‘এটা স্পেশাল ইনিংস’


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:২৭

দিনের (তৃতীয় দিনের) খেলা শেষ। সবার নজর তামিমের দিকে। ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিং করে মাঠ ছাড়ছেন তখন তিনি। সঙ্গে দলের অন্যরাও। এমন সময় হঠাৎ করেই একটি কেক নিয়ে হাজির বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনসহ বিসিবির আরো কয়েকজন কর্মকর্তা। কেকের উপরে লেখা ৩৩৪ নটআউট। যা তামিম ইকবাল গতকাল দুপুরেই করেছেন। তার এই ইনিংস এক সঙ্গে অনেকগুলো রেকর্ডের মালা গেঁথেছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস।

তামিমের এই ইনিংস ছিল আবার কিছুটা ওয়ান ডে মেজাজে। অপরাজিত ৩৪৩ রানের ইনিংসে বলের ব্যবহার ছিল ৪২৬টি। ৪২ চারের সঙ্গে ছক্কা তিনটি। ছক্কা সব ক’টি আবার এসেছে তিনশ করার পর। কিছুদিন আগে পাকিস্তান সফরে কুড়ি ওভারের ম্যাচে তার ধীরগতির ব্যাটিং রান করার পরও সমালোচিত হয়েছিল। তবে এবারের ইনিংস নিয়ে নেই কোনো সমালোচনা। সবার আশা পাকিস্তান সফরের আগে এ রকম একটি ইনিংস আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে পারলেই হয়।

নিজের এমন ইনিংস খেলার পর স্বাভাবিক কারণেই তামিম এই ইনিংসকে নিজের মনের গহীন কোণে পাকা করে জায়গা করে দিয়েছেন। খেলা শেষে তার জবানিতে ফুঠে উঠেছেও তাই, ‘এটা স্পেশাল ইনিংস। তিনশ করা যে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন। আবার যে কোনো লেভেলেই এটা করা কঠিন। এটা যদি সহজ হতো, তাহলে প্রত্যেক মাসে একজন করে দেখতেন যে তিনশ করছে। এটা খুব স্পেশাল। আমার হƒদয়ে খুব বড় জায়গায় এটা থাকবে।’

আগের দিন তামিম ইকবাল ২২২ রানে অপরাজিত ছিলেন। কাল এগুচ্ছিলেন তিনশ রানের দিকেই। কিন্তু কখন তার মনে হয়েছিল তিনি তিনশ করতে পারবেন। তামিম বলেন, ‘সত্যি বলতে ২৬০-২৭০ হওয়ার পরও কিন্তু আমি এটা (ট্রিপল সেঞ্চুরি) নিয়ে ভাবছিলাম না। ২৮০ টাচ করার পর আমি এটা নিয়ে চিন্তা করা শুরু করি। আমার কাছে মনে হয়েছে যে, আমি যদি ওটা চিন্তা করি তাহলে যে প্ল্যান নিয়ে খেলছিলাম, সেটায় বাধা পড়বে। হয়তো আমি একটু অন্যভাবে খেলার চেষ্টা করব। আমি সেটা করিনি। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি। এটা আমার হয়ে কাজ করেছে। এটা ভালো ছিল।’ তিনশ করার পর তিনি মারমুখী খেলতে থাকেন। এ সময় ছক্কাও মারেন তিনটি। তার ইনিংসে ছক্কাও ছিল এই তিনটি। এ নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে নিজেকে ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করতে হবে। তিনশ রান করার পর আমি সুযোগ নিয়েছি। এর আগে আমার মনে হয় না আমার বিশেষ কিছু করার ছিল। আমি ব্যাটিং করে গেছি। ক্রিকেটিং শটস খেলে গিয়েছি। সবসময় চেষ্টা করছিলাম যে, আমি চার মারব। ছক্কা মারার কোনো চিন্তা ছিল না।’

রকিবুলকে ছাড়িয়ে যাওয়া ইনিংসের পর তামিম ইকবাল রকিবুলের ইনিংসকেই কৃতিত্ব দিলেন বেশ। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের ড্রেসিং রুমে ওই ট্রিপল সেঞ্চুরি নিয়ে আলোচনা হতো। আমরা ভাবতাম একজন কিভাবে এত বল খেলল। ও তো মনে হয় ৬০০’র মতো বল খেলেছে। আমি যখনই চিন্তা করি যে রকিবুল একমাত্র যে তিনশ করেছে, তখন ভাবতাম যে কত ধৈর্য ধরে তিনশ করেছে। ৩০০ করাটা তো এত সহজ না।’

একনজরে তামিম ইকবালের ৩০০

পঞ্চাশ রান - ৭৬ বল, ১০৫ মিনিট, ৭ চার
একশ রান - ১২৬ বল, ১৭১ মিনিট ১৪৫ চার
দেড়শ রান - ১৮০ বল, ২৪৫ মিনিট, ২১ চার
দুইশ রান - ২৪২ বল, ৩০২ মিনিট,২৯ চার
আড়াইশ রান - ৩১৫ বল, ৪৪৯ মিনিট ৩৪ চার
তিনশ রান - ৪০৭ বল, ৫৬০ মিনিট, ৪০ চার

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস

ব্যাটসম্যান         রান           দল               প্রতিপক্ষ       সাল

তামিম ইকবাল    ৩৩৪*      পূর্বাঞ্চল          মধ্যাঞ্চল       ২০১৯-২০
রকিবুল হাসান     ৩১৩*     বরিশাল           সিলেট          ২০০৬-০৭
নাসির হোসেন      ২৯৫        রংপুর            বরিশাল         ২০১৭-১৮
মার্শাল আইয়ুব     ২৮৯       মধ্যাঞ্চল          পূর্বাঞ্চল        ২০১২-১৩
মোসাদ্দেক হোসেন ২৮২       বরিশাল          চট্টগ্রাম         ২০৪-১৫
লিটন দাস           ২৭৪        মধ্যাঞ্চল        পূর্বাঞ্চল        ২০১৮

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...