সিলেটে বাঘের পা

মানবকণ্ঠ
সিলেটে বাঘের পা - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৯

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে জিতে সাদা পোশাকে হারের বৃত্ত থেকে বের হয়েছে বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় বেশ ফুরফুরে মেজাজেই থাকার কথা ক্রিকেটারদের। তবে সামনেই অপেক্ষা করছে ওয়ানডে সিরিজ। ১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সিরিজ খেলতে আজ সন্ধ্যায় সিলেটের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে টাইগাররা। একই দিন যাবে সফরকারী দল জিম্বাবুয়েও। তবে বাংলাদেশের আগেই বেলা ১১টায় রওনা দেয় তারা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রত্যেকটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

প্রায় আট মাস ধরে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ। সবশেষ গত বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের পর একদিনের ফরম্যাটে আর কোনো ম্যাচ খেলেনি টাইগাররা। ওয়ানডেতে খুব একটা ফর্মে নেই বাংলাদেশ। শেষ ৫ ম্যাচে খেলা সব ক’টিতেই দেখতে হয়েছে হারের মুখ। এই সিরিজ দিয়েই বিশ্বকাপের পর আবারো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কা সফরের দলে ছিলেন না তিনি। অধিনায়ক হিসেবে এটাই যে তার শেষ সিরিজ হতে যাচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কথায়।

এদিকে টেস্ট ম্যাচ জেতার পর গতকাল ছুটিতে ছিলেন খেলোয়াড়রা। সদ্য বিসিএলের শিরোপা জিতে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের জন্য মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আসেন ওয়ানডে স্কোয়াডে থাকা পেসার আল আমিন। ট্রেনিং শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে জানিয়েছেন জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার কথা। তিনি বলেন, ‘টেস্টে যেভাবে বাংলাদেশ খেলেছে, ওয়ানডেতে ওদের ধবলধোলাই করতে পারলে আরো ভালো। যেভাবে খেলছি, ওদের ধবলধোলাই করা উচিত আমাদের। যদি না করতে পারি আমাদের ব্যর্থতা। গত কয়েকটা সিরিজ আমাদের ভালো যায়নি। আমরা যদি এবার ওদের ধবলধোলাই করতে পারি সেটা আমাদের জন্যই ভালো হবে। সেটা শুধু মাশরাফি ভাইয়ের জন্যই নয়, দেশের ক্রিকেটের জন্য। ধবলধোলাই করতে পারলে আমাদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। যেটা সামনের সিরিজগুলোয় কাজে দেবে।’

সাড়ে চার বছর বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে জায়গা পেয়েছেন আল আমিন। কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো চান তিনি সাদা বলেই বেশি মনোযোগী হন। তবে নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো বেড়াজালে বেঁধে রাখতে চান না এই পেসার। তার ভাষ্য, ‘শুধু সাদা বলের চিন্তা করলে তো বিসিএল ফাইনাল খেলতে যেতাম না! সাদা বলের অনুশীলনই করতাম। যারা টেস্টে ছিল না, কোচের সঙ্গে সাদা বলে অনুশীলন করেছে। আমারও করার কথা ছিল। কিন্তু বিসিএল ফাইনাল খেলতে গিয়েছি। এখন টিম ম্যানেজমেন্টে যারা থাকেন, তাদের নানা রকম ভাবনা থাকে কাকে কীভাবে কাজে লাগাবে। আমার চিন্তা-ভাবনা, সব বলে খেলতে চাই। যেখানে সুযোগ আসবে, ভালো করার চেষ্টা করব।’

২০১৩ সালে অভিষেকের পর বেশ লম্বা সময় ধরে শৃঙ্খলাজনিত কারণে দলের বাইরে ছিলেন আল আমিন। সময়ের সঙ্গে নিজেকে শুধরে আবারো ফিরেছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে। তাই এবার আর সেই সুযোগ হারাতে চান না তিনি, আমি যখন বাদ পড়েছি, খেলার কারণে সম্ভবত বাদ পড়িনি। কিছু ইস্যু ছিল। সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করেছি। ভুল করলেই কেবল ভুল বোঝা যায়। মানুষ ভুল থেকেই শেখে। এটা শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে হতে পারে, ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও হতে পারে। শেখার তো কোনো শেষ নেই। ক্যারিয়ার যখন শুরু করেছিলাম, টানা চলতে থাকলে এতদিনে দলে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত থাকতাম। মাঝে বিরতি গেছে। এখন সুযোগ এসেছে। সবসময় চেষ্টা করি সুযোগ কাজে লাগাতে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েছি, মোটামুটি ভালো করেছি। ওয়ানডেতে আরেকটি সুযোগ এসেছে। একাদশে জায়গা পেলে চেষ্টা করব ভালো করার।

এদিকে, গতকাল ওয়ানডে দলের বাইরে থাকা চারজন স্পিনার-আমিনুল হক বিপ্লব, হাসান মুরাদ, তানভীর হায়দার ও নাজমুল ইসলাম অপুকে পরখ করে দেখেছেন স্পিন কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি। অনুশীলন শেষে তাদের নিয়ে আশার বাণী শোনালেন কোচ। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার ভ‚মিকা শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে নয়, তরুণদের সঙ্গেও কাজ করব। ওরা আজকে ভালো বোলিং করেছে। তবে নেটে বল করা আর ম্যাচে বল করা পুরো ভিন্ন ব্যাপার। এখানে ওদের সঙ্গে কাজ করে ম্যাচে দেখতে হবে ওরা কেমন করে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাইজুল, মিরাজ, নাঈমদের ক্ষেত্রে সেটিই আমি উপভোগ করি, যা শেখাচ্ছি তা কতটা ম্যাচে করতে পারে। আপাতত আমি এই ছেলেদের জানার চেষ্টা করছি, ওদের স্কিল ও শক্তির জায়গা বোঝার চেষ্টা করছি।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...