বয়স ১০০, আর কত হলে বয়স্ক ভাতা পামু!


  • জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকন্ঠ
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৪৫

১০০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রহিম। শরীরে শক্তি থাকাকালীন মানুষের দিনমজুরি করে চালিয়েছেন সংসার। এখন শরীরে শক্তি না থাকায় হাতে নিয়েছেন লাঠি। বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন জটিল রোগ। আব্দুর রহিম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত আজিজল ভূঁইয়ার ছেলে।

তিনি এখন দুই চোখে ঝাঁপসা দেখেন দিনের আলো। তাই এখন আর দিন মজুরিতে কাজও করতে পারেন না। স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন পিতার রেখে যাওয়া ঝুপড়ি ঘরে। সন্তানরাও খোঁজ নেন না বৃদ্ধ বাবার। প্রতিবেশীর সহযোগীতায় কোনও রকমে খেয়ে-পরে চরম দুর্দশায় বেঁচে আছেন।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে আব্দুর রহিম মানবকণ্ঠকে বলেন, ১০০ বছরের মত বয়স হয়েছে। এহন পর্যন্ত সরকারি কোনও ভাতা পাইনি। আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পামু। আর কয়দিন পরে চলে যামু কবরে। আমি একটা চালের নাম আর একটা ভাতার জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অনেকের কাছে গিয়েছি। তারা দেবে বলে ঘুরান। তাই সরকারের কাছে দাবি, মৃত্যুর আগে যেন আমাকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। সরকারি কোনও সহায়তা পেলে হয়তো বাকি যে ক’দিন বেঁচে আছি ততদিন একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারবো।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আশরাফ জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। দুয়েক দিনের মধ্যে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।

এদিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মতিয়ার রহমান মানবকণ্ঠকে বলেন, ১০০ বছরেও বয়স্ক ভাতা কার্ড না পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করব।


poisha bazar