টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের আস্থার প্রতিদান দিলেন তামিম

টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের আস্থার প্রতিদান দিলেন তামিম
টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থদের আস্থার প্রতিদান দিলেন তামিম - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৫ মার্চ ২০২০, ২০:৫০

পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেই সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে অনেক কারণে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেদিন জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যান চার্লস কভেন্ট্রি খেলেছিলেন ১৯৪ রানের বিখ্যাত ইনিংস। যেই ইনিংস দিয়ে তিনি ছুঁয়েছিলেন সেসময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেলা সাইদ আনোয়ারকে।

তবে কভেন্ট্রির সেই ইনিংসকে আড়ালে ফেলে দিয়েছিলেন আবার তামিম ইকবাল। বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের দেয়া ৩১৮ রানের পাহাড় সেদিন বাংলাদেশ টপকে যায় তামিমের কল্যাণে। জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ওপেনার খেলেছিলেন বাংলাদেশের হয়ে সেরা ইনিংস। করেছিলেন ১৫৪। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও যেই কীর্তি ছিল অক্ষুন্ন।

তবে সিলেটে পড়ন্ত বিকেলে নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙেন তামিম। প্রতিপক্ষ সেই জিম্বাবুয়েই। আগের সেই জিম্বাবুয়ে থেকে এই দল শক্তিতে অনেক অপরিপক্ব হলেও তামিমের ইনিংসের মাহাত্ম্য কিছুতেই কমান যাবে না। ১৩৬ বলে তার চোখ ধাঁধানো ১৫৮ রানের ইনিংসটি যে তার নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ের অংশ-ই ছিল। বলতে গেলে, গেল বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগ থেকে সবকিছু মনমতো হচ্ছিল না এই ক্রিকেটারের। রান পেলেও উইকেটে পুরনো তামিমকে মিস করছিল সবাই। স্ট্রাইক রেট কমের কারণে প্রচণ্ড চাপে ছিলেন। হচ্ছিল তুমুল সমালোচনা। সেই সমালোচনার জবাব দিতে এমন একটি ইনিংসেরই দরকার ছিল এই টাইগার ওপেনারের।

বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরির কারণে অধিনায়কত্ব পান তামিম ইকবাল। তবে নেতা হিসেবে লঙ্কায় গিয়ে ইজ্জতই জলাঞ্জলি দিয়ে আসেন তিনি। দল হোয়াইটওয়াশ হয়। তামিম নিজেও ব্যাটসম্যান হিসেবে চূড়ান্ত ব্যর্থতার প্রমাণ দেন। ফলাফল দেশে এসেই ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি। সেই বিরতি থেকে ফেরার পর রান আসছিল। তবে তা টুকটাক। একটা সময় তো নিজের উপর আস্থাই হারিয়ে ফেলছিলেন তামিম। তিনি নিজেই জানিয়েছেন এ কথা।

তবে খারাপ সময়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ও সতীর্থরা খুব করে সমর্থন দেয়াতে ফের পুরনো রূপে ফিরতে পেরেছেন বলে মত এই ক্রিকেটারের, ‘অনেককেই এটার পেছনে (রেকর্ডময় ইনিংস ) ক্রেডিট দেয়া উচিত। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেন অথবা আমার টিমমেটদের কথাই বলেন, তারা সবসময় আমার ওপর ভরসাটা রেখেছে। কখনো তারা এক মিনিটের জন্যও বিশ্বাস হারায়নি। দেখা গেছে আমিও হয়তো মাঝেমাঝে হতাশ হয়ে পড়েছি, কিন্তু তারা নিশ্চিত করেছে যেন এটা আমাকে গ্রাস না করে। সাধারণত দেখা যায় যে, খারাপ সময়ে পাশে কেউ নেই। কিন্তু আমার কাছে যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, টিমমেট ও ম্যানেজমেন্ট- তারা সবসময় আমাকে সাপোর্ট করেছে।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় গতকাল কোনো অনুশীলন ছিল না বাংলাদেশ দলের। ছুটিতে ছিল মাশরাফি বাহিনী। তবে আগের দিন অতিমানবীয় এমন ইনিংসের পর তামিম ধরা দেন পড়ন্ত বিকেলে হোটেলের টিম লবিতে। সেখানেই কথাগুলো জানান তিনি। গণমাধ্যমকর্মীদের তামিম এও জানান, নিজের উপর আস্থা রাখতে স্বয়ং বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনও ম্যাচের আগের দিন ফোন দিয়েছিলেন তাকে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মাঠে বসেই দেখেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট সভাপতি।

তবে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচের সময় সিলেটের হসপিটালিটি বক্সে দেখা যায়নি বিসিবি বসের উপস্থিতি। কিন্তু তিনি না থেকেও যে দলের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন সে কথা সবাইকে বলেন তামিম, ‘বোর্ড থেকেও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করা হয়েছে, যেটা না বললেই নয়। শেষ ম্যাচের আগের দিন বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমাকে ফোন করেছিলেন, অনেক ভালো ভালো কথা বলেছিলেন যেগুলো আসলে ভালো লাগার মতো। তো এটাই আর কি। সুন্দর একটা শুরু হয়েছে। এবার এটাই চেষ্টা করব, সবসময়ই চেষ্টা করি যে ভালো কিছু করার। যদিও সবসময় সম্ভব হয় না। এভাবেই চেষ্টা করে যাব, দেখা যাক কী হয়।’

ব্যক্তিগত সেরা ইনিংস খেলা ছাড়াও তামিম মঙ্গলবার আরো একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে স্পর্শ করেন একদিনের ক্রিকেটে ৭ হাজার রানের মাইলফলক। তবে এমন রেকর্ড ও ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরির আগে প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকার কথা স্বীকার করে নেন তামিম। সেই সঙ্গে এমন ইনিংস খেলার পেছনের গল্পও শোনান, ‘খানিক চাপে তো ছিলাম। এটা অস্বীকার করলে মিথ্যা বলা হবে।

তবে আমার কাছে মনে হয় যে, একটা ইতিবাচক জিনিস ছিল যে, আমি ব্যাটিং খুব ভালো করছিলাম। হয়তো বড় রান আসছিল না। কিন্তু টেস্টে যেটায় ৪১ করলাম অথবা পাকিস্তানে ৩৪-৩৫ করেছিলাম- সেগুলোতে আমি সত্যিই খুব ভালো ব্যাটিং করছিলাম। এমনকি অনুশীলনেও ব্যাটিংটা খুব ভালো হচ্ছিল। তাই বিশ্বাসটা সবসময়ই ছিল যে, এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। যে কোনো সময় হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অনেকদিন ধরেই হচ্ছিল না।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads







Loading...