আইসিসির কোর্টে বল ঠেলল বিসিবি


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৮ জুন ২০২০, ২০:৪০

বেশি বেশি টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপ বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার সূচনালগ্ন থেকেই। সেই আক্ষেপ টাইগাররা ঘোচাতে পারত এ বছর।

এফটিপি সূচি অনুযায়ী, চলতি বছর সর্বাধিক দশটি টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু মাঝখানে খলনায়ক হয়ে দাঁড়াল করোনা ভাইরাস। যে কারণে চলতি বছর, দশ টেস্টের মধ্যে মাত্র দুটি খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্চে টাইগাদের। বাকি আটটি টেস্ট যোগ দিয়েছে স্থগিতের মিছিলে।

এ ম্যাচগুলো কবে আয়োজন হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই ব্যাপারে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির কোর্টেই বল ঠেলে দিয়েছে তারা। কেন না ম্যাচগুলো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেরই অংশ।

টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে, গত বছরের আগস্টে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৯ দেশকে নিয়ে শুরু হয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। যা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী বছর জুনে। কিন্তু গত চার মাসে শুধু বাংলাদেশেরই নয় বাকি সব টেস্ট খেলুড়ে দেশেরই বেশ ক’টি সিরিজ স্থগিত হয়েছে। সেই সিরিজগুলো মাঠে গড়াতে হলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সীমা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছেন না বিসিবি ক্রিকেট অপারেশনসের চেয়ারম্যান আকরাম খান।

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে আকরাম খান বলেছেন, ‘বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সীমা যদি বাড়ানো না হয় তাহলে সেই আটটি টেস্ট ম্যাচ প্রথম চক্রে খেলার কোনো উপায় নেই। আমরা অপেক্ষা করছি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে কি করে সেটা দেখার জন্য। কারণ এর সূচিতে রদবদল না আনা হলে সেই স্থগিত হওয়া আটটি টেস্ট ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুব কম।’

২২ বছর আগে ইউনাইটেড ক্রিকেট বোর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিমো আলী বাশের, ক্লাইভ লয়েড ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী আইসিসির কাছে টেস্ট বিশ্বকাপের প্রস্তাব করে। পরবর্তীতে এ নিয়ে আরো অনেক ধারণা আসে। অবশেষে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট আইসিসি ২ বছরব্যাপী প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করে। যেটি এজবাস্টনে অ্যাশেজের মাধ্যমে শুরু হয়।

এই চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে শীর্ষ ৯টি টেস্ট খেলুড়ে দেশ দুই বছরে ৬টি টেস্ট সিরিজ খেলবে। যেখানে তিনটি দেশে ও তিনটি দেশের বাইরে। আর সবমিলিয়ে হবে ২৭টি সিরিজ, যেখানে ৭১টি ম্যাচের ব্যবস্থা থাকবে। এখান থেকে শীর্ষ দুই পয়েন্ট অর্জনকারী দেশ ফাইনাল খেলবে। যা ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ের মধ্যে সবগুলো ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না সেটি দৃশ্যমান।

আকরাম খানের মতো একই কথা বলছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও। সূচির মধ্যে পরিবর্তন না আনলে বাংলাদেশের কপাল পুড়বে এই ইঙ্গিত দিয়ে নিজামউদ্দিন বলেন, ‘যদি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ায়, যেটি কিনা হওয়ার কথা আগামী জুনে তাহলে এই আটটি টেস্ট হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। কারণ আগামী জুনের মধ্যে আমাদের এই ম্যাচগুলো খেলার মতো খালি সময় নেই। তবে যদি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের তারিখ বাড়ানো হয় তাহলে হয়তো একটি সুযোগ থাকবে। কিন্তু সময় বৃদ্ধি করলেও অন্যান্য সূচিতে এর প্রভাব পড়বে কারণ ২০২৩ সালে আমাদের আঁটসাঁট ক্রিকেট সূচি রয়েছে।’

তবে আইসিসির আসন্ন বাকি সব ইভেন্ট কিংবা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময়সীমা বৃদ্ধি করলে স্থগিত ম্যাচগুলো আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন নিজামউদ্দিন চৌধুরী। তবে এক্ষেত্রে সদস্যভুক্ত দেশগুলোরও যে সম্মতি প্রয়োজন সেটিও মানছেন বিসিবির এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নিজামউদ্দিন বলেন, ‘এখন যদি কোনো আইসিসি ইভেন্ট না হয়, তাহলে সেই ম্যাচগুলো আয়োজন করার একটি সুযোগ থাকবে এই সময়ের মধ্যে, কিন্তু এটি নির্ভর করবে দ্বিপাক্ষিক সম্মতির উপরে। তার মানে এটা সম্ভব হবে শুধুমাত্র যদি আমাদের সদস্যভুক্ত দেশগুলো রাজি হয়। যদি আইসিসি ইভেন্ট কিংবা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের তারিখ বাড়ানো হয় তাহলে হয়তো একটি সুযোগ থাকবে, তবে এই মুহূর্তে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

চার সিরিজে ৩৬০ পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারত। ২৯৬ পয়েন্ট নিয়ে তার ঠিক পরেই আছে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচ খেলে এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে মাত্র একটি সিরিজ। তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে অন্যান্য দলগুলো ৫-৮টির মতো টেস্ট খেলে ফেলবে। তাতে কোনো সমাধান আসবে না এই চ্যাম্পিয়নশিপে। তাই ব্যাপারটি নিয়ে ভাবছে আইসিসি। বিভিন্ন সভায় এনিয়ে আলোচনা উঠলে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি তারা, বলে জানিয়েছেন বিসিবি সিইও।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

 




Loading...
ads






Loading...