উন্নতি ধরে রেখেই শুরু করতে চান মুমিনুল

মুমিনুল হক
মুমিনুল হক - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৫ জুন ২০২০, ১৯:৫১,  আপডেট: ২৫ জুন ২০২০, ১৯:৫৫

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ২০ পূর্তি হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। কিন্তু এতো বছর পরেও ক্রিকেটের সবচেয়ে কুলীন ফরম্যাটে নিজেদের ঠিকমতো গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকলেও একটা সমস্যা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো যায়। সেটা হলো নিয়মিত ম্যাচ না খেলা।

তবুও চলতি বছর নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১০টি টেস্ট খেলার সামনে ছিল টাইগাররা। তা নিয়ে পরিকল্পনাও সাজিয়েছিলেন গত নভেম্বরের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া মুমিনুল হক। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে ভেস্তে গেল সব। ১০টির মধ্যে ২টি খেলে বাকি সবগুলোই স্থগিত করা হয়েছে। তাই চলতি বছর সাদা পোশাকে টাইগারদের যে আর দেখা যাবে না সেটা এক প্রকার নিশ্চিত।

নেতৃত্ব পাওয়ার পর নিজেকে এখনো প্রমাণ করতে পারেননি মুমিনুল। তার অধীনেই চার ম্যাচের তিনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। অবশ্য শেষ ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে জয় খানিকটা তৃপ্তি দিচ্ছে। তবে জয়ের ধারা গড়তে না পেরে কিছুটা হতাশ মুমিনুল। এমনটাই জানিয়েছেন ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিনক্রিকইনফোকে।

মুমিনুল বলেন, ‘অবশ্যই ক্রিকেট মিস করছি। খারাপ লাগছে। অনেকের মতো, বছরটা নিয়ে আমার বেশ কিছু পরিকল্পনা ছিল। সেটা বাধার মুখে পড়লো। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’

এ বছর অনুষ্ঠেয় ৮ টি টেস্ট স্থগিত হলেও আশা হারাচ্ছেন না মুমিনুল। যেহেতু সিরিজগুলো আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ সেহেতু ম্যাচগুলো পরে অনুষ্ঠিত হবে। এমনটাই বিশ্বাস করছেন টাইগার টেস্ট অধিনায়ক। তাই ক্রিকেটারদের উন্নতি ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দিতে বললেন তিনি, ‘আমাদের অনেক টেস্ট স্থগিত হয়েছে। তবে একমাত্র আশার আলো হচ্ছে, যেহেতু এটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নসশিপ, আমরা সেই টেস্টগুলো খেলতে পারব। আমাদের লক্ষ্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে উন্নতি করা। কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়ার পর আমরা দেখছি যে পেস বোলিং ইউনিট খুব ভালো উন্নতি করছে। তাই খেলোয়াড়দের মনোনিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা উচিত এবং খেলা শুরুর সময় যেন মনে কতটা উন্নতি করেছিলাম আমরা।’

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে নেই বলা যায়। তাই ধারণা করা হচ্ছে টেস্ট খেলা দেশগুলোর মধ্যে শেষ দল হিসেবেই ক্রিকেটে ফিরবেন মুমিনুলরা। ক্রিকেটারদের অনুশীলনের সম্ভাবনা তৈরি না হওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা সফর। যেখানে করোনা প্রকোপ একেবারেই কমে গেছে। এমন সংকট ময় মুহূর্তেও অধিনায়ক হিসেবে নিজের কাজটা ঠিকঠাকভাবেই করছেন মুমিনুল। কথা বলেছেন সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গেই। পর্যবেক্ষণ করেছেন লকডাউনের দিনগুলো কীভাবে কাটাচ্ছেন তারা।

মুমিনুল বলেন, ‘ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি। বিশেষ করে তরুণদের সঙ্গে। লকডাউনে সময় কিভাবে কাটছে, কী করছে। তামিম-মুশফিকদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। নেতৃত্ব পাওয়া সুবাদে সবার খোঁজ নেয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। অধিনায়কত্ব মানেই দায়িত্ববান হওয়া এবং দেশের হয়ে কিছু করে দেখানোর সুযোগ। খুব মানুষই এ কাজের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকে, আমিও তাদের একজন হওয়ায় নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি।’

করোনাকালীন সময়টাতে ঘর থেকে বের না হওয়াটাই উত্তম। এতে করে অনুশীলন করার সুযোগ না পেলেও সবাইকে মানসিক ভাবে শক্ত থাকতে বলছেন মুমিনুল। সবাইকে বেশি করে বই এবং কুরআন পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

তার ভাষ্য ‘একজন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে, ব্যাট-বলের বিষয়টা আমাদের রক্তেই আছে সবসময়। যখন ২-৩ মাস বাসায় লকডাউনের মধ্যে আছেন, তাই এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত রাখা। আমি মনে করি, ৫-৬ দিন কাজের মাধ্যমে নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন। তবে মানসিকভাবে শক্ত থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। সঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, এ বছর যেমন বিশ্রাম পাচ্ছি। সামনের বছর আমাদের দম ফেলানোর ফুসরত থাকবে না। তাই এই সময়টাকে কুরআন পড়ে, অনেকের আত্মজীবনী পড়ে এবং মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে কাজে লাগানো উচিত।’

মানবকণ্ঠ/এফএইচ





ads






Loading...