টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যুগে পা রাখছে বাংলাদেশ

মহিউদ্দিন পলাশ, ইন্দোর থেকে

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৯

সংবাদ সম্মেলন শেষ। উঠে দাঁড়িয়েছেন মুমিনুল হক। ঠিক তখনই বাংলাদেশের এক সাংবাদিক দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে বলে একটি প্রশ্ন করার অনুমতি চাইলেন। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি প্রশ্নও করেন। তারপর আরো একজন বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রশ্ন করার অনুমতি চাইলে তিনিও সুযোগ পান। তখন তিনি বাংলাদেশের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুলের কাছে জানতে চান সাকিব-তামিম ছাড়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং? যে সাকিব-তামিম ব্যতীত বাংলাদেশ দলকে ভাবাই যেত না, সেই দুজনকে ছাড়াই বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে। অথচ তাদেরকে নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই সাংবাদিকদের। পরে মনে হওয়াতে বিশেষ বিবেচনায় প্রশ্ন করার সুযোগ মিলে। পঞ্চ পাণ্ডবের দুই পাণ্ডবের অভাব এভাবে অনুভ‚ত না হওয়ার কৃতিত্ব কিন্তু ক্রিকেটারদেরই। তারাই কাজটি করে দেখিয়েছেন।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তাদের প্রশংসনীয় খেলা, ভারতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়া-সাকিব ও তামিমের অভাব আড়ালে পড়ে গেছে। এবার সেই কাজটি শুরু হবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে। মুমিনুলের কথাও ছিল সেই রকম। তবে তার আগে সতীর্থদের দিয়েছেন যথাযথ সম্মান, ‘আমার মনে হয় দুজনের জায়গায় ওইখানে তিনজন খেলোয়াড় নেই। সাকিব ভাই তো একজনের জায়গায় দুজন। সাথে নেই তামিম ভাইও। হ্যাঁ, একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে যারা নেই তাদের নিয়ে পড়ে থাকলে তো হবে না। যারা আছে তাদের নিয়েই আমাদের খেলতে হবে। এখন সবাই অনেক বেশি মনোযোগী। সবাই অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সবাই একটা সুযোগ হিসেবে দেখছে। সবাই সেভাবে উদগ্রীব হয়ে আছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু, সেটাও ভারতের বিপক্ষে। সবাই পারফর্ম করার জন্য উদগ্রীব আছে।’ মুমিনুলের কথায় ছিল আত্মশ্বিাসের ঝিলিক। মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের মতো মুমিনুলের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের ক্রিকেটেও যদি সেই ঝিলিক দেখা যায়, তা হবে সাকিব-তামিমবিহীন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় অর্জন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ প্রথম মাঠে নামলেও ভারত ৫ ম্যাচ খেলে সব ক’টিতে জিতে ২৪০ পয়েন্ট নিয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আছে সবার থেকে উপরে।

তবে এ কথা ঠিক কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে অসাধ্য সাধন করেছে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সেই অসাধ্য সাধন করা হবে আরো কঠিন কাজ। কারণ কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ছিলেন না বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যান ও দলপতি। তার মতো ব্যাটসম্যান দলে ফিরে আসা মানে প্রতিপক্ষের বোলারদের জন্য সাক্ষাৎ যমদূত। আবার সাদা পোশাকে ভারত আরো ভয়ঙ্কর। আরো বেশি শক্তিশালী। র‌্যাঙ্কিং নাম্বার ওয়ান। এইতো গত মাসে তারা ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে কি খেলাই না খেলেছে। তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই বিশাল ব্যবধানে জয়। ব্যাট হাতে রোহিত শর্মা ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে এসে রান বন্যায় ভাসতে থাকেন। উভয় ইনিংসে (১৭৬ ও ১২৭) করেন সেঞ্চুরি। আরেক ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালও ডাবল (২১৪) সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি (১০৮) তুলে নেন। একটি টেস্টে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে এসেছিল অপরাজিত ২৫৪ রানের ইনিংস। অজিঙ্কা রাহানের তিন অঙ্কের একটি ইনিংস ছিল ১১৫ রানের। ব্যাটসম্যানদের মাঝে সেঞ্চুরির দেখা পাননি শুধু চেতেশ্বর পূজারা। তারপরও তার একটি ইনিংস ছিল ৮৪ রানের। এইতো গেল ব্যাটিং লাইন। অপরদিকে বোলিং আক্রমণে পেস ও স্পিন মিলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন মোহাম্মদ সামি, উমেশ যাদব, অশ্বিন ও রবিন্দ্র জাদেজা। অশ্বিন ১৫টি, জাদেজা ও সামি ১৩টি করে এবং উমেশ ১১টি উইকেট নেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ৬০ উইকেটের ৫২টিই ছিল এই চারজনের দখলে।

এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় ভারত কতটা শক্ত অবস্থানে আছে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থা অস্তগামী সূর্যের মতো। টেস্ট র‌্যাঙ্কিং নয়। এমনিতেই সাদা পোশাকে বাংলাদেশের মান খুবই হতাশজনক। সেখানে আবার আফগানিস্তানের মতো টেস্ট পরিবারের দুগ্ধশিশুর কাছেও হার মেনেছে বিনা যুদ্ধে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভারতের মোকাবিলা। তাও আবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের যাত্রালগ্নে। তবে এখানে বাংলাদেশের ভয়ের কিছু নেই। নেই হারানোর। নতুন দলপতি মুমিনুল এটিকে দেখছেন একটি ‘সুযোগ’ হিসেবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বেশ কয়েকবার এই ‘সুযোগ’ কথাটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করেছেন। সুযোগকে কাজে লাগাতে তিনি নিতে চান না কোনো চাপ। ভারত, ভারত রব তুলে নিজেদের মাথার উপর বোঝা বাড়াতে চান না। আবার ভারতও বাংলাশেকে যথেষ্ট সম্মানের চোখে দেখছে। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান এবং বোলারকেই কোহলি হালকাভাবে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে। আবার ভারত ও বাংলাদেশের কন্ডিশন প্রায় একই রকম হওয়াতে লড়াই হবে বলেও কথা প্রকাশ করেছেন।

কুড়ি ওভারের যে দল নিয়ে বাংলাদেশ ভারতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সেখানে আছে বিস্তর পরিবর্তন। আটজন এসে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। যেখানে নতুন মুখ আছেন সাইফ হাসান। যিনি ভারত আসার আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে হাঁকিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি। খেলেছিলেন অপরাজিত ২২০ রানের ইনিংস। ইমরুল কায়েসকে পেছনে ফেলে সাদমান ইসলামের সাথে আজ তাকে ইনিংসের গোড়পত্তনও করতে দেখা যেতে পারে। তবে এখানে ইমরুল ও সাইফের সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি। ব্যাটিং অর্ডারে এরপর আসবেন মুমিনুল, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস। সমস্যা হলো বাংলাদেশ কয়জন পেসার নিয়ে খেলবে। ভারত তিন পেসার নিয়ে খেলার কথা সংবাদ সম্মেলনেই জানিয়ে দিয়েছে। মুমিনুল ধীরে চলার পথে হেঁটেছেন। জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্ট, বসে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিরাট কোহলি মোস্তাফিজকে নিয়ে আতঙ্কের কথা জানালেও সেই মোস্তাফিজই আছেন খেলা, না খেলার দোলাচলে। তিন পেসার খেলালে স্কোয়াডে থাকা বাকি তিনজন আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন ও আল আমিন হোসেনই খেলবেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান একজন কমতে পারে। কাটা পড়তে পারেন মোহাম্মদ মিঠুন। কারণ এক স্পিন নিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তখন মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে তাইজুল ইসলাম জুটি বাঁধবেন। আবার ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের কথা বিবেচনা করে ব্যাটিং লাইন লম্বা করার চিন্তা-ভাবনা থেকে দুই পেসার ও দুই স্পিনার নিয়েও খেলার সম্ভাবনা আছে। দলপতি মুমিনুল উইকেট দেখে জানিয়েছেন ব্যাটিংয়ের জন্য হেল্পফুল। তবে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে রাতের টিম ম্যানেজমেন্টের বৈঠকে?

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads
ads





Loading...