তামিমের কীর্তিতে বাংলাদেশের রেকর্ড

মানবকণ্ঠ
তামিমের কীর্তিতে বাংলাদেশের রেকর্ড - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ০৪ মার্চ ২০২০, ১২:৪৩

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। দুদিন না যেতে ফের ওই রেকর্ডে হানা বাংলাদেশের। গতকাল আগের ম্যাচের মতোই টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। শুরুতেই দুটি রানআউটে চাপে পড়লেও তামিম ইকবালের অনবদ্য ১৫৮ রান ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটির সুবাদে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩২২ রানের দলীয় সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা। তাতে ভেঙে যায় প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ৩২১ রানের রেকর্ডটি।

এ নিয়ে চতুর্থবার তাদের বিরুদ্ধে তিনশোর্ধ্ব রান করল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩১৩ এবং ৩২০ রান তোলে টাইগাররা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দলীয় প্রথম ছয়টি ইনিংসের মধ্যে তিনটিই এসেছে সর্বশেষ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজিত হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ তুলেছিল ৩৩৩ রান। আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার ম্যাচে টাইগাররা করেছিল ৩৩০ রান। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ৩২২ রানটি আছে ষষ্ঠ অবস্থানে।

দুর্ভাগ্যে দুই রান আউট
ম্যাচ জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। গেল ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন কুমার দাস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে উঠে মাঠে নামলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। মাত্র ৯ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউটের শিকার হন তিনি। উইকেটের একপ্রান্তে তামিম ইকবাল সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। সপ্তম ওভারে কার্ল মুম্বার তৃতীয় বলটি তামিমের ব্যাটে লেগে চলে আসে বোলারের হাতে। রান নেয়ার জন্য এ সময় ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন লিটন দাস। বল বোলার মুম্বার হাতে লেগে চলে যায় নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্ট্যাম্পে। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় লিটন ক্রিজে পৌঁছার আগেই বল গিয়ে আঘাত হাতে স্ট্যাম্পে। ফলে আক্ষেপ নিয়েই সাজঘরে ফেরেন তিনি। লিটনের পর দুর্ভাগ্যে নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও।

এ ক্ষেত্রে অবশ্য দোষ তামিমের নিজেরই। ১১তম ওভারে ওয়েসলি মাধভেরে বল করেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। তার প্যাডে লেগে বল চলে শর্ট ফাইন লেগে। অন্য প্রান্ত থেকে রান নেয়ার জন্য দৌড় দেন তামিম। ফিল্ডারের হাতে বল থাকা সত্তে¡ও স্ট্রাকিং এন্ডের ক্রিজে পৌঁছে যান তিনি। শান্ত রান নিতে না চাইলেও ক্রিজের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকেন। যার ফলে রান আউট হয়ে যান তিনিই।

একাদশেই থাকলেন মুশফিক
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে খবর, পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি না হওয়ায় মুশফিকুর রহিমকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে ডেকে এ ব্যাপারে নাকি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সব শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে দিয়ে ঠিকই মুশফিককে এদিন একাদশে রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর টাইগার শিবিরেও মুশফিক যে কতটা অপরিহার্য ব্যাট হাতে নিজেই তার প্রমাণ দেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। লিটন ও শান্তর চলে যাওয়ার পর তামিমের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন মুশি। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৮তম অর্ধ-শতক। আউট হওয়ার আগে এই ডানহাতির ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫৫ রান।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তামিমের সাত হাজার
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার আগে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে সাত হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে তামিম ইকবালের প্রয়োজন ছিল ৮৪ রান। অতীতের ব্যর্থতায় অনেকেই ভেবেছিলেন এ ম্যাচেও হয়তো তার রেকর্ড ছোঁয়া হবে না। তবে সবাইকে ভুল প্রমাণ করেন দেন তামিম নিজেই। ডোনাল্ড তিরিপানোর করা অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে আলতো ছোঁয়ায় থার্ডম্যান বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৮১ থেকে ৮৫ রানে পৌঁছে যান তামিম। সঙ্গে পূরণ হয় তার ৭ হাজার ওয়ানডে রান। বিশ্ব ক্রিকেটের ৪২তম ব্যাটসম্যান হিসেবে এ কীর্তি গড়লেন তামিম।

তামিমের ৫০, ১০০ ও ১৫০
দীর্ঘদিন ধরেই গড়পড়তা ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। তবে তাকে ঘিরে সমালোচনাটা হচ্ছিল, বাজে স্ট্রাইক রেটের কারণে। শেষ ১২ ওয়ানডেতে তামিমের স্ট্রাইক রেট ৬৯। এই যুগের একদিনের ক্রিকেটের সঙ্গে যা বড়ই বেমানান। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ২৪ করে আউট হওয়ার আগে খেলে ফেলেন ৪৩ বল। ফলে চাপ আরও বাড়ছিল এই বাঁহাতি ওপেনারের উপর। তবে এক নিমিষেই যেন সব চাপ যেন উড়িয়ে দিলেন তামিম। সাত ইনিংস পর ফিফটি তুলে নেয়ার পর প্রায় ১৯ মাস পর একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরিও তুলে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। সবচেয়ে বড় কথা, দারুণ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করছিলেন তামিম। ইনিংসের ৪০তম ওভারে একাই তামিম নেন ১৯ রান। তারই ধারাবাহিকতায় ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো দেড়শ’ পেরোনো ইনিংস খেলেন তিনি। আউট (১৫৮ রানে) হওয়ার আগে ভাঙেন নিজের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫৪ রানের কীর্তিও। বাংলাদেশের জন্যও যা সর্বোচ্চই। ৫০ রান করতে তামিম খেলেছিলেন ৪২ বল। সেঞ্চুরি করতে ১০৬ আর দেড়শ’র মাইলফলক তামিম পৌঁছান ১৩২ বলে।





ads







Loading...