• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

বাংলাদেশের খেলা হতাশ করেছে!

মহিউদ্দিন পলাশ, কলকাতা থেকে

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯

খেলা শেষ সেই দুপুর বেলাই। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই স্টেডিয়াম ফাঁকা হতে থাকে। দুই দিন আগেই খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে ভাঙ্গা হাট। চলছে জিনিস-পত্র খুলা আর বের করে নেয়ার কাজ। সবাই যে যার মতো ব্যস্ত। গোলাপি বলের টেস্টকে ঘিয়ে ইডেন গার্ডেনস গত কয়েকদিন সবে পরিণত হয়েছিল। এমন উৎসব সব সচরাচর হয়নি। কলকাতায় অনেক টেস্ট হয়েছে। আইসিসির অনেক আসরের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুই গোলাপি বলের আয়োজনের ধারে কাছেও ছিল না। আয়োজনের এক মহাযঞ্জ। সব কিছুই হয়েছে দ্রুততম সময়ে। সৌরভ গাঙ্গুলি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বাংলাদেশ-ভারতের কলকাতা টেস্টকে দিবা-রাত্রির গোলাপি বলে রূপ দিতে উঠে-পড়ে লাগেন। তার পরিকল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিতে ইডেন গার্ডেনস রূপ নিয়েছিল উৎসবে। সর্বত্রই গোলাপি রঙয়ের আবহাওয়া।

শক্তির ব্যবধানে ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকার পরও এবং খেলা চতুর্থ/পঞ্চম দিন গড়ানোর সম্ভাবনা কম থাকার পরও চতুর্থ দিনের টিকিটও সব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। দর্শক চাপ সামলাতে সরাসরি ইডেনের টিকি কাউন্টার থেকে কোনো বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সব অন লাইনে বিক্রি করা হয়। সেখানে বিপুল চাহিদা দেখা যায় দর্শকদের। পরে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়। তৃতীয় দিন এক ঘণ্টারও কম সময়ে খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল) দর্শকদের চতুর্থ দিনের টিকিটের টাকা ফেরত দেবে। এই টেস্ট দেখার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও মঠে উপস্থিত হয়েছিলেন।

গত কয়েকদিন ইডেনে সকাল থেকে মধ্য রাত অবদি ছিল মুখরিত। কালও থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিন দিনেই খেলা শেষ হওয়াতে সেখানে রাজ্যের নীরবতা। দেখে বোঝার উপায়ই নেই এখানে কি উন্মাদনাই ছিল না গত কয়েকদিন। কিন্তু এভাবে তিন দিনে খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে কলকাতাবাসী অনেকেই হতাশ। তারা জানতেন ভারত জিতবে। কিন্তু এভাবে বাংলাদেশ যে লড়াই করতে পারবে না তারা ভাবতে পারেননি। মান খানিক আগে দক্ষিণ আফ্রিকা দলও ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। কিন্তু বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে ভালো করবে বলে অনেকেই বলেছিলেন। কারো কারো বিশ্বাসও ছিল। এর পেছনে কারণ ছিল বাংলাদেশের কুড়ি ওভারের সিরিজে ভালো করা। ইন্দোর টেস্ট তিন দিনে শেষ হয়ে গেলেও কলকাতা টেস্টের চতুর্থ দিনের টিকিট কিনতে তারা দ্বিধাবোধ করেননি। কিন্তু তাদের সেই বিশ্বাস আর আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি বাংলদেশ দল।

বাংলাদেশ দল যেখানে ভালো খেলার কথা, সেখানে উল্টো তাদের মানের আরো অবনতি ঘটেছে ভারতের পেস ব্যাটারির সামনে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানার যেন ব্যাটিংই ভুলে গিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটিং ছিল আনাড়ির মতো। যা নিয়ে টিভিতে ধারাভাষ্যকাররা বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। বোলিং আবার বাজে হয়নি। গোলাপি বলে কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই খেলতে নেমে বাংলাদেশের এ রকম বেহাল দশা হযেছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেন। যে কারণে প্রথম ইনিংসে হেলমেটে বল লেগে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছিল লিটন দাস ও নাঈম হাসানকে। তাদের পরিবর্তে ‘কানকাশন’আইনে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে মাঠে নামানো হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে একইভাবে বল হেলমেটে লেগেছিল মোহাম্মদ মিঠুন ও আল আমিনের। তবে তাদের আঘাত মারাত্মক ছিল না। এভাবেই গোলাপি বলে বাংলাদেশ দলের বেহাল অবস্থা ফুটে উঠেছিল। অনেক দর্শকই বলাবলি করছিলেন বাংলাদেশের এভাবে কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই গোলাপি বলে খেলা ঠিক হয়নি। আবার কেউ কেউ পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছেন ভারতও কোনো অনুশীলন করেনি। তাদের তো কোনো সমস্যা হয়নি!

এদিকে এভাবে দুই দিন আগে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়াতে বাংলাদেশ দল পড়েছে ফ্লাইট বিড়ম্বনায়। তাদের সূচি অনুযাযী ফেলার তারিখ ২৭ নভেম্বর। কিন্তু বিমারে টিকিট না পাওয়াতে তারা আগেই চলে যেতে পারছেন ন। তবে টিকিট পাওয়া সাপেক্ষ ক্রিকেটাররা ফিরছেন আলাদা আলাদাভাবে। রোববার খেলা শেষ হওয়ার পর রাতেই দেশে ফিরে যান অধিনায়ক মুমিনুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, আল আমিন ও মাহমুদউল্লাহ। কাল টিকিট পেয়ে ফিরে গেছেন আবু জায়েদ রাহী, এবাদত হোসেন, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান ও নাঈম হাসান। টিকিট পেলে আজও কেউ কেউ ফিরবেন বলে জানিয়েছেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। বাকিরা ফিরবেন আগামিকাল। ইন্দোরের টেস্টও শেষ হয়েছিল তিন দিনে। কিন্তু ক্রিকেটারদের কলকাতা আসতে হয়েছিল সূচি অনুযায়ী ১৯ তারিখই। বাকি দুইদিন ক্রিকেটাররা গোলাপি বলে অনুশীলন করেছিলেন। এখন তারা কলকাতায় তারা শপিং আর ঘুরে-ফিরে সময় কাটাচ্ছেন।

গতকাল আবু জায়েদ রাহী বলেন, ‘আমি আজই(গতকাল) চলে যাব পরিবারের সদস্যদের জন্য শপিং করছি।’ এই রাহী ছিলেন চলতি সিরিজে বোলিং বিভাগে বাংলাদেশের সেরা বোলার। দুই টেস্টে উইকেট নিয়েছেন ৬টি। ইন্দোরে ৪টি ও কলকাতায় ২টি। তার দখলে ছিল বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো ব্যাটসম্যানও। গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন হলো জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু বলটা একটু সুইং করে, আমাদের জন্য ভালো। পেস বোলারদের জন্য স্পেশালি ভালো।এটা থেকে আমরা একটা ভালো শিক্ষা নিয়েছি।আশা করি ভবিষ্যতে টেস্টগুলো আরো ভালো হবে।’ নিজেকে আরও শাণিত করতে তিনি মোহাম্মদ সামির টিপস নিয়েছেন। সামির সঙ্গে কথা বলা প্রসঙ্গে রাহী বলেন, ‘সামি ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে অনেক সময়। আধাঘণ্টার মতো প্রায় । অনেক কিছু টিপস দিয়েছেন। বলেছেন চেষ্টা করো।আর ইনশাআল্লাহ ভালো হবে। ফিটনেস নিয়ে উপর বেশি জোর দিতে বলেছেন। যেহেতু পেস বোলারের ফিটনেস ভালে হলে, অনেক সময় ভালো বোলিং করা যায়।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...