জিম্বাবুয়েকে ছুঁতে প্রস্তুত তো মুমিনুলরা?

জিম্বাবুয়েকে ছুঁতে প্রস্তুত তো মুমিনুলরা?
জিম্বাবুয়েকে ছুঁতে প্রস্তুত তো মুমিনুলরা? - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:১৬

টিপ্পনি কেটে প্রায়শই বলা হয়, বাংলাদেশের বিপদের বন্ধু জিম্বাবুয়ে। অর্থাৎ, যখনই বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট তখনই জয়ের ধারা ফেরাতে ডাকা হয় আফ্রিকার দেশটিকে। একটা সময় জিম্বাবুয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি হলেও এখন তা শুধুই ইতিহাস। শৌর্য বা বলে বাংলাদেশ তাদের চেয়ে এগিয়ে ঢের। কিন্তু আজ মিরপুরে সিরিজের একমাত্র টেস্টটি শুরুর আগে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না কোনো দলকেই। কারণটা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টেস্টে দুর্দশা। এই তো কিছুদিন আগেও টেস্ট শিশু আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে টাইগাররা। গেল বছর থেকে এখন পর্যন্ত সাদা পোশাকের ক্রিকেটে জয় তো দূরের কথা ছয় টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা জোটে বাংলাদেশের। টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকে তাই আদৌ ছুঁতে পারবে কি-না বাংলাদেশ আগেই তা বলে দেয়া যাচ্ছে না!

জিম্বাবুয়েকে ছোঁয়া এই অর্থে যে, বাংলাদেশের দলটির বিপক্ষে এ পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে মোট ১৬টি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের জয় যেখানে ৭টিতে সেখানে বাংলাদেশের জয় ৬ ম্যাচে। এই টেস্ট জিততে পারলেই তাই সমানে-সমান পরিসংখ্যান দাঁড়াবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের। কিন্তু সে সম্ভাবনায় পালে হাওয়া যোগানো এখন যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যর্থতার পাল্লা এতটাই ভারি হয়েছে যে কিছুদিন আগে খোদ বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজ দলের জয়ের ব্যাপারে।

বোর্ড সভাপতি সংশয় প্রকাশ করলেও আরভিন-টেইলরদের ছুঁতে আশাবাদী সদ্যই টেস্ট দলের নেতৃত্বভার পাওয়া মুমিনুল হক। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রæতিও দিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে সে ুরি খরাও ঘোচাবে তার দল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টে একসঙ্গে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান। পরের পাঁচ টেস্টে তিন অঙ্কের দেখা পাননি আর কোনো টাইগার ব্যাটসম্যান। তাতেই যেন দলের এই দুরবস্থা! গত পাঁচ টেস্টের ১০ ইনিংসের কোনোটিতেই বাংলাদেশের স্কোর ২৫০ পেরোয়নি। ভালো স্কোর না গড়ার খেসারত হিসেবে মুমিনুলদের প্রতিটি টেস্ট হারতে হয়েছে বাজেভাবে।

আর সেই হারের বৃত্ত থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলবেন বলে বিশ্বাস মুমিনুলের, ‘এতগুলো ইনিংসে একটা সে ুরি না থাকা মানে আপনি নিচের দিকেই আছেন। আমার কাছে মনে হয় খেলোয়াড়দের কখনো কখনো বাজে সময় যায়। দল হিসেবে আমরা হয়তো সেই খারাপ সময়টা পার করছি। আমরা এটা কাটিয়ে ওঠার কাজ করছি। খুব শিগগিরই সেটা হবে কথা দিলাম আপনাদের। শুধু আমার কথা বলছি না, পুরো দলের কথাই বলছি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের কথা বলি না, দলের কথাই বলি। আমাদের দলের কেউ ১০০, ২২০ কিংবা ৩০০ রানও করতে পারে। কথা দিলাম কেউ না কেউ এবার বড় ইনিংস খেলবে ইনশাআল্লাহ।’

টেস্ট শুরুর আগে মুমিনুলের মতো আশার বাণী জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের মুখে। টেস্টে তাদের দশা আরো করুণ হলেও সবশেষ বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিটা দারুণ। দুই ম্যাচের সিরিজের একটিতে জিতেছিল তারা। এ ছাড়াও আগের টেস্টেই শ্রীলঙ্কার মতো দলকে নিজেদের মাটিতে রুখে দেয়ার সুখস্মৃতিও আছে জিম্বাবুয়ের। ১৪ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেও সেই সিরিজে তাদের পারফরমেন্স ছিল সত্যিই নজরকারা। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল দৃঢ়প্রতিজ্ঞার প্রতিফলন। সব বিভাগেই যেন ক্রিকেটাররা লড়েছিল উজাড় করে দিয়ে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দলকে নেতৃত্ব দেয়া শন উইলিয়ামস বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেননি পারিবারিক কারণে। তবে স্থলাভিষিক্ত হওয়া আরভিন ঠিকই ধরে রাখতে চান ধারাবাহিকতা, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটি ভালো ছিল। ভালো দুটি টেস্ট কাটিয়েছি আমরা, দুটিই প ম দিনে গিয়েছে। ওই সিরিজ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচেও বয়ে আনতে চাই।’

এদিকে আজ হোম অব ক্রিকেটের উইকেট পেসবান্ধব হওয়ার কথা থাকলেও সাধারণত এখানকার উইকেটের চরিত্র মন্থর ও স্পিন সহায়ক হয়। সেটা নাকি খুব ভালো করেই জানেন আরভিনরা। তাই ভড়কে যাচ্ছেন না তিনি ও তার দল। এখানেও বিশ্বাসের রসদ মিলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ থেকে। লঙ্কান সিরিজেই স্পিনারদের দারুণভাবে সামলেছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। তাই তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানদের স্পিন মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বলে জানালেন আরভিন, ‘সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা দুটি টেস্টই ভালো কেটেছে। তাদেরও স্পিন আক্রমণ ভালো এবং আমরা তাদের বিপক্ষে ভালো খেলেছি। আমরা জানি, বাংলাদেশ যে স্পিন সহায়ক উইকেট বানাতে পারে এবং সেটির জন্য আমরা প্রস্তুত। নিজেদের ভালোভাবে প্রস্তুত করেছি আমরা।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস

 




Loading...
ads






Loading...