কোম্পানীগঞ্জে দু'পাড়ের মানুষের ভরসা ভাঙ্গা ব্রীজ


  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৬ আগস্ট ২০২২, ২০:৪৭

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের পেঁচাছড়া খালের ভাঙ্গা ব্রীজই ভরসা দু'পাড়ের মানুষের। আর এখানে একটি সেতুর জন্য কয়েকটি গ্রামের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় ২৫ বছরের ভিতরে নজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের।

ব্রীজটি ১৯৯০-৯১ অর্থ বছরে নির্মিত হয়। তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম এম. তৈয়বুর রহমানের আমলে তার ছোট ভাই রাজা মিয়া সেতুটির নির্মাণ কাজ করেন।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু পাহাড় থেকে প্রবাহিত পেঁচাছড়া খালটি লামাগ্রাম নামক গ্রামটি দু'ভাগে বিভক্ত করে দেয়। গ্রামটি হয়ে যায় পূর্ব পাড় ও পশ্চিম পাড় নামে। সেতুটি নির্মাণ হলে নতুন করে আবার স্থাপিত হবে একই গ্রামের দু'পাশের মানুষের মধ্যে ভূ-ভাগের মেলবন্ধন।

কিন্তু নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় পাহাড়ি ছড়ার উপর নির্মিত সেতুটি নিচ দিকে দেবে গিয়ে সেতুর পূর্বছাইট পুরোপুরিভাবে ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ তিন দশকেও সেতুটির কোন সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সেতুটি ভাঙ্গা থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে এটা ভাঙ্গা ব্রীজ নামে পরিচিতি লাভ করে।

সুগভীর পাহাড়ি খালের উপর নির্মিত এই ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচটি গ্রামের ৪ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপজেলার কামালবস্তি মাদ্রাসা, হুমায়ুন রশীদ উচ্চ বিদ্যালয়, ভাটরাই স্কুল এন্ড কলেজে আসা যাওয়া করে থাকে। এছাড়াও গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদর উপজেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া আসার একমাত্র রাস্তা হল এ ভাঙ্গা ব্রীজ। তাই একমাত্র এই ভাঙ্গা ব্রীজের কারণেই উপজেলার পাঁচ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে ও চলাফেরায় দুর্ভোগের শেষ নেই।

এলাকাবাসী তাদের মরণফাঁদ এই দুর্ভোগ লাগবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে সেতু তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। বহুদিন ধরে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। ফলে গ্রামের মানুষের সেতুবন্ধন অধরাই রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ব্রীজটি নির্মাণের। ব্রীজটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা।

লামাগ্রামের যুবক বুরহান উদ্দিন ও মাওলানা আশরাফুল হাসান জানান, সরকারের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় নিজেরাই বাঁশ সংগ্রহ করে চলাচলের উপযোগী করেছি। ঠিকমত সংস্কার না হওয়ায় বাঁশের উপর দিয়ে এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। অতি প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয়। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, ব্রীজটি দেবে গিয়ে অর্ধেক ভেঙে যাওয়ার কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। তাছাড়া কোম্পানীগঞ্জের অন্যতম পর্যটন স্পট তুরুং ছড়া যেতে হয় এই ব্রীজের উপর দিয়ে। আমি মনে করি এই ব্রীজটি নির্মিত হলে এই এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে এবং আগন্তুক পর্যটকেরা সহজে তুরুং ছড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম দৈনিক মানবকন্ঠকে বলেন, এই ব্রীজ ও জনদুর্ভোগ বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

 

মানবকণ্ঠ/পিবি


poisha bazar