• বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • ই-পেপার

কমলগঞ্জের মজুরির দাবিতে বিভিন্ন চা বাগান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৩ আগস্ট ২০২২, ২২:১৮

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে মজুরির দাবিতে সড়ক অরোধ করে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করে চা শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে ১৬৭টি চা বাগানে চার দিনে কর্মবিরতি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ভ্যালীর যৌথ সিদ্ধান্তে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে আলীনগর হালিমা বাজার, শমশেরনগর চৌমুহনা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে শনিবার সকাল থেকে উপজেলার ২২টি চা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। এসব চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চা শ্রমিকরা।

হালিমাবাজারে আলীনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী, বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি গণেশ পাত্র, সজল কেরী প্রমুখ।

শমশেরনগর বাজারে শমশেরনগর চা বাগান, কানিহাটি চা বাগান, দেওছড়া চা বাগানের চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
এখানের প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদ, মনু দলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী, মহিলা সদস্যা নমিতা সিংহ, শ্রীকান্ত কানু গোপাল, মাসিক চা মজদুর সম্পাদক সীতারাম বীন, চা শ্রমিক ছাত্রনেতা মোহন রবিদাস প্রমুখ।

এছাড়াও আলীনগর চা বাগান, কুলাউড়ার চাতলাপুর চা বাগান ও তিলকপুর চা বাগানের চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শমশেরনগর বাজারে চৌমুহনা চত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এসব বিভিন্ন সড়কে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাম ভজন কৈরি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে ন্যুনতম মানবাধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার দিতে হবে। চা শ্রমিকের হাজিরা ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীত করার দাবি অনেক দিনের।

বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে চা শ্রমিকরা মাত্র ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে কোন মতেই সংসার চালাতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও মজুরি বৃদ্ধি হচ্ছে না। ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি না হলে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন। ৩০০ টাকা মজুরি চুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার থেকে চা শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল। একযোগে দেশের ১৬৭টি চা বাগানে মজুরী বৃদ্ধির দাবিতে এই কর্মবিরতি পালন চলছে। কর্মবিরতি পালনকালে সবকটি চা বাগানে শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশ, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেছেন। 

 

মানবকণ্ঠ/পিবি


poisha bazar