• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

দশক সেরা ওয়ানডে দল ভারত

বাংলাদেশের অবস্থান আটে

সাজ্জাদ সাব্বির


poisha bazar

  • ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২২

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয় কপিল দেবের হাত ধরে ১৯৮৩ সালে। এরপর ফের বিশ্বসেরা দল হতে টিম ইন্ডিয়ার অপেক্ষা করতে হয় ২০১১ সাল পর্যন্ত। ২৮ বছর পর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বসেরার মুকুট মাথায় তোলে ভারতীয়রা। সেই যে শুরু এরপর থেকে এ ফরম্যাটে বলতে গেলে একক রাজত্ব চলছে ভারতের। রদবদল এসেছে দলে, পরিবর্তন হয়েছে অধিনায়কত্ব কিন্তু সফলতায় ভারতীয়রা অটল, অবিচল। বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়লেও শেষ ১০ বছরে একদিনের ক্রিকেটে তাদের সফলতার পাল্লা ভারি অন্যসব দলের তুলনায়।

রোববার কটাকে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ দিয়ে ইতি ঘটেছে এ বছরের একদিনের ক্রিকেটের। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী, এ বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে লড়তে দেখা যাবে আর কোনো দলেক। উইন্ডিজকে হারিয়ে বছর শেষ করায় ২০১০ থেকে ২০১৯- এই এক দশকে ভারত মোট ২৪৯ ওয়ানডে খেলে জয় পেয়েছে ১৫৭টিতে। আর হার মাত্র ৭৯টি ম্যাচে। ছয়টি ম্যাচ টাই হয়েছে। ফলাফল আসেনি বাকি সাত ম্যাচে। কোহলি বাহিনীর জেতা-হারার হার হলো ১.৯৮৭। অর্থাৎ, হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ম্যাচ ভারত জিতেছে। গেল কয়েকবছর অন্যসব ফরম্যাটে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ সমীহ জাগানিয়া দলেই পরিণত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ দশক শেষে টাইগারদের অবস্থান আটে। সেরা দশে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আফগানিস্তানের ওপরেই আছে লাল-সবুজরা। এই দশকে বাংলাদেশ ১৬২ ম্যাচ খেলে জয় পায় ৭০ ম্যাচে। হার ৮৭টিতে। বাকি ম্যাচগুলোর একটিও টাই না হলেও, ফলাফল আসেনি ওই ৫ ম্যাচে। জয়-হারের হার ০.৮ ভাগ। যদিও দশক শেষে আরো সুসংহত অবস্থানে থাকতে পারত বাংলাদেশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবিই মূলত সে পথের কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে একটি দিক থেকে, বাংলাদেশের অগ্রগতি লক্ষণীয়। আগের দশকে (২০০০-২০১৯) বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দশে। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার প্রথম দশ বছরে জিম্বাবুইয়েরও পেছনে ছিল টাইগাররা। সে সময় ২০১টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিততে পেরেছিল মাত্র ৬১ ম্যাচে। যার বেশিগুলোই ছিল আবার অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। তবে গেল এক দশকে বাংলাদেশ একাধিকবার হারের স্বাদ দিয়েছে আইসিসির পূর্ণ সদস্যপ্রাপ্ত শক্তিশালী সবগুলো দলকেই।

এদিকে দশকে জয়-হারের বিবেচনায় একধাপ নিচে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ২০০০-০৯ পর্যন্ত একে ছিল অসিরা।

এদিকে ২০১৫ বিশ্বকাপ জিতলেও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে এখন তারা। ২১৬ ম্যাচের ১২৫টিতে জিতেছে অসিরা। জেতা-হারার হার ১.৫৮২। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড রয়েছে তিন নম্বরে। ২১৮ ম্যাচে জয় ১২৩টিতে। ইংলিশদের জেতা-হারার হার ১.৫০। সফলতার বিবেচনায় ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের পরেই আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের বিশ্বকাপে দলটি আশানুরূপ পারফর্মেন্স করতে ব্যর্থ হলেও, গেল এক দশকে ১৮৮ ম্যাচে প্রোটিয়াদের জয় ১১৪টিতে।

এ তালিকায় ছয়ে আছে পাকিস্তান। গেল দশকে উল্লেখযোগ্য শিরোপা হিসেবে কেবল ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতা পাকিস্তান ২১৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ১০৪টিতে। জয়-হারের হার ০.৯ ভাগ। তাদের চেয়ে একধাপ ওপরে আছে আরেক এশিয়ান দল শ্রীলঙ্কা। গেল কয়েক বছর ধরে বেশ ছন্নছাড়া ক্রিকেট খেললেও ২০১০ থেকে ২০১৯ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ২৫৬ ম্যাচে তাদের জয় পাকিস্তানের চেয়ে ৯টি বেশি (১৩৩)। এদিকে বাংলাদেশের ঠিক উপরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১৯২ ম্যাচে ৯৮টিতে জয় নিয়ে সাত নম্বরে আছে কিউইরা।

এদিকে, ২০১০ থেকে ২০১৯- এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ডেও সবার চেয়ে এগিয়ে ভারত। এই দশকে টিম ইন্ডিয়া জিতেছে ৩৫টি একদিনের সিরিজ। ইংল্যান্ড (৩২) ও অস্ট্রেলিয়া (৩০) রয়েছে ভারতের পরে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...