বিসিবির ডাকে সাড়া দেননি সাকিবরা : ষড়যন্ত্র মনে করছেন পাপন


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪৪

কোনো সুরাহা হয়নি সাকিবদের ১১ দফা দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘটের। আগের দিন সোমবার ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের ঘোষণার পর কাল বিসিবি সভাপতি কয়েকজন পরিচালককে নিয়ে জরুরি সভায় বসেন। যেখান থেকে ক্রিকেটারদের ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ফোন রিসিভ করেননি ক্রিকেটাররা। ফলে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভারত সফরকে সামনে রেখে ক্রিকেটারদের এই আন্দোলনকে বিসিবি সভাপতি যেমন ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন, তেমনি আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছেন। আবার প্রয়োজনে হার্ড লাইনে যাবেন বলেও ইঙ্গিত করেছেন। এরফলে বিসিবি ও ক্রিকেটাররা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছেন।


সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ধর্মঘটকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবির পরিচালকদের সাথে জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ রকম সন্দেহের কথা জানান। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে-ফিরে বেশ কয়েকবারই বিসিবি সভাপতি ‘ষড়যন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মাঝে মাঝে উত্তেজিত হয়েও পড়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন পরিচালকও ক্ষুব্ধ মনোভাব দেখান।


কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ও আলাপ-আলোচনার সুযোগ না দিয়েই হুট করে এ রকম ধর্মঘট ডাকার কারণেই বিসিবি সভাপতির মনে এ রকম সন্দেহের উদ্বেগ। উপচেপড়া সাংবাদিকদের ভিড়ে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘দাবি ওরা জানাতেই পারে। খুবই ন্যাচারাল। কিন্তু সেটির জন্য তারা স্ট্রাইকে গেছে। এটা এক্সট্রিমলি শকিং। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এমন কিছু হতে পারে। ক্রিকেটাররা এসব দাবি আমাদের কাছে করলেই আমরা তা মেনে নিতাম। কিন্তু আমাদের কাছে করল না। আমাদের কোনো সুযোগ না দিয়ে বয়কটের ঘোষণা দিল। এটি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’ সংবাদ সম্মেলনে সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম, জালাল ইউনুস, নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি, তানজিল চৌধুরী, ডা. ইসমাইল হায়দার মল্লিক, শেখ নজিব আহমেদ, খালেদ মাহমুদ সুজন, কাজী ইনাম আহমেদ, প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনসহ আরো অনেকে।


বিসিবি সভাপতি বার বার ‘যড়যন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করার পেছনে অনেক কারণও দেখছেন। তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। একেতো ক্রিকেটাররা সরাসরি ধর্মঘটে চলে গেছেন। আবার তাদের ১১ দফা নিয়ে বিসিবির কাছেও লিখিত কোনো কিছু জানাননি। মিডিয়ার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। তারপরও তারা ক্রিকেটারদের ফোন করেছিলেন আলোচনার জন্য। কিন্তু ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এখন পর্যন্ত বিসিবির সাথে ক্রিকেটারদের কোনো রকম আলোচনা হয়নি। টেস্ট মযার্দা পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে এ রকম আন্দোলনকেও বিসিবি সভাপতি ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অবহিত করছেন। এর পেছেন তৃতীয় পক্ষ কারো হাত আছে এবং আন্দোলনকারী ক্রিকেটারদের দুই/একজনও জড়িত বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘ওরা তো চাইলেই পাবে। আসেনি কেন? আমাদের কাছে চাচ্ছে না কেন? ফোন ধরছে না। সবকিছুর পেছনে কারণ আছে। আমাদের কাছে না গিয়ে মিডিয়ায় বলেছে। সেটির পেছনে বিশেষ কারণ আছে। এটি বিশেষ একটি পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। একজন লোকই আছেন, যিনি বার বার এসব করছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। এই ষড়যন্ত্রের কথা সরকার থেকে শুরু করে সবাই জানে। সব ক্রিকেটার এটির সঙ্গে জেনে শুনে জড়িয়েছেন বলে মনে হয় না। এক-দুজন জানতে পারে। এই মুহূর্তে বের করা দরকার কারা এই কাজ করছে। কিছুদিনের সময় চাচ্ছি আপনাদের কাছে। সব বের করে ফেলব।’ এভাবে ধর্মঘটের কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে বলে জানান পাপন। আন্দোলনকারী ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের ইঙ্গিত করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এতে করে যাদের লাভ হওয়ার তাদের ঠিকই লাভ হয়েছে। বিশ্ব জানল বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই অবস্থা।’ ১৫০০ টাকা ভাতা ডলারে কত হয় এ রকম প্রশ্নও বিদেশ থেকে কেউ কেউ করেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এত কম টাকা কি করে দেই তারা জানতে চেয়েছে। কিন্তু এটিতো ম্যাচ ফি না। দৈনিক ভাতা। এতে করে তারা মনে করছে আমরা ক্রিকেটারদের খুবই কম আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি।’


সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবির একটি একটি করে ব্যাখা দেন। যেখানে তিনি জানান ১ ও ১০ নম্বর ছাড়া বাকিগুলোর কয়েকটি এমনিতেই করা হয়েছে। অন্যগুলোও করা হবে বলে জানান তিনি। ১ নম্বরে আছে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বর্তমান কমিটির পদত্যাগ। এখানে বিসিবির কিছু করণীয় নেই বলে জানান বিসিবি সভাপতি। ১০ নম্বরে আছে বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্জাইজি লিগ ২টির বেশি খেলার সুযোগ করে দেয়া। বিসিবি সভাপতি জানান এখানে একমাত্র সাকিব ছাড়া আর কেউই একাধিক ফ্রাঞ্জাইজি লিগ খেলার সুযোগ পায় না। ক্ষোভ মিশ্রিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে এটি বন্ধ করেই দেব।


ক্রিকেটারদের এ রকম আন্দোলনের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ভারত সফর ও জাতীয় ক্রিকেট লিগ। জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ড শুরু হবে আগামীকাল। ভারত সফরে প্রস্তুতি শুরু হবে তারপর দিন। এ নিয়ে আশা-নিরাশা দুই রকম কথাই জানান পাপন। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা না খেললে খেলবে না! আমাদের কিছু করার নেই। ওরা ক্যাম্পে গেলে ভালো, না গেলে যাবে না। ক্রিকেটারদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে না। ২-১ জন জানতে পারে। আমার দুয়ার ওদের জন্য খোলা। ওরা যদি আমার কাছে আসে অবশ্যই কথা হবে। আমি তো কথা বলতেই চাই। আমি আশা করি ক্যাম্প চলবে, ভারত সফর হবে। কারণ, আমার এখনো বিশ্বাস, বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই খেলতে চায়। তারা ক্রিকেটের উন্নয়ন চায়। কয়েকটা টাকার জন্য দেশের ক্রিকেটের সর্বনাশ করে দেবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। তবে সামনেই তো দেখতে পাব সব। এরপরই তিনি বলেন, ‘আমি আগে জানতে চাই, দেখতে চাই, কে কে খেলতে যায়, কে কে খেলতে যায় না। ক্যাম্পে কেউ যাবে কি যাবে না। কে কে ভারত সফর বাতিল করার জন্য চেষ্টা করছে। এসব তো আগে জানতে হবে। কী হচ্ছে, সেটা তো আগে জানতে হবে।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে 




Loading...
ads





Loading...