গোলাপি বলে দুই দলেরই সমস্যা দেখছেন আল আমিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ইন্দোর থেকে

মানবকণ্ঠ
আল আমিন - ছবি : সংগৃহীত।

poisha bazar

  • বিশেষ প্রতিবেদক
  • ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৪

এবার ভারত সফরে এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে ফ্লাইট বিড়ম্বনা পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ দলের। রাজকোটের বিমান ছাড়তে দেরি করার পর কাল ইন্দোরেও কলকাতার উদ্দেশে বিমান ছাড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে। ১৪ নভেম্বর ইন্দোর টেস্ট শুরু হলেও শেষ হয়ে যায় তিন দিনে। কিন্তু তিন দিনে শেষ হলেও বাংলাদেশ দল আগেই ইন্দোর ছাড়তে পারেনি। ১৮ তারিখ টেস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ দলের ফ্লাইট ছিল গতকাল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই তাদের ইন্দোর ছাড়তে হয়েছে। কলকাতায় টেস্ট শুরু হবে ২২ নভেম্বর। দিবা-রাত্রির টেস্ট হবে গোলাপি বলে। দুই দলই প্রথমবারের মতো খেলবে গোলাপি বলে। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ খেলবে দ্বিতীয় আর ভারত খেলবে সপ্তম ম্যাচ।

গোলাপি বলে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই আগে খেলেনি। যে কারণে অনুশীলনও করেনি। কিন্তু ইন্দোরের টেস্ট তিন দিনে শেষ হয়ে গেলে দুই দলের সামনে চলে আসে গোলাপি বলের অনুশীলন করার সুযোগ। দুই দিনই দুই দল বিকেলে গোলাপি বলে অনুশীলন করে। ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশ বাজেভাবে হারের পর কলকাতায় দিবা-রাত্রির টেস্টে কী করবে এমন প্রশ্ন সর্বত্রই ঘোরা-ফেরা করছে। সেখানে আরো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন অনেকেই। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এ নিয়ে রোমাঞ্চিত। আগের দিন সোমবার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন এ রকম কথা। কাল কলকাতার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে টিম হোটেলে পেসার আল আমিনও জানিয়েছেন প্রায় একই রকম কথা। তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা সবাই উš§ুখ হয়ে আছি ঐতিহাসিক একটা টেস্ট গোলাপি বলে। এখানে ভারতও অপরিচিত। আমরাও অপরিচিত। দুই দিক থেকে অপরিচিত। বলটাও নতুন। মনে হচ্ছে, ভালো একটা চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে। শেষ ৩-৪ দিন (টেস্ট ম্যাচ চলাকালীনও অনুশীলন করেছিলেন আল আমিন) ধরে অনুশীলন করতেছি। কলকাতা যাওয়ার পরও অনুশীলন করার সুযোগ পাব। সবকিছু মিলিয়ে অতীতে যেগুলো ঘটে গেছে, ওগুলো চিন্তা করলে সামনে আগানো খুব কঠিন। আমরা চিন্তা করছি, দল হিসেবে কিভাবে ভালো খেলা যায়, কিভাবে প্রতিরোধ গড়া যায়। সেই চেষ্টাই থাকবে কলকাতা টেস্টে।’

গোলাপি বলে বাংলাদেশ দলের মাঝে ভারতে আল আমিনই বেশি অনুশীলন করেছেন। টেস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের খেলা শেষে নেটে তিনি আরো কয়েকজন মিলে গোলাপি বলে অনুশীলন করেন। এরপর তিন দিনে টেস্ট হলে শেষ দুই দিনও অনুশীলনও করেন তিনি। তাই এই মুহূর্তে তিনিই গোলাপি বলের ব্যবহার বেশি করেছেন। সেই অভিজ্ঞতায় গোলাপি বলে আল আমিন বলেন, ‘আসলে ভালো জায়গায় বল করতে হবে। হ্যাঁ, একটু ভিন্নতা আছে। লাল বলের চেয়ে সিমটা একটু শক্ত। সাইন করা যায় খুব সহজে। সবকিছু মিলে সেক্ষেত্রে ভালো হবে মনে হয়। কন্ডিশন যদি ভালো থাকে, আমরা পেস বোলাররা খেলব। দায়িত্ব অনেক। ভালো জায়গায় বল করতে হবে। না হলে ওদেরকে সমস্যায় ফেলা যাবে না। কারণ তাদের সবগুলো ব্যাটসম্যানই বিশ্ব মানের। র‌্যাঙ্কিংয়ের ১ থেকে ১০ এর ভেতর ২/৩ জন ব্যাটসম্যান আছেন। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের বোলারদের জন্য অনেক বড় পরীক্ষা এই গোলাপি বলে। কারণ বল ভালো, কন্ডিশন ভালো, আমরা যদি ভালো করতে পারি তাহলে টেস্টটা একটা ইতিবাচক রেজাল্ট পাবে।’ তার মতে নতুন বলের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের জন্য পুরনো বলে চ্যালেঞ্জ বেশি হবে। আর টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে বোলারদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘যখন ফ্লাডলাইট জ্বালাবে, তখন বলের মুভমেন্ট বেড়ে যাবে। ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ হবে। তবে আমার মনে হয় চ্যালেঞ্জ মূলত বোলারদের। যে দলের বোলাররা ভালো করবে ওরাই টেস্টে এগিয়ে থাকবে।’

কুড়ি ওভারের সিরিজে আল আমিন দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে বেশ ভুগিয়েছেন ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু তারপরও তাকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি। মোস্তাফিজও ছিলেন না। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যারা ফিট তাদেরকেই ইন্দোর টেস্টে খেলানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আল আমিন বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট কখন কি বলে। এর কারণ কি। তারাই ভালো বলতে পারবে। আমরা যারা টেস্ট দলে আছি, সবাই টেস্ট খেলার জন্য ফিট আছি। সবাই কিন্তু আসার আগে চার দিনের ম্যাচ ২/৩টা খেলে এসেছে। মানসিক, শারীরিকভাবে আমরা ফিট আছি।

গোলাপি বলে দুই দলের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা। অনুশীলনের আলোকে কি কি সমস্যা হতে পারে জানতে চাওয়া হলে আল আমিন বলেন, ‘গোলাপি বলটা সবার জন্যই নতুন। বলটাও একটু ভিন্নভাবে তৈরি। সেক্ষেত্রে সবার জন্যই প্রতিবন্ধকতা হবে। বলটা যখন ভিজে যাবে, তখন আমাদের জন্য ভিজে যাবে, ভারতের জন্যও ভিজে যাবে। ব্যাটসম্যানরা যখন ব্যাটিং করবে তখন ওদের জন্যও অসুবিধা, আমাদের জন্যও অসুবিধা। আমি বারবারই বলছি, আমরা যারা বোলার আছি পেসার-স্পিনার, আমরা যদি গ্রæপ হিসেবে ভালো জায়গায় বোলিং না করতে পারি, এটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। ব্যাটসম্যানদের যত বেশি ভালো বল করব, তত ওরা সমস্যায় পড়বে। আমরা পেসাররা এখনোও বল ভিজিয়ে অনুশীলন করা হয়নি। নতুন বলে কিভাবে বলটা সুইং করানো যায়, এগুলো নিয়েই কাজ করছি। হয়তোবা কলকাতায় গিয়ে যদি টিম ম্যানেজমেন্টের প্ল্যান থাকে বা আমরাও বল শিশিরে ভিজলে সেটা দেখার চেষ্টা করব।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...