ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ প্রতারক গ্রেপ্তার


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:৪৫,  আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:৫৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই প্রবাসীকে ডেকে এনে মুক্তিপণ আদায়কারী অপহরণ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামের রেনু মুন্সির ছেলে আবদুল আহাদ (৩৪), তার স্ত্রী ববিতা বেগম (৩০), পৌর এলাকার মধ্যপাড়া নয়াপুকুর পাড়ের রবি বাবুর্চির ছেলে সাজন মিয়া (৩১), পৌর এলাকার ভাদুঘরের মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে মো. মশিউর রহমান (৪৩), সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের কবির মিয়ার কন্যা লিপি আক্তার (১৮) ও নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় গ্রামের (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলকার শেরপুর) খায়রুল ইসলামের স্ত্রী জহুরা বেগম (২২)।

এসময় তাদের কাছ থেকে মুক্তিপন নেয়া ৯৩৫০ টাকা, মুক্তিপন আদায় কাজে ব্যবহৃত বিকাশ নম্বর করা ৯টি মোবাইল ফোন ও অপহৃত যুবকের কাছ থেকে নেয়া ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন সাংবাদিকদেরকে এই তথ্য জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা ১৫ আগস্ট বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের মো. রৌশন আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাকিল মিয়া (২৫)-কে উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকা থেকে এবং ১৬ আগস্ট দুপুরে অরুয়াইল বাজার এলাকার হাজী কাঞ্চন মিয়ার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সোরহান মিয়া (৩০)-কে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ডেকে নিয়ে আসে। পরে তাদেরকে শহরের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে ওই প্রতারক চক্রের মহিলার তাদেরকে নগ্ন করে ছবি তুলে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা আদায় করে।

এর মধ্যে শাকিলের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ১০ হাজার ও সোরহান মিয়ার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে তিনদফায় ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন।

শাকিলের আত্মীয় স্বজন অপহরনের বিষয়টি সরাইল থানার পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধারের জন্য মাঠে নামে। এমতাবস্থায় গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মোবাইল ফোন রেখে শাকিলকে এবং বিকেল ৪টায় সোহরান মিয়াকে অপহরনকারীরা ছেড়ে দেয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) কীর্তিমান চাকমা, সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন।

মানবকণ্ঠ/এমআই


poisha bazar