তুমুল প্রতিযোগিতায় রসিকের কাউন্সিলর প্রার্থীরা


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৮:২৫

আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ পাড়া মহল্লায় ভোট খেলা শুরু করে দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজের পক্ষে কর্মী ও সমর্থক বাড়াতে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। চলছে প্রভাব বিস্তার, পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেয়া ও গোপন নেটওয়ার্ক তৈরীর কাজ। তাই এখনি ভাগ হয়ে যাচ্ছে অনেক ভোটার। কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার জন্য অসংখ্য কর্মী সমর্থক সঙ্গে নিয়ে আসছেন। এ কারণে নির্বাচন অফিসের পাশে কাচারী বাজার এলাকায় হোটেল ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মেয়র পদে ১৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৮৩ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন মিলে মোট ২৬০জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

সূত্র মতে, ২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রংপুর সিটি করপোরেশন ৩৩টি নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডই এখনো সবুজ গ্রাম। স্থানীয় জনগণ এই ১৮টি ওয়ার্ডকে বর্ধিত এলাকা নামে ডাকে। এই ১৮টি ওয়ার্ডের জনগণ নাগরিক সুবিধা থেকে অনেকটা বঞ্চিত। সিটির সঙ্গে নাম জড়ানো হলেও কিছু রাস্তা করা ছাড়া এসব এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। তাদের দাবি, সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু এই বর্ধিত এলাকায় জমে উঠেছে ভোটের হাওয়া। শিশির ভেজা সকালে চায়ের দোকানে দোকানে জমে উঠে ভোটের গল্প। কাউন্সিলর পদে এবার কে বিজয়ী হবে? পক্ষে বিপক্ষে চলে তুমুল আলোচনা।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুর সিংহ, কোবারু ও চব্বিশ হাজারী এলাকার শহীদুল ইসলাম, রাকু ও জব্বার মিয়া বলেন, গত সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাদের তেমন একটা খোঁজও নেননি। এখন ভোটের মৌসুম শুরু হওয়ায় অনেকে ভোট চাইতে আসছেন; কিন্তু আমাদের সুযোগ-সুবিধার কথা কেউ মনে রাখেননি। তাই এবার ভোট দেব সেই প্রার্থীকে, যিনি আমাদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন।

প্রসঙ্গত, এবার তৃতীয় বারের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে পরের দিন ৯ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা ১৭ দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এক টানা ভোটগ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar