প্রথম দিনই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

মহিউদ্দিন পলাশ, ইন্দোর থেকে

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৯

সেরা একাদশে সাত ব্যাটসম্যান। উইকেট ব্যাটিংবান্ধব। এখন প্রয়োজন টস জেতা। তাহলেই আগে ব্যাটিং অবধারিত। বাংলাদেশের এগারতম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুলের এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার সেতুবন্ধন ঘটে। ব্যাট হাতে করে দেখানোর পালা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রাও শুরু। কিন্তু মুমিনুল অ্যান্ড কোম্পানি নিজেদের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করতে পারেননি। সাত ব্যাটসম্যান নিয়েও দিনটিকে নিজেদের করে নিতে পারেননি। মুমিনুল ও বাংলাদেশের অনেক ‘প্রথম’র দিনটি হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। অলআউট হয়েছে মাত্র ১৫০ রানে।

আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথম দিনই চলে গেছে ব্যাকফুটে। ব্যাট করতে নেমে ভারতের সংগ্রহ এক উইকেটে ৮৬। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয়ে চার দিনেই ম্যাচ হেরেছিল ৯ উইকেটে।

টস জেতার পর ব্যাটিং বেছে নিয়ে মুমিনুল জানিয়েছিলেন শক্ত উইকেট। তাই ব্যাটিং আগে করব। চতুর্থ ইনিংসে উইকেটে ফাটল ধরবে। যে কারণে তিনি সে পথে হাঁটতে চান না। মুমিনুলের কথার প্রমাণ মিলে সুনিল গাভাস্কারের কথায়ও। পিচ রিপোর্টে গাভাস্কার রান দেখেছিলেন। টস জিতলে ভারত ব্যাট করতে চাইবে আগে। কিন্তু কোহলির কথা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। টস হেরে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও কোহলি জানিয়েছিলেন পিচে কিছু ঘাস থাকায় এবং ইন্দোরের পিচের প্রথম দিনের বিবেচনায় টস জিতলে তিনিও বোলিং বেছে নিতেন। এমন পিচে তার সেরা একাদশের তিনজন পেসার আদর্শ বলেও মন্তব্য করেন কোহলি। কোহলি কিন্তু এই কথা বলেই থেমে যাননি। দ্বিতীয় দিন থেকে পিচ ব্যাটসম্যানদের কথা বলবে বলেও জানান। আপতত প্রথম দিন কোহলির কথাই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশকে ১৫০ রানে আটকে রেখে তারা কিন্তু রানের ফোয়ারায় ছুটছেন। দ্বিতীয় দিন যে ভারতের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে পিচ আরো ভালো করে কথা বলবে সে পূর্বাভাসই পাওয়া যাচ্ছে!

ভারত তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজালেও বাংলাদেশ দুই পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে সাজিয়েছিল একাদশ। ভারতের যে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ আর বাংলাদেশের বোলিংয়ের যে দুর্ভিক্ষ, তাতে করে ভারতকে অলআউট করা সম্ভব নয়। তার চেয়ে ভালো রক্ষণাত্মক পদ্ধতি অবলম্বন করে লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে যুদ্ধে নামা। তাতে করে নিজেদের ইনিংস যতটা সম্ভব হƒষ্টপুষ্ট করা যায়। এতে করে যদি ভারতের বিপক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব হয় প্রতিরোধ অন্দরমহলের ভাবনা ছিল এ রকমই। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা হতাশ করার পর বোলাররাও শেষ বিকেলে কোনো বিশেষ কারিশমা দেখাতে পারেননি। স্লিপে আবু জায়েদ রাহীর বলে ইমরুল কায়েস আগরওয়ালের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। আগরওয়ালের রান তখন ৩২। দিনশেষে সেই তিনিই অপরাজিত ৩৭ রানে। তার সাথে ৪৩ রান নিয়ে আজ ব্যাট করতে নামবেন চেতশ্বর পূজারা। তাতে করে দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ নিজেদের কতটুকু ফিরে পাবে তা এক বিরাট প্রশ্ন! বাংলাদেশের বোলাররা তেমনভাবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে পারেননি। বাংলাদেশের একমাত্র সাফল্য রোহিত শর্মাকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেয়া। আবু জায়েদ রাহীর বলে উইকেটের পেছনে তার ক্যাচ ধরেন লিটন দাস।

বাংলাদেশ যে ১৫০ রান করেছে, সেখানে রান আরো কম হতে পারতো। কিন্তু ভারতীয় ফিল্ডারদের সহজ ক্যাচ মিসের প্রদর্শনীর কারণে তা আর হয়ে উঠেনি। এক মুশফিকই জীবন পেয়েছেন দুইবার। আরেকবার ছিল হাফ চান্স। জীবন পাওয়ার তালিকায় আছেন মাহমুদউল্লাহও। মুমিনুলও একবার হাফ বেঁচে যান। মুশফিক জীবন পেয়েছিলেন ৩ ও ১৫ রানে। হাফ চান্সে জীবন পাওয়া ছিল ৩৪ রানে। মাহমুদউল্লাহ ৭ ও মুমিনুল ৩ রানে জীবন পান। এরা জীবন না পেলে বাংলাদেশ শতরানের নিচেই অলআউট হয়ে যেতে পারতো!

বাংলাদেশ যে ১৫০ রানে অলআউট হবে সে রকম অবস্থাও ছিল না। ৪.৪ ওভারে মাত্র ১০ রানে শেষ ৫ উইকেট হারালে সূর্যের প্রখরতার মাঝেও বাংলাদেশের শিবিরে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে বোলিং আক্রমণ দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারত, বাংলাদেশের বিপক্ষেও সেই আক্রমণ নিয়ে নামে। পাঁচ বোলার থাকলে তিন পেসার ইশান্ত শর্মা (২/২০), উমেশ যাদব (২/৪৭) ও মোহাম্মদ শামির (৩/২৭) সাথে অশ্বিন মিলেই (২/৪৩) বাংলাদেশকে ধসিয়ে দেন। তিন পেসারের গতি আর সুইংয়ের কাছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বারবার পরাস্ত হয়েছেন। ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ ছিলেন নড়বড়ে। এমনই নড়বড়ে যে দেখে মনে হয়েছে যখন-তখন তারা আউট হয়ে যাবেন। পরে হয়েছেনও তাই। তাদের আউটগুলো ছিল দৃষ্টিকটু। মুমিনুল বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হন। মুশফিকও বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হন। মোহাম্মদ মিঠুন ও লিটন শিকার হন এলবিডব্লিউয়ে। মিরাজও এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও এলবিডব্লিউ ছিল না। অপরপ্রান্ত থেকে লিটন দাস সাড়া না দেয়াতে মিরাজ আর রিভিউ নেয়ার সাহস করেননি।

ইশান্ত ও উমেশ মিলে শুরুতেই দুই ওপেনারকে (ইমরুল ৬ ও সাদমান ৬) দলীয় মাত্র ১২ রানে ফিরিয়ে দিয়ে যে আঘাত হেনেছিলেন তা থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি বাংলাদেশের। মোহাম্মদ শামি বল হাতে নেয়ার পর মোহাম্মদ মিঠুনকেও (১৩) দলীয় ৩১ রানে ফিরিয়ে দিলে বাংলাদেশের বিপর্যয় ঘনীভূত হয়েছিল। সেখানে আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন মুমিনুল ও মুশফিক। দুজনে জীবন পাওয়ার পরও চেষ্টা করে যান ইনিংস মেরামত করতে। ধীরে ধীরে সফলও হচ্ছিলেন। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট পড়তেও দেননি।

জুটিতে ৬৮ রান আসায় মুমিনুল (৩৭) অশ্বিনের বল ছেড়ে দিতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরে আসার পর প্রতিরোধের বাধ ভেঙে প্রচণ্ড গতিতে পানি প্রবেশ করতে থাকে। উইকেটে শুরু হয় ব্যাটসম্যানদের বানভাসি মানুষের মতো আসা-যাওয়া। যেখানে চা বিরতির আগে-পরে পরপর তিন বলে হারায় তিন উইকেট। মোহাম্মদ শামির পরপর দুই বলে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী মুশফিক ৪৩ ও মেহেদী হাসান মিরাজ গোল্ডেন ডাক মারেন। চা বিরতির পর অশ্বিনের প্রথম বলেই ফিরে যান লিটন দাস (২১)। ৫ উইকেটে ১৪০ থেকে ৮ উইকেটে ১৪০।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...