• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

পাকিস্তান জয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ

পাকিস্তান জয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ
পাকিস্তান জয় করতে চান মাহমুদউল্লাহ - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:১৯

অনেক বিতর্ক আর সমালোচনার জন্ম দিয়ে এবং জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ দল আজ রাতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবে রাত আটটায়। তিন দফার সফরের প্রথম দফায় খেলবে শুধু তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কড়া নিরাপত্তায় বেষ্টিত হয়ে বাংলাদেশ খেলবে ২২ গজের ময়দানে। যা লাল-সবুজের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। দেশ ছাড়ার আগে সফর নিয়ে কথা বলেছেন দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার বলা সেসব কথার উল্লেখযোগ্য অংশ মানবকণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন: পাকিস্তান সফরে যাওয়া নিয়ে আপনার সিদ্ধান্ত কি শুরু থেকেই পজিটিভ ছিল। একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় মুশফিকুর রহিমের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে দেখছেন?

মাহমুদউল্লাহ: প্রথমে অবশ্যই কঠিন ছিল। কারণ আমার পরিবারও কনসার্ন ছিল। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা রাজি হয়েছে। এদিক থেকে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত, যেহেতু আমার পরিবার এতটা স্ট্রেস ফিল করবে না। কারণ পাকিস্তান আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই দিচ্ছে। আর মুশির সিদ্ধান্ত আমিও সমর্থন করি। পরিবারের একটা ইস্যু থাকে সবসময়। পরিবারের চাইতে বড় ইস্যু কোনো ক্রিকেটারের বা কোনো সাধারণ মানুষের হতে পারে না। মুশফিকের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে।

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ফলাফল তো ভালো নয়। সিরিজ জেতা কি সম্ভব?

মাহমুদউল্লাহ: র‌্যাঙ্কিং তো ভিন্ন কথা বলে। আমরা নয় নম্বরে, ওরা এক নম্বরে। টি-টোয়েন্টিতে তারা ধারাবাহিকভাবে খেলে আসছে। আমার মনে হয় যেভাবে আমরা ক্রিকেট খেলছি, শেষ কয়েকটি সিরিজে আমি খুব আশাবাদী যে ভালো কিছু ম্যাচ আমরা উপহার দিতে পারব। ইনশাআল্লাহ! আমরা সিরিজ জেতার চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: এই সিরিজ নিয়ে দলের বাকি সদস্যরা কি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত?

মাহমুদউল্লাহ: এই মুহূর্তে আমি একটা কথা বলতে পারি। দলের অন্যান্য মেম্বাররা এই ব্যাপারে চিন্তিত নয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে। আমরা শুধু খেলার কথাই চিন্তা করছি। কীভাবে ওখানে গিয়ে ভালো পারফর্ম করতে পারব এবং জিততে পারব এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত।

প্রশ্ন: সাকিব নেই। মুশফিক নেই। দল নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

মাহমুদউল্লাহ: আমি এই মুহূর্তে খুবই খুশি, যারা স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছে তাদের নিয়ে। সবাই খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে এই বিপিএলে। যারা ব্যাটসম্যান ছিল তারা রান পেয়েছে। বোলাররা যারা ছিল ওরা উইকেট পেয়েছে। সব মিলিয়ে আমি খুব আত্মবিশ্বাসী আমার দল নিয়ে। দেখার বিষয় আমরা ওখানে গিয়ে নিজেদের কত ভালোভাবে এপ্লাই করতে পারি।

প্রশ্ন: দলে সিনিয়র ক্রিকেটার বলতে শুধু আপনি ও তামিম। আপনাদের উপর দায়িত্ব কী বেড়ে গেল না? তা ছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও অনেক পরিবর্তন আসবে। এ নিয়ে কি ভাবছেন?

মাহমুদউল্লাহ: আমি এবং তামিম আমরা দুজনই ব্যক্তিগতভাবে ফিল করি যে আমাদের দায়িত্ব বেশি থাকবে। টপ অর্ডারে তামিমের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কাজে আসবে। ও খুব ভালো ছন্দে আছে। রান করেছে এই বিপিএলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করব যে আমার দায়িত্ব যেন ভালোভাবে পালন করতে পারি। আমার যে ভ‚মিকা থাকবে, শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করা। আমার মনে হয় যে সবারই দায়িত্ব থাকবে। আপনি যেটা মেনশন করলেন যে অনেকের হয়তো ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসতে পারে। তো এই জিনিসটা ওরা অলরেডি মানসিকভাবে মানিয়ে নেয়ার চিন্তা করছে। আশা করব তারা এটার সাথে মানিয়ে নেবে।

প্রশ্ন: এই সিরিজ কভার করতে বাংলাদেশ থেকে খুব বেশি সাংবাদিক যাবে না। এটাকে কিভাবে দেখছেন?

মাহমুদউল্লাহ: টুবি অনেস্ট মিডিয়ার বিষয়টি চিন্তা করিনি। আপনাদের সাপোর্টটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের প্রোপার ফিডব্যাক অবশ্যই জরুরি। আমাদের চিন্তা করতে হবে আমাদের পারফরমেন্সটা যেন যথাযথ ওইখানে দিতে পারি। আমরা এগুলো নিয়ে চিন্তিত না। আমার মনে হয় না দলের কেউ এগুলো নিয়ে চিন্তিত। ডিসিশন হয়ে গেছে এখন আমাদের খেলতে হবে। আমাদের ভালো পারফরমেন্স করতে হবে।

প্রশ্ন: পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো করতে না পারলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা বর্তমানে এক নম্বর পাকিস্তান। এটা কি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি কোনো চাপ হবে?

মাহমুদউল্লাহ: র‌্যাঙ্কিংয়ের বিষয়টা আপনি যেটা বললেন, শেষ কয়েকটা সিরিজে পাকিস্তান হয়তো খারাপ করেছে। আমি মনে করি তারা অনেক শক্তিশালী দল টি-টোয়েন্টিতে। তাদের ওখানে খেলা। শেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কার সাথে হেরেছে তারা। তাদের হয়তো এই বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন আছে। আমাদের ফোকাস করতে হবে আমরা কতটা ভালো খেলতে পারি। আমি মনে করি এই টিমে যারা আছে তারা ভালো ফর্মে আছে। ভালো টাচে আছে। এই জিনিসটা আমাদের ইউটিলাইজ করা এবং বোঝা। যদি বেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারি আমরা জিততে পারব। ওরা কি করেছে লাস্ট সিরিজে এটা নিয়ে যদি চিন্তা করি, র‌্যাঙ্কিংয়ে কোথায় আছে... আমি মনে করি না চিন্তার কিছু আছে।

প্রশ্ন: কোচ বলেছেন অধিনায়ক হিসেবে আপনার উপরই তার আস্থা? আপনি কিভাবে দেখছেন?

মাহমুদউল্লাহ: আমি এখনো জানি না। যেহেতু আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এই সিরিজের জন্য। আমি চেষ্টা করব আমার দায়িত্বটা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগাতে। যেহেতু সিরিজ বাই সিরিজ অধিনায়কত্বের দায়িত্বটি আসছে। তাই অবশ্যই ওর যদি আমার প্রতি আস্থা থাকে তাহলে ধন্যবাদ এবং আমার মনে হয় রাসেল অনেক অভিজ্ঞ একজন কোচ এবং সে জানে দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে কিভাবে সামলাতে হয়। আমার মনে হয় সবাই এই জিনিসটি বুঝে এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছেন।

প্রশ্ন: দলে সবাই ফর্মে থাকায় সেরা একাদশ গড়তে কি মধুর অভিজ্ঞতা হবে?

মাহমুদউল্লাহ: আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন সৌম্য বেশ কয়েকবছর ধরে টানা খেলছে। আফিফ একজন নতুন ক্রিকেটার, নাঈমও নতুন। তবে তারা সবাই ভালো করছে কন্ডিশন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায়। এটা খুবই ভালো একটা দিক। আমার মনে হয় এই জিনিসটি দলের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। এটা আমাদের সবার জন্যই ভালো। আমি এই জিনিসটি এভাবে দেখছি।

প্রশ্ন: পাকিস্তানে অনেকদিন পর বাংলাদেশ খেলবে। উইকেট কন্ডিশন সম্বন্ধে ধারণা নেই। এটা কি কোনো সমস্যা হবে?

মাহমুদউল্লাহ: আমি এর আগেও পাকিস্তানে দুইবার গিয়েছি। ২০০৮ এ গিয়েছিলাম। এবারের অভিজ্ঞতা খুব বেশি তারতম্য করবে। যেহেতু আমরা পাকিস্তানে খেলছি, এর আগেও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার পাকিস্তানে খেলেছে। যেহেতু উপমহাদেশ, তাই আমরা জানি এবং আমার কিছুটা হলেও ধারণা আছে সেখানকার উইকেট কেমন হতে পারে সেই ব্যাপারে। পাকিস্তানের উইকেট খুব বেশি কঠিন ব্যাটসম্যানদের জন্য। আমরা আশা করি ব্যাটসম্যানদের ভালো উইকেট পাব। সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বটি বেশি থাকবে বলে আমি মনে করি বড় স্কোর গড়তে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...