। দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে না পারলেও জেসন হোল্ডার সেই কাজ সারেন। ম্যাচ সেরা হন দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নেয়া শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

ইনজুরির কারণে প্রায় ১২ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেই বল হাতে ম্যাচের নায়ক গ্যাব্রিয়েল। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ফাইফার তুলে নেন এই ত্রিনিদাদে জন্ম নেয়া এই ফাস্ট বোলার। ম্যাচ শেষে যারপরনাই উইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্দনায় মাতেন।

অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডকে হারানো ছিল হোল্ডারের ১১তম টেস্ট জয়। ব্রায়ান লারার অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছিল ১০টি টেস্ট। কিংবদন্তি লারাকে পেছনে ফেলার দিন হোল্ডার জয়ের কৃতিত্ব দিলেন দলের সবাইকে। বিশেষ করে ম্যাচসেরা গ্যাব্রিয়েলকে।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘শ্যানন যা করেছে তা চমকপ্রদ নয়। সে হলো ওই ধরনের বোলার যারা কিনা এ রকম পারফর্ম করে যায়। ওর অনেক সাহস। ছন্দময় বোলার ও। আমি জানি শ্যানন কীসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। ওর পুনর্বাসনের সময়ে আমাদের যোগাযোগ ছিল। এক সময় হতাশও হয়ে পড়েছিল কিন্তু হাল ছাড়েনি। আমরা জানতাম শ্যানন যখন ফিট ও সুস্থ থাকবে, তখন সে আমাদের কাজে আসবে এবং কঠিন সময়ে সাহায্য করবে।’

জো রুট পারিবারিক কারণে ছুটিতে থাকায় এই টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক বেন স্টোকস। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে ৮৯ রানের পাশাপাশি বল হাতে ৬ উইকেট পকেটে পোরেন তিনি। নিজের দারুণ ফর্ম ধরে রাখল অধিনায়কত্ব যে বাড়তি এক চাপ তা সরাসরি শিকার করে নিলেন স্টোকস।

তিনি বলেন, ‘শেষ রাত ছিল এমন একটি রাত, যে রাতে আমাকে ঘুমাতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। কারণ, আমার ভাবনায় শুধুই ছিল কীভাবে এই ম্যাচ শেষ হবে। এখন বুঝতে পারছি কেন রুট নিদ্রাহীনতায় ভোগে। ওকে প্রত্যেক ম্যাচ নিয়েই ভাবতে হয়। তবে আমি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়ে খুবই আনন্দিত ছিলাম।

স্টোকসের ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বা অধিনায়কত্ব- ইংল্যান্ডের হারের পেছনে এই দুটো কারণ সামনে আসার মতো না। তবে ম্যাচের আগে বিতর্কিতভাবে স্টুয়ার্ট ব্রডকে একাদশ থেকে বাদ দেয়া পছন্দ হয়নি অনেকেরই। যে কারণে সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে স্টোকসকে।

২০১২ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠের কোনো টেস্ট থেকে বাদ পড়েছেন ব্রড। তাও যখন দারুণ ফর্মে আছেন এই ফাস্ট বোলার। গেল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ব্রড।

তবে এতকিছুর পরেও নিজের নেয়া সিদ্ধান্তে সঠিক বলে মনে করছেন স্টোকস, ‘আমি এখনো আমার সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করছি। যদি আমি নাই করি, তবে দলে থাকা ক্রিকেটারদের কাছে কেমন বার্তা যাবে? স্টুয়ার্টের মতো কাউকে দল থেকে বাদ দেয়া আসলেও কঠিন সিদ্ধান্ত।’





ads






Loading...