জিততে দুই পক্ষই ‘মরিয়া’

বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটার
বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটার - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • মহিউদ্দিন পলাশ
  • ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৪৫

‘মরিয়া’। বাংলাদেশ-ভারতের কুড়ি ওভারের সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আবহাওয়া বলা যায় মরিয়া। এই মরিয়া জয় পেতে। এই জয়ে আবার আছে ব্যাপক পার্থক্য। এক পক্ষ মানে অতিথি বাংলাদেশ। তারা মরিয়া সিরিজ জয় করতে। প্রথম ম্যাচে দিল্লির বায়ু দূষণের মাঝে পড়েও উল্টো স্রোতে হাঁটেনি। প্রতিকূল আবহাওয়াকে অনুকূলে এনে এমনিতেই বাঘ, ঘরের মাঠে একটু বেশিই বাঘ ভারতকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেখানোর পাশাপাশি সিরিজে এগিয়ে যায়।

শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, নানা দিক থেকে বাংলাদেশের সেই জয়ের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি মহিমান্বিত ভারতের মাটিতে প্রথম জয়ের পাশাপাশি নিজেদের ঘরে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তাও কেটে গেছে এই এক জয়ে। খুঁজে পেয়েছে পায়ের নিচে মাটি। যে মাটি বেশ শক্ত মনে হচ্ছে। ভেতরের টালমাটাল অবস্থা কেটে গিয়ে মনোবল শুধু ফিরে পায়নি, আত্মবিশ্বাসের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।

যে আত্মবিশ্বাসের জোরে বলীয়ান হয়ে আজ রাজকোটেরও ‘রাজা’ হতে চায়। আর রাজ হওয়া মানেই তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের পকেটে ভরে নেয়া। তাই মাহমুদউল্লাহ অ্যান্ড কোম্পানি মরিয়া। ভারতের মরিয়া হওয়ার কারণ সিরিজ বাঁচানো। বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত হার তাদের বেশ বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এই এক হারে চতুর্দিকে নানা সমালোচনা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। চাপে ন্যুয়ে পড়ার মতো অবস্থা। মিডিয়ার চাপ। দর্শকদের চাপ।

এই চাপমুক্ত হতে হলে ম্যাচ জিততেই হবে। না জিতলে যে সিরিজ হাত ছাড়া। যা তখন হবে আরেকটি পাহাড় সমান চাপ। যে কোনো ফরম্যাটে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ম্যাচ হারের পর হবে ঘরের মাঠে প্রথম সিরিজ হারও। তাইতো রোহিত শর্মা অ্যান্ড কোম্পানি জিততে মরিয়া।

এই যে দুই দল জিততে মরিয়া। আর এতেই বুঝা যাচ্ছে আজকের ম্যাচের ঝাঁজ! কিন্তু এ সব কী দৃশ্যমান হবে। কারণ বাংলাদেশ বায়ুদূষণে আচ্ছ¡াদিত ‘দিল্লি’ জয়ের পরই রাজকোটে গিয়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মাহা’র মুখে। ম্যাচের দিনই আঘাত হানার কথা। ফলে ম্যাচ আয়োজন নিয়েই শঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু প্রকৃতির রং বদল হতে সময় নেয়নি। ‘মাহা’ শক্তি হারিয়ে অন্য দিকে সরে গেছে।

আজ আঘাত হানবে রাজকোট থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। এর প্রভাবে বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। কিন্তু সেই বৃষ্টি এক দিনের। যা ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠ খেলার উপযোগী করে তোলা সম্ভব। কিন্তু দিনের বেলা আবহাওয়ার অফিসের এই তথ্য আবার বুধবার সন্ধ্যায় রং পরিবর্তন করে। সন্ধ্যা হতে না হতেই প্রচণ্ড বেগে বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু তারপরও ম্যাচ আয়োজন নিয়ে সৌরাষ্ট্র অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা আশাবাদী। টানা বৃষ্টি না হলে ম্যাচ মাঠে গড়াবে!

গুজরাট প্রদেশের রাজকোটের সৌরাস্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম অনেকটা ক্রিকেটের ঐতিহ্য লর্ডসের মতোই। অনেকটা শান্ত পরিবেশ। এখানে আজকের আগে কুড়ি ওভারের ম্যাচ হয়েছে মাত্র দুটি। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ৬ উইকেটে হারালেও ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪০ রানে হেরেছিল ভারত। দুটি ম্যাচেই ছিল হাই স্কোরিং। অস্ট্রেলিয়ার ২০১ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত।

পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের করা ১৯৬ রান অবশ্য আর তাড়া করতে পারেনি। আজকের ম্যাচেও উইকেটে রান হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে। এটি ভারতের দলপতির কথা। আর বাংলাদেশের দলপতি রান দেখার পাশাপাশি উইকেট শুষ্ক মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে গড়ে ১৭০-১৮০ রানের মতো হয়ে থাকে। মানে অনেক বড় স্কোর। উইকেট হয়তো ভালো হবে।

পরিস্থিতি ও কন্ডিশন অনুযায়ী হয়তো আমাদের খেলার পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।’ যে কারণে উইনিং কম্বিনেশনে পরিবর্তনেরও আভাস পাওয়া গেল। তবে সে রকম কিছু হবে আজ বিকেলে উইকেট দেখার পর। সে ক্ষেত্রে একজন পেসার কমিয়ে স্পিনার বাড়ানো হবে। কোন পেসার ডাগ আউটে থাকবেন আর কোন স্পিনার ২২ গজে হাত ঘুরাবেন তার কোনো পূর্বাভাস নেই।

দিল্লিতে বাংলাদেশ ছিল ‘অলরাউন্ডার’। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ছিল অপ্রতিরোধ্য। যাকে বলা যায় ত্রিফলের সমাহার। এ রকম সমাহার আজও প্রত্যাশা সবার। দিল্লিতে মাহমুদউল্লাহ ৮ জন বোলার ব্যবহার করে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের আস্ফালন থামিয়ে দিয়েছিলেন। মাহমুদউল্লাহ এমনই বিচক্ষণতার সাথে বোলারদের ব্যবহার করেছিলেন যে আফিফ টানা ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেয়ার পরও তাকে দিয়ে কোটা পূরণ করাননি। কোটা পূরণ করানো হয়নি ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয়া লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামকে দিয়েও।

মোস্তাফিজের মতো বোলার মাত্র ২ ওভার বোলিং করেন। সেদিন কোট পূরণ করেছিলেন শুধু আল আমিন ও শফিউল। শফিউল ৩৬ রানে ২ উইকেট নিলেও আল আমিন ছিল ভয়ঙ্কর। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়েছিলেন। ২০তম ওভার করতে এসে রান দিয়েছিলেন ১৬। হাত ঘুরিয়েছিলেন ১ ওভার বোলিং করে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেকও। স্লো মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকারও ২ ওভারে হাত ঘুরিয়েছিলেন।

ব্যাটিংয়ে লিটন দাস শুরুতেই ব্যর্থ হলেও অভিষিক্ত মোহাম্মদ নাঈম শেখ (২৮ বলে ২৬ রান) চমৎকার খেলে ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন অফ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকারকে নিয়ে। এ দিন সৌম্য ৩৫ বলে ৩৯ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। বাকি কাজ সেরেছিলেন দুই ভায়রা ভাই মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। মুশফিকের ৪৩ বলে অপরাজিত ৬০ আর মাহমুদউল্লাহর ৭ বলে অপরাজিত ১৫ রান বাংলাদেশের জয়ের কাব্য রচনা করেছিল।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয়ে একটি ‘কুফা’ দূর হয়েছে। এর আগে দুই দুইবার জয়ের বন্দরে গিয়েও ডুবে যেতে হয়েছিল হারের অথৈ সাগরে। সেই ‘কুফা’ কাটিয়ে উঠে এখন সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর মাহমুদউল্লাহরা। কিন্তু রোহিত শর্মাও আর হারতে রাজি নন। বাংলাদেশকে হারাতে পরিকল্পনায় আনবেন পরিবর্তন। কিন্তু এসব কিছুই নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড় মাহার প্রভাব কতটা জাল বিস্তার করে তার উপর।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...